সোমবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

খালেদা জিয়ার বিদেশ নেওয়ার মত শারীরিক অবস্থা নেই: ফখরুল

ছবি-সংগৃহীত

রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বর্তমান শারীরিক অবস্থা বিদেশে নিয়ে যাওয়ার মত নয় বলে জানিয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

ঢাকার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসনের শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ–উৎকণ্ঠার মধ্যে আজ শনিবার বিকেলে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, ‘বর্তমানে বিদেশে নেওয়ার মতো শারীরিক অবস্থায় তিনি নেই। শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল হলে চিন্তা করে দেখা হবে, বিদেশে নেওয়া সম্ভব কি না?’

৮০ বছর বয়সী খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে হৃদ্‌রোগ, ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিস, লিভার সিরোসিস, কিডনির জটিলতাসহ নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন। গত রোববার শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে দ্রুত তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়।

তিনি এখন হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) রয়েছেন। মেডিকেল বোর্ডের দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর চিকিৎসা চলছে। গতকাল রাতে তার অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ার কথা জানিয়েছিলেন বিএনপি নেতারা।

সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল বলেন, দেশের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, আমেরিকার জনস হপকিনস হাসপাতালের চিকিৎসক এবং লন্ডন ক্লিনিকের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে মেডিকেল বোর্ড গঠন করে খালেদা জিয়ার চিকিৎসা চলছে। গতকাল রাতে প্রায় আড়াই ঘণ্টা বৈঠক করে মেডিকেল বোর্ড জানায় যে খালেদা জিয়াকে চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেওয়া প্রয়োজন।

শারীরিক সামর্থ্যের কারণে বিদেশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত এখনো চূড়ান্ত না হলেও প্রস্তুতির কথা জানান তিনি। ফখরুল বলেন, তবে বিদেশে নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ভিসা, যেসব দেশে নেওয়া হতে পারে, তাদের সঙ্গে যোগাযোগ, এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। কাজ এগিয়ে রাখা হয়েছে। যেন প্রয়োজন হলেই দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হয়।

এভারকেয়ার হাসপাতালের সামনে বিএনপির নেতা–কর্মীদের ভিড় না করার অনুরোধও জানান দলটির মহাসচিব।

বিজয় দিবস উপলক্ষে বিএনপির উদ্‌যাপন কমিটি সংবাদ সম্মেলনে দলীয় নেত্রীর শারীরিক অবস্থা এবং বিদেশে চিকিৎসার বিষয়ে কথা বলেন বিএনপি মহাসচিব। সেখানে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে না ফেরার কারণ নিয়েও সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দেন তিনি।

তারেক রহমানের ফেসবুক পোস্ট নিয়ে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে আমার উত্তর দেওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। কারণ, উনি নিজে একটা ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন।’ সাংবাদিকেরা এ নিয়ে আবার প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, ‘এটার ব্যাখ্যা তো আমি দিতে পারব না। কারণ, উনি দলের অ্যাক্টিং চেয়ারম্যান, আমার নেতা, দলের প্রধান। তিনি পোস্ট দিয়েছেন, এটার ব্যাখ্যাটা আমি দিতে পারব না এই মুহূর্তে।’

‘উনি যে পোস্টটা দিয়েছেন, এটাকে আপনারা ধরে নেন যে পোস্ট তার ভাষ্য। এটার আর তো কোনো ব্যাখ্যা প্রয়োজন নেই,’ বলেন মির্জা ফখরুল। মায়ের অসুস্থতার মধ্যে তারেক রহমান আজ এক ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, তার দেশে ফেরার বিষয়টির নিয়ন্ত্রণ তার একার ওপর নেই।

জনপ্রিয়

চৌগাছার ইজিবাইক–প্রাইভেটকার মুখোমুখি সংঘর্ষ, শিক্ষার্থীসহ আহত ৭

খালেদা জিয়ার বিদেশ নেওয়ার মত শারীরিক অবস্থা নেই: ফখরুল

প্রকাশের সময় : ০৮:১৪:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৫

রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বর্তমান শারীরিক অবস্থা বিদেশে নিয়ে যাওয়ার মত নয় বলে জানিয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

ঢাকার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসনের শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ–উৎকণ্ঠার মধ্যে আজ শনিবার বিকেলে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, ‘বর্তমানে বিদেশে নেওয়ার মতো শারীরিক অবস্থায় তিনি নেই। শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল হলে চিন্তা করে দেখা হবে, বিদেশে নেওয়া সম্ভব কি না?’

৮০ বছর বয়সী খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে হৃদ্‌রোগ, ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিস, লিভার সিরোসিস, কিডনির জটিলতাসহ নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন। গত রোববার শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে দ্রুত তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়।

তিনি এখন হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) রয়েছেন। মেডিকেল বোর্ডের দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর চিকিৎসা চলছে। গতকাল রাতে তার অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ার কথা জানিয়েছিলেন বিএনপি নেতারা।

সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল বলেন, দেশের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, আমেরিকার জনস হপকিনস হাসপাতালের চিকিৎসক এবং লন্ডন ক্লিনিকের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে মেডিকেল বোর্ড গঠন করে খালেদা জিয়ার চিকিৎসা চলছে। গতকাল রাতে প্রায় আড়াই ঘণ্টা বৈঠক করে মেডিকেল বোর্ড জানায় যে খালেদা জিয়াকে চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেওয়া প্রয়োজন।

শারীরিক সামর্থ্যের কারণে বিদেশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত এখনো চূড়ান্ত না হলেও প্রস্তুতির কথা জানান তিনি। ফখরুল বলেন, তবে বিদেশে নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ভিসা, যেসব দেশে নেওয়া হতে পারে, তাদের সঙ্গে যোগাযোগ, এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। কাজ এগিয়ে রাখা হয়েছে। যেন প্রয়োজন হলেই দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হয়।

এভারকেয়ার হাসপাতালের সামনে বিএনপির নেতা–কর্মীদের ভিড় না করার অনুরোধও জানান দলটির মহাসচিব।

বিজয় দিবস উপলক্ষে বিএনপির উদ্‌যাপন কমিটি সংবাদ সম্মেলনে দলীয় নেত্রীর শারীরিক অবস্থা এবং বিদেশে চিকিৎসার বিষয়ে কথা বলেন বিএনপি মহাসচিব। সেখানে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে না ফেরার কারণ নিয়েও সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দেন তিনি।

তারেক রহমানের ফেসবুক পোস্ট নিয়ে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে আমার উত্তর দেওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। কারণ, উনি নিজে একটা ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন।’ সাংবাদিকেরা এ নিয়ে আবার প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, ‘এটার ব্যাখ্যা তো আমি দিতে পারব না। কারণ, উনি দলের অ্যাক্টিং চেয়ারম্যান, আমার নেতা, দলের প্রধান। তিনি পোস্ট দিয়েছেন, এটার ব্যাখ্যাটা আমি দিতে পারব না এই মুহূর্তে।’

‘উনি যে পোস্টটা দিয়েছেন, এটাকে আপনারা ধরে নেন যে পোস্ট তার ভাষ্য। এটার আর তো কোনো ব্যাখ্যা প্রয়োজন নেই,’ বলেন মির্জা ফখরুল। মায়ের অসুস্থতার মধ্যে তারেক রহমান আজ এক ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, তার দেশে ফেরার বিষয়টির নিয়ন্ত্রণ তার একার ওপর নেই।