বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

জেন-জি বিক্ষোভে উত্তাল মেক্সিকো

ছবি: সংগৃহীত

মাদক কার্টেলদের লাগামহীন সহিংসতা এবং এই অপরাধ দমনে সরকারের ব্যর্থতা—এই দুইয়ে মিলে এখন অস্থির মেক্সিকো। শুক্রবার (১৪ নভেম্বর) দেশটির রাজধানী মেক্সিকো সিটিতে প্রেসিডেন্ট ক্লাউডিয়া শেইনবাউমের সরকারের বিরুদ্ধে হাজার হাজার বিক্ষোভকারী, বিশেষত জেন-জি’র নেতৃত্বে পদযাত্রা করেন। এসময় বিক্ষুব্ধ জনতার সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে কমপক্ষে ১২০ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ১০০ জনই পুলিশ কর্মকর্তা।  ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি নিউজ রোববার (১৬ নভেম্বর) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিক্ষোভের প্রধান কারণ ছিল সম্প্রতি মেয়র কার্লোস মানজোর হত্যাকাণ্ড। মানজো তার শহরে মাদক পাচারকারী গ্যাং এবং কার্টেল সহিংসতা সম্পর্কে খোলাখুলিভাবে কথা বলার জন্য সুপরিচিত ছিলেন এবং দেশের সশস্ত্র কার্টেল সদস্যদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। মানজো ১ নভেম্বর ডে অব দ্য ডেড উৎসবে অংশগ্রহণকালে গুলিবিদ্ধ হন। বিক্ষোভকারীরা আমরা সবাই কার্লোস মানজো লেখা ব্যানার নিয়ে স্লোগান দেন এবং প্রয়াত মেয়রকে সম্মান জানাতে অনেকেই কাউবয় হ্যাট পরেছিলেন।

মেক্সিকো সিটির নিরাপত্তা প্রধান পাবলো ভাজকুয়েজ সাংবাদিকদের বলেন, প্রদর্শনকারীরা জাতীয় প্রাসাদের (যেখানে প্রেসিডেন্ট শেইনবাউম বাস করেন) সামনে বিক্ষোভ শুরু করেন। বিক্ষোভকারীরা প্রায় কয়েক ঘণ্টা ধরে চলা এই সমাবেশ শান্তিপূর্ণভাবে এগিয়ে যাচ্ছিল। তবে একদল ব্যক্তি সহিংসতা শুরু করলে প্রাসাদ রক্ষাকারী পুলিশ ক্ষুব্ধ জনতার ওপর টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে।

তিনি আরও জানান, বিক্ষোভে প্রায় ১০০ জন পুলিশ কর্মকর্তা আহত হয়েছেন। যাদের মধ্যে ৪০ জনকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়ার প্রয়োজন হয়েছে এবং ২০ জন বিক্ষোভকারীও আহত হয়েছেন। এমনকি একটি সংবাদপত্রের সাংবাদিকের ওপরও হামলার খবর পাওয়া গেছে। এসময় ডাকাতি এবং হামলার মতো অপরাধের অভিযোগে কর্তৃপক্ষ ২০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।

এদিকে প্রেসিডেন্ট শেইনবাউম দাবি করেছেন, অন্যান্য শহরেও যে পদযাত্রা হয়েছে, তা তার সরকারের বিরোধী ডানপন্থী রাজনীতিবিদদের অর্থায়নে অনুষ্ঠিত হয়েছে। তিনি বলেন, যদি তরুণদের দাবি থাকে, আমরা মত প্রকাশ এবং বিক্ষোভের স্বাধীনতাকে সমর্থন করি, কিন্তু এই বিক্ষোভকে কে প্রচার করছে, মানুষকে তা জানা উচিত।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের অক্টোবরে দায়িত্ব নেন শেইনবাউম। তিনি ক্ষমতায় আসার প্রথম বছরে ৭০ শতাংশের ওপরে জনপ্রিয়তা বজায় রাখতে সক্ষম হন। কিন্তু বেশ কয়েকটি হাই-প্রোফাইল হত্যাকাণ্ডের কারণে তার নিরাপত্তা নীতি সমালোচনার সম্মুখীন হয়েছে।

জনপ্রিয়

পেশাদারিত্বের বিষয়ে সাংবাদিকদের আপসহীন হতে হবে: তথ্য উপদেষ্টা

জেন-জি বিক্ষোভে উত্তাল মেক্সিকো

প্রকাশের সময় : ১২:৪১:২১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ নভেম্বর ২০২৫

মাদক কার্টেলদের লাগামহীন সহিংসতা এবং এই অপরাধ দমনে সরকারের ব্যর্থতা—এই দুইয়ে মিলে এখন অস্থির মেক্সিকো। শুক্রবার (১৪ নভেম্বর) দেশটির রাজধানী মেক্সিকো সিটিতে প্রেসিডেন্ট ক্লাউডিয়া শেইনবাউমের সরকারের বিরুদ্ধে হাজার হাজার বিক্ষোভকারী, বিশেষত জেন-জি’র নেতৃত্বে পদযাত্রা করেন। এসময় বিক্ষুব্ধ জনতার সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে কমপক্ষে ১২০ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ১০০ জনই পুলিশ কর্মকর্তা।  ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি নিউজ রোববার (১৬ নভেম্বর) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিক্ষোভের প্রধান কারণ ছিল সম্প্রতি মেয়র কার্লোস মানজোর হত্যাকাণ্ড। মানজো তার শহরে মাদক পাচারকারী গ্যাং এবং কার্টেল সহিংসতা সম্পর্কে খোলাখুলিভাবে কথা বলার জন্য সুপরিচিত ছিলেন এবং দেশের সশস্ত্র কার্টেল সদস্যদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। মানজো ১ নভেম্বর ডে অব দ্য ডেড উৎসবে অংশগ্রহণকালে গুলিবিদ্ধ হন। বিক্ষোভকারীরা আমরা সবাই কার্লোস মানজো লেখা ব্যানার নিয়ে স্লোগান দেন এবং প্রয়াত মেয়রকে সম্মান জানাতে অনেকেই কাউবয় হ্যাট পরেছিলেন।

মেক্সিকো সিটির নিরাপত্তা প্রধান পাবলো ভাজকুয়েজ সাংবাদিকদের বলেন, প্রদর্শনকারীরা জাতীয় প্রাসাদের (যেখানে প্রেসিডেন্ট শেইনবাউম বাস করেন) সামনে বিক্ষোভ শুরু করেন। বিক্ষোভকারীরা প্রায় কয়েক ঘণ্টা ধরে চলা এই সমাবেশ শান্তিপূর্ণভাবে এগিয়ে যাচ্ছিল। তবে একদল ব্যক্তি সহিংসতা শুরু করলে প্রাসাদ রক্ষাকারী পুলিশ ক্ষুব্ধ জনতার ওপর টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে।

তিনি আরও জানান, বিক্ষোভে প্রায় ১০০ জন পুলিশ কর্মকর্তা আহত হয়েছেন। যাদের মধ্যে ৪০ জনকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়ার প্রয়োজন হয়েছে এবং ২০ জন বিক্ষোভকারীও আহত হয়েছেন। এমনকি একটি সংবাদপত্রের সাংবাদিকের ওপরও হামলার খবর পাওয়া গেছে। এসময় ডাকাতি এবং হামলার মতো অপরাধের অভিযোগে কর্তৃপক্ষ ২০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।

এদিকে প্রেসিডেন্ট শেইনবাউম দাবি করেছেন, অন্যান্য শহরেও যে পদযাত্রা হয়েছে, তা তার সরকারের বিরোধী ডানপন্থী রাজনীতিবিদদের অর্থায়নে অনুষ্ঠিত হয়েছে। তিনি বলেন, যদি তরুণদের দাবি থাকে, আমরা মত প্রকাশ এবং বিক্ষোভের স্বাধীনতাকে সমর্থন করি, কিন্তু এই বিক্ষোভকে কে প্রচার করছে, মানুষকে তা জানা উচিত।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের অক্টোবরে দায়িত্ব নেন শেইনবাউম। তিনি ক্ষমতায় আসার প্রথম বছরে ৭০ শতাংশের ওপরে জনপ্রিয়তা বজায় রাখতে সক্ষম হন। কিন্তু বেশ কয়েকটি হাই-প্রোফাইল হত্যাকাণ্ডের কারণে তার নিরাপত্তা নীতি সমালোচনার সম্মুখীন হয়েছে।