শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

কেন্দুয়ার পাইকুড়ায় হাওর জুড়ে আগাম জাতের শিম চাষ, পরিচর্যায় ব্যস্ত শিম চাষিরা

রুকন উদ্দিন, কেন্দুয়া (নেত্রকোণা) প্রতিনিধি:

নেত্রকোণার কেন্দুয়া উপজেলার পাইকুড়া ইউনিয়নের পাইকুড়া গ্রামের সামনের হাওরে গিয়ে দেখলেই যেন চোখ জুড়িয়ে যায়। পুরো এলাকা জুড়ে প্রায় ১৫ একর জায়গায় শীতকালীন সবজি আগাম জাতের শিমের চাষ করেছেন স্থানীয় কৃষকরা। এছাড়াও শসা, বেগুন, টমেটো, ঝিঙা, ডাটা সহ আরও অন্যান্য ফসল আরও প্রায় কয়েক একর জায়গা জুড়ে বিস্তৃত।

বুধবার (৫ নভেম্বর) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পুরো হাওর জুড়ে শীতকালীন আগাম জাতের শিমের সারি সারি ক্ষেত। ইতিমধ্যে প্রতিটি গাছে শিম আসতে শুরু করেছে। নভেম্বরের শেষ নাগাদ হয়তো কৃষকরা বাজারে তুলতে পারবেন। এছাড়াও আরও অন্যান্য শাক-সবজির সারি সারি ক্ষেতে ভরপুর।

শিম চাষি মো. আব্দুল কাইয়ূম, আজিজুল ইসলাম, খোকন মিয়া, বিল্লাল মিয়া ও সবুজ মিয়া মানবকণ্ঠের প্রতিবেদককে বলেন, আমরা সহ আমাদের এলাকার প্রায় ৫০ জন কৃষক আগাম জাতের শিম চাষ করেছেন। যদিও গত বছর আরও বেশি ছিল। চলতি বছরের ভাদ্রমাসে বীজ রোপণ করা হয়, সার ও বালাইনাশক কীটনাশক প্রয়োগ করে শিমের চারাগাছের পরিচর্যা করে বাঁশ, জি আই তার ও সুতা দিয়ে মাচা তৈরি করে মাচায় শিম গাছের ডগা উঠিয়ে দেয়া হয়েছে। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত প্রতি কাটাতে (১০ শতক) খরচ ৬ থেকে ৭ হাজার টাকা। বাজার দর ভাল হলে প্রতি কাটাতে (১০ শতক) বিক্রি হবে আনুমানিক ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ও বাজার দর ভালো থাকলে ধানের চেয়েও অধিক লাভ। শুরুতে ১’শ থেকে ১’শ ২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করা যায়, তবে পরবর্তীতে দর আস্তে আস্তে কমতে থাকে।

কৃষকেরা আরও বলেন, এই এলাকার শিম সহ অন্যান্য শাক-সবজি স্থানীয় চাহিদা মেটানোর পরও দেশের বড় বড় বিভাগীয় শহরের পাইকারি আরতে পাঠানো হয়। তবে, কৃষি অফিসের সঠিক পরামর্শ পেলে ও তাদের লোকজন যদি মাঝেমধ্যে এসে পরামর্শ দিতেন তাহলে আরও ভালো হতো।

কেন্দুয়া উপজেলা কৃষি অফিসার মো. হুমায়ুন দিলদার বলেন, কেন্দুয়া উপজেলার পাইকুড়া ইউনিয়নের পাইকুড়া এলাকায় আগাম জাতের শিম চাষ করছেন কৃষকগণ এটা অত্যন্ত লাভজনক ফসল। ওই এলাকায় আমাদের কৃষি অফিসের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাগণ খোঁজখবর রাখছেন, তারপরও উপজেলা কৃষি অফিসে শিম চাষি সহ অন্যান্য চাষিগণ যোগাযোগ রাখার জন্য অনুরোধ জানান। শুধু পাইকুড়া নয় উপজেলার অন্যান্য এলাকার চাষিদেরও একই পরামর্শ দেন হুমায়ুন দিলদার।

জনপ্রিয়

আলোচনায় থেকেও পরাজিত হলেন যে সব প্রার্থীরা

কেন্দুয়ার পাইকুড়ায় হাওর জুড়ে আগাম জাতের শিম চাষ, পরিচর্যায় ব্যস্ত শিম চাষিরা

প্রকাশের সময় : ০৪:০১:২৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ নভেম্বর ২০২৫

রুকন উদ্দিন, কেন্দুয়া (নেত্রকোণা) প্রতিনিধি:

নেত্রকোণার কেন্দুয়া উপজেলার পাইকুড়া ইউনিয়নের পাইকুড়া গ্রামের সামনের হাওরে গিয়ে দেখলেই যেন চোখ জুড়িয়ে যায়। পুরো এলাকা জুড়ে প্রায় ১৫ একর জায়গায় শীতকালীন সবজি আগাম জাতের শিমের চাষ করেছেন স্থানীয় কৃষকরা। এছাড়াও শসা, বেগুন, টমেটো, ঝিঙা, ডাটা সহ আরও অন্যান্য ফসল আরও প্রায় কয়েক একর জায়গা জুড়ে বিস্তৃত।

বুধবার (৫ নভেম্বর) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পুরো হাওর জুড়ে শীতকালীন আগাম জাতের শিমের সারি সারি ক্ষেত। ইতিমধ্যে প্রতিটি গাছে শিম আসতে শুরু করেছে। নভেম্বরের শেষ নাগাদ হয়তো কৃষকরা বাজারে তুলতে পারবেন। এছাড়াও আরও অন্যান্য শাক-সবজির সারি সারি ক্ষেতে ভরপুর।

শিম চাষি মো. আব্দুল কাইয়ূম, আজিজুল ইসলাম, খোকন মিয়া, বিল্লাল মিয়া ও সবুজ মিয়া মানবকণ্ঠের প্রতিবেদককে বলেন, আমরা সহ আমাদের এলাকার প্রায় ৫০ জন কৃষক আগাম জাতের শিম চাষ করেছেন। যদিও গত বছর আরও বেশি ছিল। চলতি বছরের ভাদ্রমাসে বীজ রোপণ করা হয়, সার ও বালাইনাশক কীটনাশক প্রয়োগ করে শিমের চারাগাছের পরিচর্যা করে বাঁশ, জি আই তার ও সুতা দিয়ে মাচা তৈরি করে মাচায় শিম গাছের ডগা উঠিয়ে দেয়া হয়েছে। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত প্রতি কাটাতে (১০ শতক) খরচ ৬ থেকে ৭ হাজার টাকা। বাজার দর ভাল হলে প্রতি কাটাতে (১০ শতক) বিক্রি হবে আনুমানিক ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ও বাজার দর ভালো থাকলে ধানের চেয়েও অধিক লাভ। শুরুতে ১’শ থেকে ১’শ ২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করা যায়, তবে পরবর্তীতে দর আস্তে আস্তে কমতে থাকে।

কৃষকেরা আরও বলেন, এই এলাকার শিম সহ অন্যান্য শাক-সবজি স্থানীয় চাহিদা মেটানোর পরও দেশের বড় বড় বিভাগীয় শহরের পাইকারি আরতে পাঠানো হয়। তবে, কৃষি অফিসের সঠিক পরামর্শ পেলে ও তাদের লোকজন যদি মাঝেমধ্যে এসে পরামর্শ দিতেন তাহলে আরও ভালো হতো।

কেন্দুয়া উপজেলা কৃষি অফিসার মো. হুমায়ুন দিলদার বলেন, কেন্দুয়া উপজেলার পাইকুড়া ইউনিয়নের পাইকুড়া এলাকায় আগাম জাতের শিম চাষ করছেন কৃষকগণ এটা অত্যন্ত লাভজনক ফসল। ওই এলাকায় আমাদের কৃষি অফিসের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাগণ খোঁজখবর রাখছেন, তারপরও উপজেলা কৃষি অফিসে শিম চাষি সহ অন্যান্য চাষিগণ যোগাযোগ রাখার জন্য অনুরোধ জানান। শুধু পাইকুড়া নয় উপজেলার অন্যান্য এলাকার চাষিদেরও একই পরামর্শ দেন হুমায়ুন দিলদার।