সোমবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

রাজবাড়ীতে নদী খনন কাজে ‘জবরদখল ও হাইজ্যাকের’ অভিযোগ

ছবি-সংগৃহীত

রাজবাড়ী প্রতিনিধি
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড, রাজবাড়ী বিভাগের আওতাধীন উন্মুক্ত দরপত্রে বৈধভাবে কাজ পাওয়ার পরও একটি মহল বেআইনিভাবে নদী খনন (ড্রেজিং) কাজ জবরদখল বা ‘হাইজ্যাক’ করেছে, এমন অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় ঠিকাদার মোঃ আবুল হাসেম সুজন।
শনিবার (২৯ নভেম্বর) সন্ধ্যায় পান্না চত্বর পৌর নিউ মার্কেটের দোতলায় তাঁর ব্যবসায়িক কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করে তিনি জানান, মেসার্স রহমান ইঞ্জিনিয়ারিং এর পক্ষে দরপত্র দাখিলকারী হিসেবে বৈধভাবেই তিনি কাজটি পান। কিন্তু কাজ শুরুর আগেই তিনি একটি ফৌজদারি মামলায় গ্রেফতার হয়ে প্রায় ছয় মাস কারাবন্দী ছিলেন। জামিনে মুক্ত হয়ে কাজে ফেরার পর তাঁর পার্টনার মাজাহারুল আলম চঞ্চল পার্টনারশিপ চুক্তি অনুযায়ী কোনো সমাধানে আগ্রহ দেখাননি।
তিনি বলেন, প্রায় ১ মাস ১১ দিন ধরে চঞ্চলের সাথে সামাজিকভাবে আপোষ-মীমাংসার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। পরে গত ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫ রাজবাড়ী সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। এরপরও প্রতিকার না পাওয়ায় তিনি চঞ্চলকে প্রধান আসামি করে আদালতে ফৌজদারি মামলা করেন। আদালত গত ২২ অক্টোবর ২০২৫ মামলাটি গ্রহণ করেন।
সুজন অভিযোগ করে বলেন, তাঁর অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও পানি উন্নয়ন বোর্ড বেআইনিভাবে মেসার্স রহমান ইঞ্জিনিয়ারিং এর পক্ষে চঞ্চলকে দুই দফায় চলতি বিল প্রদান করেছে, যা আইনবিরোধী ও অযৌক্তিক।
তিনি আরও বলেন, মামলা দায়েরের পর ১১ নভেম্বর ২০২৫ চঞ্চল নিজ উদ্যোগে আপোষে যেতে চান এবং আলোচনার স্থান হিসেবে রাজবাড়ী ক্লিনিক নির্ধারণ করেন। সেখানে বিএনপি নেতা ও ব্যবসায়ী মোশারফ হোসেন সুমনের কাছে চঞ্চল তাঁর বিনিয়োগের হিসাব দাখিল করেন।
সুজন দাবি করেন, হিসাব যাচাই করে তিনি প্রায় ২ কোটি টাকার অনৈতিক খরচ শনাক্ত করেন। প্রকৃত বিনিয়োগের অর্থ পরিশোধ করার প্রস্তাব দিলেও চঞ্চল তা প্রত্যাখ্যান করেন এবং পুনরায় বেআইনিভাবে কাজ দখলের চেষ্টা শুরু করেন।
সুজন অভিযোগ করেন, “চঞ্চল এখন কিছু স্বার্থান্বেষী মহল ও দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের সহায়তায় জোরপূর্বক নদী খনন কাজ দখলের চেষ্টা করছে। এমনকি প্রকল্পের উদ্বোধনের নাটক সাজানোর অপচেষ্টাও চলছে।”
তিনি এসব অনিয়ম ও জবরদখলের বিরুদ্ধে প্রতিকার, সুষ্ঠু তদন্ত এবং প্রকল্প পুনরুদ্ধারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন।
প্রকল্পের বিবরণে তিনি জানান, সিএসএডব্লিউএম প্রকল্পের আওতায় এবং ওএম ডিভিশন, বিডব্লিউডিবির বাস্তবায়নে রাজবাড়ী বালিয়াকান্দি উপজেলার গড়াই নদীর চর ড্রেজিং ১১.১৫৯ থেকে ১৩.৬৫০ মোট ২.৫০ কিলোমিটার এবং ফরিদপুর মধুখালি উপজেলার গরিদহ খালের পুনঃখনন ৩.২৫০ কিলোমিটার।
যার টেন্ডার আইডি: ১০১৭০২২
জনপ্রিয়

চৌগাছার ইজিবাইক–প্রাইভেটকার মুখোমুখি সংঘর্ষ, শিক্ষার্থীসহ আহত ৭

রাজবাড়ীতে নদী খনন কাজে ‘জবরদখল ও হাইজ্যাকের’ অভিযোগ

প্রকাশের সময় : ০২:৪৮:৪৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫
রাজবাড়ী প্রতিনিধি
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড, রাজবাড়ী বিভাগের আওতাধীন উন্মুক্ত দরপত্রে বৈধভাবে কাজ পাওয়ার পরও একটি মহল বেআইনিভাবে নদী খনন (ড্রেজিং) কাজ জবরদখল বা ‘হাইজ্যাক’ করেছে, এমন অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় ঠিকাদার মোঃ আবুল হাসেম সুজন।
শনিবার (২৯ নভেম্বর) সন্ধ্যায় পান্না চত্বর পৌর নিউ মার্কেটের দোতলায় তাঁর ব্যবসায়িক কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করে তিনি জানান, মেসার্স রহমান ইঞ্জিনিয়ারিং এর পক্ষে দরপত্র দাখিলকারী হিসেবে বৈধভাবেই তিনি কাজটি পান। কিন্তু কাজ শুরুর আগেই তিনি একটি ফৌজদারি মামলায় গ্রেফতার হয়ে প্রায় ছয় মাস কারাবন্দী ছিলেন। জামিনে মুক্ত হয়ে কাজে ফেরার পর তাঁর পার্টনার মাজাহারুল আলম চঞ্চল পার্টনারশিপ চুক্তি অনুযায়ী কোনো সমাধানে আগ্রহ দেখাননি।
তিনি বলেন, প্রায় ১ মাস ১১ দিন ধরে চঞ্চলের সাথে সামাজিকভাবে আপোষ-মীমাংসার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। পরে গত ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫ রাজবাড়ী সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। এরপরও প্রতিকার না পাওয়ায় তিনি চঞ্চলকে প্রধান আসামি করে আদালতে ফৌজদারি মামলা করেন। আদালত গত ২২ অক্টোবর ২০২৫ মামলাটি গ্রহণ করেন।
সুজন অভিযোগ করে বলেন, তাঁর অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও পানি উন্নয়ন বোর্ড বেআইনিভাবে মেসার্স রহমান ইঞ্জিনিয়ারিং এর পক্ষে চঞ্চলকে দুই দফায় চলতি বিল প্রদান করেছে, যা আইনবিরোধী ও অযৌক্তিক।
তিনি আরও বলেন, মামলা দায়েরের পর ১১ নভেম্বর ২০২৫ চঞ্চল নিজ উদ্যোগে আপোষে যেতে চান এবং আলোচনার স্থান হিসেবে রাজবাড়ী ক্লিনিক নির্ধারণ করেন। সেখানে বিএনপি নেতা ও ব্যবসায়ী মোশারফ হোসেন সুমনের কাছে চঞ্চল তাঁর বিনিয়োগের হিসাব দাখিল করেন।
সুজন দাবি করেন, হিসাব যাচাই করে তিনি প্রায় ২ কোটি টাকার অনৈতিক খরচ শনাক্ত করেন। প্রকৃত বিনিয়োগের অর্থ পরিশোধ করার প্রস্তাব দিলেও চঞ্চল তা প্রত্যাখ্যান করেন এবং পুনরায় বেআইনিভাবে কাজ দখলের চেষ্টা শুরু করেন।
সুজন অভিযোগ করেন, “চঞ্চল এখন কিছু স্বার্থান্বেষী মহল ও দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের সহায়তায় জোরপূর্বক নদী খনন কাজ দখলের চেষ্টা করছে। এমনকি প্রকল্পের উদ্বোধনের নাটক সাজানোর অপচেষ্টাও চলছে।”
তিনি এসব অনিয়ম ও জবরদখলের বিরুদ্ধে প্রতিকার, সুষ্ঠু তদন্ত এবং প্রকল্প পুনরুদ্ধারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন।
প্রকল্পের বিবরণে তিনি জানান, সিএসএডব্লিউএম প্রকল্পের আওতায় এবং ওএম ডিভিশন, বিডব্লিউডিবির বাস্তবায়নে রাজবাড়ী বালিয়াকান্দি উপজেলার গড়াই নদীর চর ড্রেজিং ১১.১৫৯ থেকে ১৩.৬৫০ মোট ২.৫০ কিলোমিটার এবং ফরিদপুর মধুখালি উপজেলার গরিদহ খালের পুনঃখনন ৩.২৫০ কিলোমিটার।
যার টেন্ডার আইডি: ১০১৭০২২