সোমবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মঙ্গলেও বজ্রপাতের আভাস, বিজ্ঞানীরা যা বললেন

ছবি-সংগৃহীত

পৃথিবী থেকে কোটি কোটি মাইল দূরে, লাল ধূলির একাকী প্রান্তর। বছরের পর বছর ধরে বিজ্ঞানীরা সেখানে খুঁজে চলেছেন প্রাণের স্পন্দন। কিন্তু এবার জীবন নয়, বরং মঙ্গলের বায়ুমণ্ডল থেকে বেরিয়ে এলো এক অভাবনীয় তথ্য। রোভারের মাইক্রোফোনে ধরা পড়ল সেই রহস্যময় শব্দ, যা বিজ্ঞানীরা বলছেন—মঙ্গল গ্রহের আকাশে হতে পারে বৈদ্যুতিক কার্যকলাপ বা বজ্রপাত! এই আবিষ্কারের পর, বায়ুমণ্ডলে বৈদ্যুতিক ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া বিদ্যমান এমন গ্রহের তালিকায় পৃথিবী, শনি ও বৃহস্পতির পাশে যোগ হলো মঙ্গলের নাম। খবর বিবিসির।

২০২১ সালে মঙ্গলে অবতরণ করা নাসার পারসিভিয়ারেন্স রোভারকে মূলত সে গ্রহে জীবনের সম্ভাব্য চিহ্ন খোঁজার উদ্দেশ্যেই পাঠানো হয়েছিল। রোভারটি জেজেরো ক্রেটার অঞ্চলে অনুসন্ধান চালানোর সময় তার সুপারক্যাম যন্ত্রের অডিও ও ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক রেকর্ডিং থেকে ‘মিনি লাইটনিং’ নামে পরিচিত ক্ষুদ্র বৈদ্যুতিক নির্গমন শনাক্ত করা হয়েছে। ফ্রান্সের গবেষকদের একটি দল নাসার রোভার দ্বারা সংগৃহীত ২৮ ঘণ্টার মাইক্রোফোন রেকর্ডিং বিশ্লেষণ করে দেখেছেন, এই বৈদ্যুতিক নির্গমন সাধারণত ধূলিঝড় বা ডাস্ট ডেভিল-এর সঙ্গে সম্পর্কিত। ডাস্ট ডেভিল হলো ছোট ঘূর্ণিঝড় যা মাটির গরম বাতাস উপরে উঠলে তৈরি হয় এবং এদের অভ্যন্তরীণ ঘূর্ণনের কারণে বৈদ্যুতিক চার্জ তৈরি হতে পারে।

গবেষণার প্রধান লেখক ড. ব্যাপতিস্ত শিদে সংবাদ সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, এই বৈদ্যুতিক নির্গমন একটি বড় আবিষ্কার। যা মার্সের বায়ুমণ্ডলীয় রসায়ন, জলবায়ু, বাসযোগ্যতা এবং ভবিষ্যতের রোবোটিক ও মানব অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে।

বৈজ্ঞানিক জার্নাল নেচার-এ পদার্থবিজ্ঞানী ড. ড্যানিয়েল প্রিচার্ড লিখেছেন, এই রেকর্ডিংগুলোর মাধ্যমে ধূলিকণা-প্রণোদিত বৈদ্যুতিক নির্গমনের জোরালো প্রমাণ পাওয়া গেছে। তবে একটি সংশয় থেকেই যাচ্ছে, যেহেতু নির্গমনগুলো কেবল শোনা গেছে, দেখা যায়নি—ফলে এটি সত্যিই মঙ্গলীয় বজ্রপাত ছিল কিনা, তা নিশ্চিতভাবে বলা কঠিন।

বিজ্ঞানীরা আশা করছেন, ভবিষ্যতে মঙ্গল গ্রহে আরও উন্নত বায়ুমণ্ডলীয় নির্গমন পরিমাপক যন্ত্র এবং উচ্চ সংবেদনশীল ক্যামেরা প্রেরণ করা হবে, যাতে এসব তথ্য আরও নিশ্চিতভাবে যাচাই ও প্রমাণ করা যায়। এই রহস্যের সমাধান হলে মঙ্গল গ্রহের পরিবেশ এবং ভবিষ্যতে সেখানে মানুষের পদার্পণের সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে ভাবা যেতে পারে।

জনপ্রিয়

চৌগাছার ইজিবাইক–প্রাইভেটকার মুখোমুখি সংঘর্ষ, শিক্ষার্থীসহ আহত ৭

মঙ্গলেও বজ্রপাতের আভাস, বিজ্ঞানীরা যা বললেন

প্রকাশের সময় : ০৮:০০:৫৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৫

পৃথিবী থেকে কোটি কোটি মাইল দূরে, লাল ধূলির একাকী প্রান্তর। বছরের পর বছর ধরে বিজ্ঞানীরা সেখানে খুঁজে চলেছেন প্রাণের স্পন্দন। কিন্তু এবার জীবন নয়, বরং মঙ্গলের বায়ুমণ্ডল থেকে বেরিয়ে এলো এক অভাবনীয় তথ্য। রোভারের মাইক্রোফোনে ধরা পড়ল সেই রহস্যময় শব্দ, যা বিজ্ঞানীরা বলছেন—মঙ্গল গ্রহের আকাশে হতে পারে বৈদ্যুতিক কার্যকলাপ বা বজ্রপাত! এই আবিষ্কারের পর, বায়ুমণ্ডলে বৈদ্যুতিক ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া বিদ্যমান এমন গ্রহের তালিকায় পৃথিবী, শনি ও বৃহস্পতির পাশে যোগ হলো মঙ্গলের নাম। খবর বিবিসির।

২০২১ সালে মঙ্গলে অবতরণ করা নাসার পারসিভিয়ারেন্স রোভারকে মূলত সে গ্রহে জীবনের সম্ভাব্য চিহ্ন খোঁজার উদ্দেশ্যেই পাঠানো হয়েছিল। রোভারটি জেজেরো ক্রেটার অঞ্চলে অনুসন্ধান চালানোর সময় তার সুপারক্যাম যন্ত্রের অডিও ও ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক রেকর্ডিং থেকে ‘মিনি লাইটনিং’ নামে পরিচিত ক্ষুদ্র বৈদ্যুতিক নির্গমন শনাক্ত করা হয়েছে। ফ্রান্সের গবেষকদের একটি দল নাসার রোভার দ্বারা সংগৃহীত ২৮ ঘণ্টার মাইক্রোফোন রেকর্ডিং বিশ্লেষণ করে দেখেছেন, এই বৈদ্যুতিক নির্গমন সাধারণত ধূলিঝড় বা ডাস্ট ডেভিল-এর সঙ্গে সম্পর্কিত। ডাস্ট ডেভিল হলো ছোট ঘূর্ণিঝড় যা মাটির গরম বাতাস উপরে উঠলে তৈরি হয় এবং এদের অভ্যন্তরীণ ঘূর্ণনের কারণে বৈদ্যুতিক চার্জ তৈরি হতে পারে।

গবেষণার প্রধান লেখক ড. ব্যাপতিস্ত শিদে সংবাদ সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, এই বৈদ্যুতিক নির্গমন একটি বড় আবিষ্কার। যা মার্সের বায়ুমণ্ডলীয় রসায়ন, জলবায়ু, বাসযোগ্যতা এবং ভবিষ্যতের রোবোটিক ও মানব অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে।

বৈজ্ঞানিক জার্নাল নেচার-এ পদার্থবিজ্ঞানী ড. ড্যানিয়েল প্রিচার্ড লিখেছেন, এই রেকর্ডিংগুলোর মাধ্যমে ধূলিকণা-প্রণোদিত বৈদ্যুতিক নির্গমনের জোরালো প্রমাণ পাওয়া গেছে। তবে একটি সংশয় থেকেই যাচ্ছে, যেহেতু নির্গমনগুলো কেবল শোনা গেছে, দেখা যায়নি—ফলে এটি সত্যিই মঙ্গলীয় বজ্রপাত ছিল কিনা, তা নিশ্চিতভাবে বলা কঠিন।

বিজ্ঞানীরা আশা করছেন, ভবিষ্যতে মঙ্গল গ্রহে আরও উন্নত বায়ুমণ্ডলীয় নির্গমন পরিমাপক যন্ত্র এবং উচ্চ সংবেদনশীল ক্যামেরা প্রেরণ করা হবে, যাতে এসব তথ্য আরও নিশ্চিতভাবে যাচাই ও প্রমাণ করা যায়। এই রহস্যের সমাধান হলে মঙ্গল গ্রহের পরিবেশ এবং ভবিষ্যতে সেখানে মানুষের পদার্পণের সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে ভাবা যেতে পারে।