শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬, ১৬ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সিরাজগঞ্জ-৪ আসনে প্রার্থী পরিবর্তনের দাবি, জোটসমীকরণে বাড়ছে উত্তাপ

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি 
সিরাজগঞ্জ-৪ (উল্লাপাড়া) আসনে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রচার, সংগঠনভিত্তিক বিভক্তি এবং প্রার্থী পরিবর্তনের দাবিতে আন্দোলনের কারণে এলাকাজুড়ে তৈরি হয়েছে তীব্র নির্বাচনি উত্তাপ। একসময় টানা তিন দশকেরও বেশি সময় আওয়ামী লীগের নিয়ন্ত্রণে থাকা এ আসনে গত বছরের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর ক্ষমতার ভারসাম্যে নতুন সূচনা দেখা যায়।
দাঁড়িপাল্লা মার্কার প্রার্থী মাঠে তুলনামূলক সক্রিয় অবস্থান তৈরি করেছেন। তিনি নিয়মিত জনসংযোগের মাধ্যমে ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন এবং বিভিন্ন এলাকায় প্রচার চালাচ্ছেন। ক্লিন ইমেজের কারণে সাধারণ ভোটারদের একাংশ তাকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
এ আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন দুইবারের সাবেক সংসদ সদস্য এম আকবর আলী। তবে মনোনয়ন ঘোষণার পর থেকেই দলের একটি অংশ প্রার্থী পরিবর্তনের দাবিতে মশাল মিছিল, মানববন্ধন ও বিক্ষোভসহ বিভিন্ন কর্মসূচি করছে। এর ফলে প্রার্থীর পক্ষে সমন্বিত প্রচারণা বাধাগ্রস্ত হলেও তিনি নিজের অনুসারীদের নিয়ে সীমিত কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।
জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সদস্য মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এ আসনে দলীয় মনোনয়ন পেয়ে নিয়মিত জনসংযোগ, উঠান বৈঠক এবং সামাজিক-সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে ভোটারদের কাছে পরিচিতি বাড়াচ্ছেন। বিভিন্ন স্থানে প্রচারের পাশাপাশি অনলাইনভিত্তিক প্রচারণাও লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
একটি পৌরসভা ও ১৪টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এ আসনটির নির্বাচনি ইতিহাসে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর জয়-পরাজয়ের চিত্র বিভিন্ন সময়ে পরিবর্তিত হয়েছে। ১৯৭৩ সালে আওয়ামী লীগের দবির উদ্দিন আহমেদ, ১৯৮৬ ও ১৯৯৬ সালে আবদুল লতিফ মির্জা, ২০০৮ ও ২০২৪ সালে শফিকুল ইসলাম শফিক এবং ২০১৪ ও ২০১৮ সালে তানভীর ইমাম এ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। বিএনপির এম আকবর আলী ১৯৯১ ও ২০০১ সালে বিজয়ী হন। ১৯৯৬ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী শামছুল আলম এবং ১৯৮৮ সালে জাতীয় পার্টির আবদুল হামিদ তালুকদার নির্বাচিত হয়েছিলেন।
জুলাইয়ের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর বিএনপির ভেতরকার সাংগঠনিক দুর্বলতা এবং গ্রুপিং স্পষ্টভাবে সামনে এসেছে। দলটির একাধিক নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, গ্রুপিং ও অন্যান্য অভিযোগ স্থানীয়ভাবে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে। এতে ঐতিহ্যগত শক্তির পাশাপাশি দলটির অবস্থান কিছুটা দুর্বল হয়েছে বলে জানা গেছে।
নতুন রাজনৈতিক শক্তি জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব দ্যুতি অরণ্য চৌধুরীও এ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আছেন। তবে এখন পর্যন্ত মাঠ পর্যায়ে তার তৎপরতা সীমিত। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মুফতি আবদুর রহমান কাসেমীও নির্বাচন করবেন বলে স্থানীয় সূত্র নিশ্চিত করেছে।
স্থানীয় পর্যবেক্ষণে দেখা যাচ্ছে, এ আসনে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে উঠতে পারে বিএনপির এম আকবর আলী এবং জামায়াতের প্রার্থী রফিকুল ইসলাম খানের মধ্যে। দলীয় বিভক্তি, সাংগঠনিক অস্থিরতা এবং নেতৃত্বসংক্রান্ত সংকটে বিএনপি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়লেও জামায়াতের একক প্রার্থী তুলনামূলক স্থিতিশীল অবস্থানে রয়েছে। তফসিল ঘোষণার পর বিভিন্ন দলের প্রচার আরও তীব্র হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
জনপ্রিয়

শেখ হাসিনা-কামালসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিল

সিরাজগঞ্জ-৪ আসনে প্রার্থী পরিবর্তনের দাবি, জোটসমীকরণে বাড়ছে উত্তাপ

প্রকাশের সময় : ০২:৩৩:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ ডিসেম্বর ২০২৫
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি 
সিরাজগঞ্জ-৪ (উল্লাপাড়া) আসনে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রচার, সংগঠনভিত্তিক বিভক্তি এবং প্রার্থী পরিবর্তনের দাবিতে আন্দোলনের কারণে এলাকাজুড়ে তৈরি হয়েছে তীব্র নির্বাচনি উত্তাপ। একসময় টানা তিন দশকেরও বেশি সময় আওয়ামী লীগের নিয়ন্ত্রণে থাকা এ আসনে গত বছরের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর ক্ষমতার ভারসাম্যে নতুন সূচনা দেখা যায়।
দাঁড়িপাল্লা মার্কার প্রার্থী মাঠে তুলনামূলক সক্রিয় অবস্থান তৈরি করেছেন। তিনি নিয়মিত জনসংযোগের মাধ্যমে ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন এবং বিভিন্ন এলাকায় প্রচার চালাচ্ছেন। ক্লিন ইমেজের কারণে সাধারণ ভোটারদের একাংশ তাকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
এ আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন দুইবারের সাবেক সংসদ সদস্য এম আকবর আলী। তবে মনোনয়ন ঘোষণার পর থেকেই দলের একটি অংশ প্রার্থী পরিবর্তনের দাবিতে মশাল মিছিল, মানববন্ধন ও বিক্ষোভসহ বিভিন্ন কর্মসূচি করছে। এর ফলে প্রার্থীর পক্ষে সমন্বিত প্রচারণা বাধাগ্রস্ত হলেও তিনি নিজের অনুসারীদের নিয়ে সীমিত কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।
জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সদস্য মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এ আসনে দলীয় মনোনয়ন পেয়ে নিয়মিত জনসংযোগ, উঠান বৈঠক এবং সামাজিক-সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে ভোটারদের কাছে পরিচিতি বাড়াচ্ছেন। বিভিন্ন স্থানে প্রচারের পাশাপাশি অনলাইনভিত্তিক প্রচারণাও লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
একটি পৌরসভা ও ১৪টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এ আসনটির নির্বাচনি ইতিহাসে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর জয়-পরাজয়ের চিত্র বিভিন্ন সময়ে পরিবর্তিত হয়েছে। ১৯৭৩ সালে আওয়ামী লীগের দবির উদ্দিন আহমেদ, ১৯৮৬ ও ১৯৯৬ সালে আবদুল লতিফ মির্জা, ২০০৮ ও ২০২৪ সালে শফিকুল ইসলাম শফিক এবং ২০১৪ ও ২০১৮ সালে তানভীর ইমাম এ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। বিএনপির এম আকবর আলী ১৯৯১ ও ২০০১ সালে বিজয়ী হন। ১৯৯৬ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী শামছুল আলম এবং ১৯৮৮ সালে জাতীয় পার্টির আবদুল হামিদ তালুকদার নির্বাচিত হয়েছিলেন।
জুলাইয়ের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর বিএনপির ভেতরকার সাংগঠনিক দুর্বলতা এবং গ্রুপিং স্পষ্টভাবে সামনে এসেছে। দলটির একাধিক নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, গ্রুপিং ও অন্যান্য অভিযোগ স্থানীয়ভাবে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে। এতে ঐতিহ্যগত শক্তির পাশাপাশি দলটির অবস্থান কিছুটা দুর্বল হয়েছে বলে জানা গেছে।
নতুন রাজনৈতিক শক্তি জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব দ্যুতি অরণ্য চৌধুরীও এ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আছেন। তবে এখন পর্যন্ত মাঠ পর্যায়ে তার তৎপরতা সীমিত। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মুফতি আবদুর রহমান কাসেমীও নির্বাচন করবেন বলে স্থানীয় সূত্র নিশ্চিত করেছে।
স্থানীয় পর্যবেক্ষণে দেখা যাচ্ছে, এ আসনে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে উঠতে পারে বিএনপির এম আকবর আলী এবং জামায়াতের প্রার্থী রফিকুল ইসলাম খানের মধ্যে। দলীয় বিভক্তি, সাংগঠনিক অস্থিরতা এবং নেতৃত্বসংক্রান্ত সংকটে বিএনপি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়লেও জামায়াতের একক প্রার্থী তুলনামূলক স্থিতিশীল অবস্থানে রয়েছে। তফসিল ঘোষণার পর বিভিন্ন দলের প্রচার আরও তীব্র হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।