সোমবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ইবাদতের সুবর্ণকাল শীতকাল

  • ধর্ম ডেস্ক
  • প্রকাশের সময় : ১২:২৬:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২৫
  • ১৮

ছবি: সংগৃহীত

শীতকাল ইবাদতের এক সুবর্ণ মৌসুম। এই সময়ে একজন ঈমানদার ইবাদতের মাধ্যমে নিজেকে মহান আল্লাহর প্রিয় বান্দার কাতারে নিয়ে যেতে পারে। পারে নিজের পঙ্কিলতাময় জীবনকে ধুয়েমুছে তাঁর নুরের আলোয় আলোকিত করতে।

একজন ঈমানদার এ মৌসুমকে কীভাবে কাজে লাগাতে পারে? কীভাবে এ মৌসুমের সুফল ভোগ করতে পারে? এই মৌসুমে কীভাবে একজন মুমিন নিজেকে পরিশুদ্ধ করে নিতে পারে? এই বিষয়ে কিছু করণীয় ও বর্জনীয় দিকনির্দেশনা আজকে আমরা তুলে ধরবো ইনশাল্লাহ।

 একজন মুমিন যিনি এক আল্লাহতে বিশ্বাসী, যিনি নিজ জীবনের প্রতিটি পরতে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আদর্শ মেনে চলার ইচ্ছে পোষণ করেন এবং মনে প্রাণে বিশ্বাস করেন ইহকালীন জীবনই আসল জীবন নয় বরং পরকালীন জীবন, যেই জীবনের সূচনা আছে কিন্তু সমাপন নেই সেটিই আসল জীবন। কোনো মানুষ যখন বিশ্বাসের এই স্তরে পৌঁছে যায় তখন সে তাঁর প্রতিটা কাজের মাধ্যমেই তাঁর প্রতিপালকের সন্তুষ্টি খোঁজে।
 
এই যে শীতকাল আসে, গ্রীষ্মকাল আসে। আমাদের জীবনে অনেক ভালো সময় আসে, খারাপ সময় আসে এরকম প্রতিটা জিনিসেই একজন ঈমানদার তাঁর রবকে খুঁজবে, তাঁর রবের কথা স্মরণ করবে।
 
শীতের তীব্রতা সম্পর্কে প্রিয় নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, 
 

اشْتَكَتِ النَّارُ إلى رَبِّهَا، فَقالَتْ: يا رَبِّ أَكَلَ بَعْضِي بَعْضًا

 

জাহান্নাম আল্লাহর কাছে অভিযোগ করে বলে; আল্লাহ আমার এক অংশ আরেক অংশকে গ্রাস করে ফেলে। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৩২৬০)
 
জাহান্নাম যখন আল্লাহর কাছে এক অংশ অন্য অংশকে গ্রাস করার অভিযোগ করেছে যে, আমি কী করবো?

فأذِنَ لَهَا بنَفَسَيْنِ، نَفَسٍ في الشِّتَاءِ، وَنَفَسٍ في الصَّيْفِ

 

তখন আল্লাহ তায়ালা তাকে দুটি শ্বাস ফেলানোর সুযোগ দিয়েছেন। একটা নিশ্বাস গরমে আরেকটা নিশ্বাস শীতে। এই দুটি নিশ্বাস ছাড়ার সুযোগ আল্লাহ তায়ালা তাকে দিয়েছেন।
 
জাহান্নামের দুটি বিভাগ আছে: একটি হলো : নার, আরেকটি হলো যামহারির। এই দুইটার সম্পর্কেই আল্লাহ রাব্বুল আলামিন কোরআনে বলেছেন। নার হচ্ছে আগুন আর যামহারীর বলা হয় ঠান্ডাকে। মহান রবের নাফরমান বান্দাদের শাস্তির দুইটা ধরন হবে। কাউকে নার দিয়ে শাস্তি দেয়া হবে। আবার কাউকে যামহারির দিয়ে শাস্তি দেয়া হবে। আবার কাউকে উভয়টা দিয়েই শাস্তি দেয়া হবে।
 
জাহান্নাম ঠান্ডা যে শ্বাস ফেলে, সেটা আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আমাদের মাঝে বিভিন্ন এলাকায় বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন সময়ে শীত হিসেবে বণ্টন করে থাকেন। এই শীত মুমিনের জন্য একটা বার্তা বহন করে সেটি হলো জাহান্নামের বার্তা।
 
শীতকাল একজন মুমিনকে জাহান্নামের কথা স্মরণ করিয়ে দেয় আর মুমিন বান্দা সেই বার্তা গ্রহণ করে নিজেকে জাহান্নাম থেকে বাঁচানোর জন্য নিজেকে শুধরে নেয়, আমলের পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়, আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করে।
 
শীতের এই কষ্টে আমরা বিশেষভাবে কিছু ইবাদাত করার সুযোগ পাই যেটা গ্রীষ্মকালে হয়ে উঠে না। এ জন্য নবী কারীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই শীতকালকে الغنيمة الباردة অর্থাৎ শীতল সুবর্ণ সুযোগ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। সময়টা শীতল কিন্তু এই শীতল সময়টাতে ইবাদাতের যে সুবর্ণ সুযোগ আসে তা আর অন্য কোনো সময়ে আসে না।
 
সেটা এভাবে যে, শীতকালের দিন গ্রীষ্মকালের তুলনায় অনেক ছোট হয়। তাই কেউ যদি নফল রোজা রাখতে চায়, তাহলে তার জন্য এর চাইতে উত্তম সময় আর হতে পারেনা।

আবার যে ব্যক্তি তাহাজ্জুদের নামাজ আদায় করতে চায় তার জন্যও শীতকাল একটা ভালো সময়। কেননা এই সময়ে রাত দীর্ঘ হয়। ফলে ঘুমের ঘাটতি এই শীতের রাতে থাকে না। ফলে শীতকালের এই রাতে চোখ ভরে ঘুমিয়েও তাহাজ্জুদের নামাজ অনায়াসে আদায় করা সম্ভব। কিন্তু আমরা এই মৌসুমে এসেও এই আমলগুলো করতে পারি না। কারণ শয়তান আমাদেরকে এসব আমল করতে দেয় না। রাতের এই দীর্ঘ সময়টাকে আমরা তাহাজ্জুদের জন্য গণিমত মনে করিনা বরং এই সময়টাকে অবহেলায় আর আলস্যে কাটিয়ে দেই।
 
তাই শয়তানের এই ছক থেকে বাঁচতে হলে, আমাদেরকে তার এই কর্মপন্থাকে ভঙ্গুর করে দিতে হলে, আমাদের প্রয়োজন হিম্মতের, সৎ সাহসের, দৃঢ় প্রত্যয়ের। তাই আমরা নিজেরা আমল করবো। আমাদের সন্তানদেরকে আমলে অভ্যস্ত করে তুলবো। –সময় সংবাদ
জনপ্রিয়

চৌগাছার ইজিবাইক–প্রাইভেটকার মুখোমুখি সংঘর্ষ, শিক্ষার্থীসহ আহত ৭

ইবাদতের সুবর্ণকাল শীতকাল

প্রকাশের সময় : ১২:২৬:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২৫

শীতকাল ইবাদতের এক সুবর্ণ মৌসুম। এই সময়ে একজন ঈমানদার ইবাদতের মাধ্যমে নিজেকে মহান আল্লাহর প্রিয় বান্দার কাতারে নিয়ে যেতে পারে। পারে নিজের পঙ্কিলতাময় জীবনকে ধুয়েমুছে তাঁর নুরের আলোয় আলোকিত করতে।

একজন ঈমানদার এ মৌসুমকে কীভাবে কাজে লাগাতে পারে? কীভাবে এ মৌসুমের সুফল ভোগ করতে পারে? এই মৌসুমে কীভাবে একজন মুমিন নিজেকে পরিশুদ্ধ করে নিতে পারে? এই বিষয়ে কিছু করণীয় ও বর্জনীয় দিকনির্দেশনা আজকে আমরা তুলে ধরবো ইনশাল্লাহ।

 একজন মুমিন যিনি এক আল্লাহতে বিশ্বাসী, যিনি নিজ জীবনের প্রতিটি পরতে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আদর্শ মেনে চলার ইচ্ছে পোষণ করেন এবং মনে প্রাণে বিশ্বাস করেন ইহকালীন জীবনই আসল জীবন নয় বরং পরকালীন জীবন, যেই জীবনের সূচনা আছে কিন্তু সমাপন নেই সেটিই আসল জীবন। কোনো মানুষ যখন বিশ্বাসের এই স্তরে পৌঁছে যায় তখন সে তাঁর প্রতিটা কাজের মাধ্যমেই তাঁর প্রতিপালকের সন্তুষ্টি খোঁজে।
 
এই যে শীতকাল আসে, গ্রীষ্মকাল আসে। আমাদের জীবনে অনেক ভালো সময় আসে, খারাপ সময় আসে এরকম প্রতিটা জিনিসেই একজন ঈমানদার তাঁর রবকে খুঁজবে, তাঁর রবের কথা স্মরণ করবে।
 
শীতের তীব্রতা সম্পর্কে প্রিয় নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, 
 

اشْتَكَتِ النَّارُ إلى رَبِّهَا، فَقالَتْ: يا رَبِّ أَكَلَ بَعْضِي بَعْضًا

 

জাহান্নাম আল্লাহর কাছে অভিযোগ করে বলে; আল্লাহ আমার এক অংশ আরেক অংশকে গ্রাস করে ফেলে। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৩২৬০)
 
জাহান্নাম যখন আল্লাহর কাছে এক অংশ অন্য অংশকে গ্রাস করার অভিযোগ করেছে যে, আমি কী করবো?

فأذِنَ لَهَا بنَفَسَيْنِ، نَفَسٍ في الشِّتَاءِ، وَنَفَسٍ في الصَّيْفِ

 

তখন আল্লাহ তায়ালা তাকে দুটি শ্বাস ফেলানোর সুযোগ দিয়েছেন। একটা নিশ্বাস গরমে আরেকটা নিশ্বাস শীতে। এই দুটি নিশ্বাস ছাড়ার সুযোগ আল্লাহ তায়ালা তাকে দিয়েছেন।
 
জাহান্নামের দুটি বিভাগ আছে: একটি হলো : নার, আরেকটি হলো যামহারির। এই দুইটার সম্পর্কেই আল্লাহ রাব্বুল আলামিন কোরআনে বলেছেন। নার হচ্ছে আগুন আর যামহারীর বলা হয় ঠান্ডাকে। মহান রবের নাফরমান বান্দাদের শাস্তির দুইটা ধরন হবে। কাউকে নার দিয়ে শাস্তি দেয়া হবে। আবার কাউকে যামহারির দিয়ে শাস্তি দেয়া হবে। আবার কাউকে উভয়টা দিয়েই শাস্তি দেয়া হবে।
 
জাহান্নাম ঠান্ডা যে শ্বাস ফেলে, সেটা আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আমাদের মাঝে বিভিন্ন এলাকায় বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন সময়ে শীত হিসেবে বণ্টন করে থাকেন। এই শীত মুমিনের জন্য একটা বার্তা বহন করে সেটি হলো জাহান্নামের বার্তা।
 
শীতকাল একজন মুমিনকে জাহান্নামের কথা স্মরণ করিয়ে দেয় আর মুমিন বান্দা সেই বার্তা গ্রহণ করে নিজেকে জাহান্নাম থেকে বাঁচানোর জন্য নিজেকে শুধরে নেয়, আমলের পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়, আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করে।
 
শীতের এই কষ্টে আমরা বিশেষভাবে কিছু ইবাদাত করার সুযোগ পাই যেটা গ্রীষ্মকালে হয়ে উঠে না। এ জন্য নবী কারীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই শীতকালকে الغنيمة الباردة অর্থাৎ শীতল সুবর্ণ সুযোগ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। সময়টা শীতল কিন্তু এই শীতল সময়টাতে ইবাদাতের যে সুবর্ণ সুযোগ আসে তা আর অন্য কোনো সময়ে আসে না।
 
সেটা এভাবে যে, শীতকালের দিন গ্রীষ্মকালের তুলনায় অনেক ছোট হয়। তাই কেউ যদি নফল রোজা রাখতে চায়, তাহলে তার জন্য এর চাইতে উত্তম সময় আর হতে পারেনা।

আবার যে ব্যক্তি তাহাজ্জুদের নামাজ আদায় করতে চায় তার জন্যও শীতকাল একটা ভালো সময়। কেননা এই সময়ে রাত দীর্ঘ হয়। ফলে ঘুমের ঘাটতি এই শীতের রাতে থাকে না। ফলে শীতকালের এই রাতে চোখ ভরে ঘুমিয়েও তাহাজ্জুদের নামাজ অনায়াসে আদায় করা সম্ভব। কিন্তু আমরা এই মৌসুমে এসেও এই আমলগুলো করতে পারি না। কারণ শয়তান আমাদেরকে এসব আমল করতে দেয় না। রাতের এই দীর্ঘ সময়টাকে আমরা তাহাজ্জুদের জন্য গণিমত মনে করিনা বরং এই সময়টাকে অবহেলায় আর আলস্যে কাটিয়ে দেই।
 
তাই শয়তানের এই ছক থেকে বাঁচতে হলে, আমাদেরকে তার এই কর্মপন্থাকে ভঙ্গুর করে দিতে হলে, আমাদের প্রয়োজন হিম্মতের, সৎ সাহসের, দৃঢ় প্রত্যয়ের। তাই আমরা নিজেরা আমল করবো। আমাদের সন্তানদেরকে আমলে অভ্যস্ত করে তুলবো। –সময় সংবাদ