মঙ্গলবার, ০৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২০ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ব্যবসায়ীকে হত্যা করে ২৬ টুকরো, অতঃপর…

ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর হাইকোর্ট প্রাঙ্গণে অবস্থিত জাতীয় ঈদগাহের পাশে ড্রামের ভেতর থেকে রংপুরের ব্যবসায়ী আশরাফুল হকের খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনার মূল আসামি জরেজুল ইসলাম ও তার প্রেমিকাকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। শুক্রবার (১৪ নভেম্বর) রাতে ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, কুমিল্লার দাউদকান্দি থেকে আজ জরেজুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করেছে ডিবি। পরকীয়ার জেরে আশরাফুল হককে হত্যার পর মরদেহ কেটে ২৬ টুকরো করা হয়।

এদিকে র‌্যাব-৩ এক বার্তায় জানিয়েছে, আশরাফুল হককে হত্যা করে লাশ খণ্ড-বিখণ্ড করার মামলায় প্রধান আসামি জরেজুল ইসলাম ও তার প্রেমিকা শামীমাকে ‘বিভিন্ন আলামতসহ’ গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এর আগে, বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) সন্ধ্যায় ঢাকার হাইকোর্ট এলাকায় নীল রঙের ড্রামের ভেতরে আশরাফুল হকের ২৬ টুকরা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে ৭টার দিকে সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট ঘটনাস্থলে এসে সিআইডির টিম মরদেহের ফিঙ্গারপ্রিন্ট নিয়ে পরিচয় শনাক্ত করে।

আশরাফুল হকের (৪২) গ্রামের বাড়ি রংপুরের বদরগঞ্জের গোপালপাড়ায়। তার বাবার নাম মো. আব্দুর রশিদ ও মায়ের নাম মোছা. এছরা খাতুন।

ডিএমপির রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মাসুদ আলম জানান, মঙ্গলবার বাড়ি থেকে আশরাফুল ঢাকায় আসেন। বুধবার রাত ৯টা পর্যন্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তার কথা হয়। এরপর আর যোগাযোগ হয়নি। ভারত ও মিয়ানমার থেকে পেঁয়াজ ও আলু আমদানি করতেন তিনি। পণ্য আমদানির জন্য তার সরকারি লাইসেন্স রয়েছে।

আশরাফুল হকের শ্যালক আব্দুল মজিদ গণমাধ্যমকে জানান, আশরাফুল তার বাবাকে রংপুরে একটি হাসপাতালে রেখে গত মঙ্গলবার মালয়েশিয়া ফেরত বন্ধু জরেজের সঙ্গে ঢাকায় যান। বুধবার বিকাল ৫টায় আশরাফুল তার স্ত্রী লাকী বেগমের সঙ্গে শেষ কথা বলেন। এরপর আর যোগাযোগ হয়নি।

ভয়াবহ এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আশরাফুলের বন্ধু জরেজকে আসামি করে শাহবাগ থানায় মামলা করে ব্যবসায়ী আশরাফুলের বোন আনজিনা বেগম। মামলায় অজ্ঞাত আরও বেশ কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।

জনপ্রিয়

ইচ্ছামতো চাঁদাবাজি চলছে রাজস্থলীর বাঙ্গালহালিয়ায় সূর্য মেলায়

ব্যবসায়ীকে হত্যা করে ২৬ টুকরো, অতঃপর…

প্রকাশের সময় : ০৮:২৬:০৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ নভেম্বর ২০২৫

রাজধানীর হাইকোর্ট প্রাঙ্গণে অবস্থিত জাতীয় ঈদগাহের পাশে ড্রামের ভেতর থেকে রংপুরের ব্যবসায়ী আশরাফুল হকের খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনার মূল আসামি জরেজুল ইসলাম ও তার প্রেমিকাকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। শুক্রবার (১৪ নভেম্বর) রাতে ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, কুমিল্লার দাউদকান্দি থেকে আজ জরেজুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করেছে ডিবি। পরকীয়ার জেরে আশরাফুল হককে হত্যার পর মরদেহ কেটে ২৬ টুকরো করা হয়।

এদিকে র‌্যাব-৩ এক বার্তায় জানিয়েছে, আশরাফুল হককে হত্যা করে লাশ খণ্ড-বিখণ্ড করার মামলায় প্রধান আসামি জরেজুল ইসলাম ও তার প্রেমিকা শামীমাকে ‘বিভিন্ন আলামতসহ’ গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এর আগে, বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) সন্ধ্যায় ঢাকার হাইকোর্ট এলাকায় নীল রঙের ড্রামের ভেতরে আশরাফুল হকের ২৬ টুকরা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে ৭টার দিকে সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট ঘটনাস্থলে এসে সিআইডির টিম মরদেহের ফিঙ্গারপ্রিন্ট নিয়ে পরিচয় শনাক্ত করে।

আশরাফুল হকের (৪২) গ্রামের বাড়ি রংপুরের বদরগঞ্জের গোপালপাড়ায়। তার বাবার নাম মো. আব্দুর রশিদ ও মায়ের নাম মোছা. এছরা খাতুন।

ডিএমপির রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মাসুদ আলম জানান, মঙ্গলবার বাড়ি থেকে আশরাফুল ঢাকায় আসেন। বুধবার রাত ৯টা পর্যন্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তার কথা হয়। এরপর আর যোগাযোগ হয়নি। ভারত ও মিয়ানমার থেকে পেঁয়াজ ও আলু আমদানি করতেন তিনি। পণ্য আমদানির জন্য তার সরকারি লাইসেন্স রয়েছে।

আশরাফুল হকের শ্যালক আব্দুল মজিদ গণমাধ্যমকে জানান, আশরাফুল তার বাবাকে রংপুরে একটি হাসপাতালে রেখে গত মঙ্গলবার মালয়েশিয়া ফেরত বন্ধু জরেজের সঙ্গে ঢাকায় যান। বুধবার বিকাল ৫টায় আশরাফুল তার স্ত্রী লাকী বেগমের সঙ্গে শেষ কথা বলেন। এরপর আর যোগাযোগ হয়নি।

ভয়াবহ এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আশরাফুলের বন্ধু জরেজকে আসামি করে শাহবাগ থানায় মামলা করে ব্যবসায়ী আশরাফুলের বোন আনজিনা বেগম। মামলায় অজ্ঞাত আরও বেশ কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।