
দোয়া হলো মুমিনের আত্মার নিঃশ্বাস, বিশ্বাসের প্রমাণ এবং নিরাশার অন্ধকারে আশার আলোকবর্তিকা। আল্লাহ তার বান্দাকে যে অসংখ্য নেয়ামত দান করেছেন, তার মধ্যে দোয়া এমন এক অনন্য দান,যার মাধ্যমে বান্দা সরাসরি তার রবের সাথে যোগাযোগ করতে পারে।
মানুষের শক্তি সীমাবদ্ধ, কিন্তু দোয়ার শক্তি অসীম, কারণ দোয়া সরাসরি আল্লাহর দরবারে পৌঁছে যায়। তাই দোয়া মুমিনের জীবনের সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয়, বিজয়ের প্রধান অস্ত্র ও শক্তির কেন্দ্রবিন্দু।
দোয়ার গুরুত্ব
আল্লাহ তাআলা বলেন,
وَقَالَ رَبُّكُمُ ادْعُونِي أَسْتَجِبْ لَكُمْ তোমরা আমাকে ডাকো, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব। (সুরা গাফির: ৬০) এ আয়াত দ্বারা প্রমানিত,আল্লাহ শুধু দোয়া করতে আদেশই করেননি, বরং তিনি নিশ্চয়তা দিয়েছেন যে বান্দা যখন আন্তরিক মনে তার দিকে হাত বাড়াবে, তখন তিনি নিজ অনুগ্রহে সেই দোয়াকে গ্রহণ কবুল করবেন। অর্থাৎ দোয়া মুমিনের জন্য এমন এক হাতিয়ার, যার ও পাশে আল্লাহর দয়া, করুণা প্রস্তুত।
দোয়ার কবুলে স্বীকৃতি
আল্লাহ আরও বলেন, وَإِذَا سَأَلَكَ عِبَادِي عَنِّي فَإِنِّي قَرِيبٌ ۖ أُجِيبُ دَعْوَةَ الدَّاعِ যখন আমার বান্দারা আমার ব্যাপারে জিজ্ঞেস করে, আমি তো নিকটবর্তী। দোয়া করলে আমি তার প্রার্থনায় সাড়া দিই। (সুরা বাকারা:১৮৬)
এ আয়াত মুমিনকে অশেষ আশা ও দৃঢ়তা দেয়, দোয়া কখনো বিফল যায় না, হয়তো এই দুনিয়ায়, না হয় আখেরাতে,তবে এর প্রতিদান নিশ্চিত।
দোয়ার মাহাত্ম্য
রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাই ওয়া সাল্লাম দোয়ার সম্পর্কে বলেন,
১. দোয়া ইবাদতের মূল
الدُّعَاءُ هُوَ الْعِبَادَةُ দোয়া ইবাদতই। (সনিানুত তিরমিজি:২৯৬৯) ইবাদত মানেই দোয়া,অর্থাৎ দোয়া ছাড়া মুমিনের কোনো প্রকৃত ইবাদত পূর্ণ হয় না।
২. দোয়া মুমিনের অস্ত্র
রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাই ওয়া সাল্লাম বলেন,
الدُّعَاءُ سِلَاحُ الْمُؤْمِنِ দোয়া মুমিনের অস্ত্র। (হাকিম, আল মুস্তাদরাক:১৯১৬) অস্ত্র যেমন শত্রুর আঘাত প্রতিহত করে, তেমনি দোয়া শয়তানের ধোঁকা, দুঃখ-কষ্ট, বিপদাপদ এবং জীবনের কঠিন পরীক্ষাগুলো থেকে রক্ষা করে।
৩. তাকদির পরিবর্তনের ক্ষমতা রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাই ওয়া সাল্লাম বলেন
لَا يَرُدُّ الْقَدَرَ إِلَّا الدُّعَاءُ দোয়া ছাড়া কিছুই তাকদির পরিবর্তন করতে পারে না। (তিরমিজি:২১৩৯) এটি দোয়ার সবচেয়ে বড় শক্তির প্রমাণ,যা ভাগ্যপরিবর্তনের ক্ষমতাও রাখে।
কেন দোয়া মুমিনের সবচেয়ে বড় শক্তি?
১. দোয়া আল্লাহর সাথে সরাসরি যোগাযোগ মানুষ যতই দুর্বল হোক, দোয়ার মাধ্যমে সে সর্বশক্তিমান আল্লাহর সাহায্য লাভ করে। ২. দোয়া হতাশাকে আশা দেয়, যার হাতে দোয়ার অস্ত্র আছে, সে কখনো একা নয়। তার সামনে সকল দরজা বন্ধ হলেও আল্লাহর দরজা খোলা থাকে।
৩. দোয়ার ফল অবশ্যম্ভাবী
রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাই ওয়া সাল্লাম বলেন,
مَا مِنْ مُسْلِمٍ يَدْعُو اللَّهَ… إِلَّا أَعْطَاهُ اللَّهُ إحْدَى ثَلَاثٍ আল্লাহ বান্দার দোয়াকে তিনভাবে কবুল করেন,তাৎক্ষণিকভাবে দেন, বিপদ দূর করে দেন, অথবা আখেরাতের জন্য সঞ্চয় করেন। (মুসনাদ আহমদ: ১১১৩১)
দোয়া কেন শান্তভাবে করতে হবে?
কারণ দোয়া হলো, ১. দুর্বলতা থেকে শক্তির পথে যাত্রা ২. হতাশা থেকে সফলতার চাবিকাঠি ৩. বিপদে নিরাপত্তার আশ্রয় ৪.পরকালীন মুক্তির উপায় মানুষ যখন মানুষকে ডাকে,সে বিরক্ত হয়; কিন্তু যখন মানুষ আল্লাহকে ডাকে,আল্লাহ খুশি হন।
দোয়া এমন এক অদৃশ্য শক্তি যা পাহাড় সরাতে পারে, ভাগ্য বদলে দিতে পারে এবং মৃত হৃদয়কে জীবন্ত করতে পারে। তাই দোয়ার হাতিয়ার যার হাতে, সে কোনোদিনই পরাজিত নয়। দোয়া শুধু প্রয়োজনের সময়ের আবেদন নয়,বরং প্রতিটি শ্বাসে, প্রতিটি ধাপে, প্রতিটি কাজে মুমিনের জীবনের পাথেয়। অতএব, দোয়া করো কারণ দোয়াই মুমিনের সবচেয়ে শক্তিশালী হাতিয়ার। —সময় সংবাদ
ধর্ম ডেস্ক 



















