
এ বছর জি-২০ শীর্ষ সম্মেলনে কোনও মার্কিন সরকারি কর্মকর্তা যোগ দেবেন না বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার (৭ নভেম্বর) দক্ষিণ আফ্রিকায় শ্বেতাঙ্গ কৃষকদের প্রতি দেশটির নিপীড়নমূলক আচরণের কথা উল্লেখ করে এ বছর জি-২০ শীর্ষ সম্মেলনে কোনও মার্কিন সরকারি কর্মকর্তা যোগ দেবেন না বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট এর আগেও ঘোষণা করেছিলেন যে, তিনি বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় এবং উদীয়মান অর্থনীতির রাষ্ট্রপ্রধানদের বার্ষিক শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেবেন না। সেক্ষেত্রে, ট্রাম্পের পরিবর্তে জেডি ভ্যান্সের যোগদানের কথা ছিল। কিন্তু ভ্যান্সের পরিকল্পনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একজন ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ভ্যান্স এই শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নেবেন না।
ট্রাম্প তার সোশ্যাল মিডিয়া সাইটে লিখেন, “এটা সম্পূর্ণ লজ্জাজনক যে G20 দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত হবে ।”
যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে অভিযোগ করে আসছে যে, তারা শ্বেতাঙ্গ আফ্রিকান কৃষকদের উপর নির্যাতন এবং আক্রমণের অনুমতি দিচ্ছে। যার মধ্যে রয়েছে সহিংসতা, মৃত্যু এবং তাদের জমি ও খামার বাজেয়াপ্ত করা।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র দেশটিতে দক্ষিণ আফ্রিকার বার্ষিক শরণার্থীর সংখ্যা ৭,৫০০-এ সীমাবদ্ধ রাখার সিদ্ধান্তের কথা জানায়। পরে প্রশাসন ইঙ্গিত দেয় যে, তাদের বেশিরভাগই শ্বেতাঙ্গ দক্ষিণ আফ্রিকান হবে, যাদের দাবি তারা দেশে বৈষম্য এবং সহিংসতার শিকার হয়েছেন।
কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকার সরকার বলেছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের বৈষম্যের অভিযোগে তারা অবাক, কারণ শ্বেতাঙ্গ সংখ্যালঘু শাসনের বর্ণবাদ ব্যবস্থার অবসানের তিন দশকেরও বেশি সময় পর এসে দেশটির শ্বেতাঙ্গদের জীবনযাত্রার মান সাধারণত কৃষ্ণাঙ্গ বাসিন্দাদের তুলনায় অনেক বেশি।
দেশটির রাষ্ট্রপতি সিরিল রামাফোসা জানান, তিনি ট্রাম্পকে বলেছেন যে, আফ্রিকানদের প্রতি কথিত বৈষম্য এবং নিপীড়নের তথ্য “সম্পূর্ণ মিথ্যা”।
যদিও ট্রাম্প দক্ষিণ আফ্রিকার সরকারের সমালোচনা অব্যাহত রেখেছে। এই সপ্তাহের শুরুতে মিয়ামিতে এক অর্থনৈতিক ভাষণে ট্রাম্প মন্তব্য করেন যে, দক্ষিণ আফ্রিকাকে জি-২০ গ্রুপ থেকে বাদ দেওয়া উচিত।
প্রসঙ্গত, এ বছরের শুরুতে, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, G20-এর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের একটি বৈঠক বয়কট করেছিলেন কারণ এর এজেন্ডা বৈচিত্র্য, অন্তর্ভুক্তি এবং জলবায়ু পরিবর্তন প্রচেষ্টার উপর কেন্দ্রীভূত ছিল।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক 




































