বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬, ১৫ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

শীতে আদা চা কেন খাবেন, জেনে নিন

ছবি-সংগৃহীত

বেশিরভাগ মানুষেরই মোশন সিকনেসের সমস্যা শুরু হয় গরম থেকে শীত পড়ার মুহূর্তে। তাই এ সমস্যার সমাধানে আদা চা খাওয়ার অভ্যাস করতে পারেন। আদা খেলে তা শরীর উষ্ণ রাখতে কাজ করে। আদায় থাকে জিঞ্জেরল নামক কার্যকরী একটি উপাদান যা নানা রকম স্বাস্থ্য সুবিধা দিয়ে থাকে।

সাধারণত মোশন সিকনেসের সমস্যায় ভুগলে বমি ভাব, ঠান্ডা অনুভূতি, শরীর ব্যথা, অলসতা ঘিরে ধরে। আয়ুর্বেদিক শাস্ত্রে উল্লেখ রয়েছে যে, আদা প্রায় সব ধরনের রোগ নিরাময়ে কার্যকরী। নিয়মিত আদা খাওয়ার অভ্যাস শরীরকে নীরোগ রাখার ক্ষমতা রয়েছে।

আদার জিঞ্জেরল আমাদের শরীরকে উষ্ণ করে। এটি বমি বমি ভাব এবং বমি হওয়ার মতো উপসর্গ কমাতে সাহায্য করে। এই পদার্থটি পেশীর ফোলা জয়েন্ট কমাতেও সাহায্য করে।অন্যদিকে শীতের ঠান্ডা আবহাওয়ায় শরীরকে চাঙা করতে চায়ের বিকল্প নেই। দ্রুত অলসতা ভাব কাটিয়ে কাজে মনোযোগী হতেও দারুণ কাজ করে এটি।

শীতে আদা হতে পারে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর অন্যতম উপাদান। তাই শীতের সময় নিয়মিত আদা চা খাওয়ার রয়েছে অনেক উপকারিতা। চলুন জেনে নেয়া যাআক শীতে আদা চা খাওয়ার কিছু উপকারিতা সম্পর্কে:

১। সর্দি-কাশির বিরুদ্ধে লড়াই
ঋতু পরিবর্তনের সময় গরম থেকে শীত আসার মুহূর্তে শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমতে শুরু করে। যে কারণে ঠান্ডা লাগার সাথে সর্দি-কাশি-কফের সমস্যায় ভোগেন অনেক রোগী। তাই নিয়মিত আদা চায়ের অভ্যাস এ সমস্যা থেকে অনেকটাই আপনাকে দূরে রাখতে পারে।

২।ত্বকের সমস্যা সমাধান করে
শীতের রুক্ষ্ম পরিবেশে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে শুরু করে ত্বক। ত্বকের কুচকে যাওয়ার সমস্যা, ফেটে যাওয়া কিংবা চুলকানির সমস্যাদেখা দিলে তার সমাধানে নিয়মিত খেতে পারেন আদা চা।
 
৩। কফ পরিষ্কার করে
পুষ্টিবিদ ড. সিমরান সাইনি বলেন, ‘বুকে বা গলায় আটকে থাকা কফ পরিষ্কার করার জন্য আদা পরিচিত। যে কারণে আমরা এ সংক্রান্ত সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য আদা খাওয়ার পরামর্শ দেই। সেইসঙ্গে এটি আমাদের শরীরও উষ্ণ রাখে।

আদা চায়ের অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি বৈশিষ্ট্য রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে শক্তিশালী করে। যে কারণে ঠাণ্ডা বা ভাইরাসে আক্রান্ত হলেও তা থেকে দ্রুত পুনরুদ্ধার করতে সাহায্য করে আদা চা।

৪। প্রদাহ দূর করে
ড. সিমরান সাইনি বলেন, ‘আদা খেলে তা আমাদের শরীরে প্রদাহের প্রভাব কমাতে কাজ করে। ফলে সংক্রমণের মাত্রা খারাপ হওয়ার আগেই তা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়। এমনকি এটি হজমেও সাহায্য করে। সেইসঙ্গে পেট ফাঁপা, বমি বমি ভাব নিয়ন্ত্রণে কাজ করে আদা।

৫।কোষ্ঠকাঠিন্য রোধ করে 
শীতে ত্বকের রুক্ষ্মতার পাশাপাশি শরীরেও এর প্রভাব পড়ে। ঠান্ডা আবহাওয়ার কারণে পানি খাওয়ার পরিমাণও এ সময় অনকে কমে যায়। যে কারণে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দেখা দেয় অনেকের। আর এ কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যার সমাধানেও কাজ করতে পারে আদা চা।

৬। ব্যাথা কমাতে সাহায্য করে
পেশীর ব্যথা সারাতেও নিয়মিত খেতে পারেন আদা চা।

৭। শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে
শীতে রক্তে শর্করার মাত্রা ও ওজন নিয়ন্ত্রণেও দারুণ কাজ করতে পারে আদা চা। রক্ত জমাট বাধার মতো সমস্যার সমাধান করে। রক্ত সঞ্চালন উন্নত করে।

 ৮। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়
হার্টের স্বাস্থ্য ভালো রাখে। শরীর সুস্থ এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে তুলতেও কার্যকরী আদা চা।

জনপ্রিয়

বার্তাকণ্ঠের সম্পাদক মহসিন মিলনের মায়ের ইন্তেকাল

শীতে আদা চা কেন খাবেন, জেনে নিন

প্রকাশের সময় : ১২:০৪:৩৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৫ ডিসেম্বর ২০২৫

বেশিরভাগ মানুষেরই মোশন সিকনেসের সমস্যা শুরু হয় গরম থেকে শীত পড়ার মুহূর্তে। তাই এ সমস্যার সমাধানে আদা চা খাওয়ার অভ্যাস করতে পারেন। আদা খেলে তা শরীর উষ্ণ রাখতে কাজ করে। আদায় থাকে জিঞ্জেরল নামক কার্যকরী একটি উপাদান যা নানা রকম স্বাস্থ্য সুবিধা দিয়ে থাকে।

সাধারণত মোশন সিকনেসের সমস্যায় ভুগলে বমি ভাব, ঠান্ডা অনুভূতি, শরীর ব্যথা, অলসতা ঘিরে ধরে। আয়ুর্বেদিক শাস্ত্রে উল্লেখ রয়েছে যে, আদা প্রায় সব ধরনের রোগ নিরাময়ে কার্যকরী। নিয়মিত আদা খাওয়ার অভ্যাস শরীরকে নীরোগ রাখার ক্ষমতা রয়েছে।

আদার জিঞ্জেরল আমাদের শরীরকে উষ্ণ করে। এটি বমি বমি ভাব এবং বমি হওয়ার মতো উপসর্গ কমাতে সাহায্য করে। এই পদার্থটি পেশীর ফোলা জয়েন্ট কমাতেও সাহায্য করে।অন্যদিকে শীতের ঠান্ডা আবহাওয়ায় শরীরকে চাঙা করতে চায়ের বিকল্প নেই। দ্রুত অলসতা ভাব কাটিয়ে কাজে মনোযোগী হতেও দারুণ কাজ করে এটি।

শীতে আদা হতে পারে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর অন্যতম উপাদান। তাই শীতের সময় নিয়মিত আদা চা খাওয়ার রয়েছে অনেক উপকারিতা। চলুন জেনে নেয়া যাআক শীতে আদা চা খাওয়ার কিছু উপকারিতা সম্পর্কে:

১। সর্দি-কাশির বিরুদ্ধে লড়াই
ঋতু পরিবর্তনের সময় গরম থেকে শীত আসার মুহূর্তে শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমতে শুরু করে। যে কারণে ঠান্ডা লাগার সাথে সর্দি-কাশি-কফের সমস্যায় ভোগেন অনেক রোগী। তাই নিয়মিত আদা চায়ের অভ্যাস এ সমস্যা থেকে অনেকটাই আপনাকে দূরে রাখতে পারে।

২।ত্বকের সমস্যা সমাধান করে
শীতের রুক্ষ্ম পরিবেশে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে শুরু করে ত্বক। ত্বকের কুচকে যাওয়ার সমস্যা, ফেটে যাওয়া কিংবা চুলকানির সমস্যাদেখা দিলে তার সমাধানে নিয়মিত খেতে পারেন আদা চা।
 
৩। কফ পরিষ্কার করে
পুষ্টিবিদ ড. সিমরান সাইনি বলেন, ‘বুকে বা গলায় আটকে থাকা কফ পরিষ্কার করার জন্য আদা পরিচিত। যে কারণে আমরা এ সংক্রান্ত সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য আদা খাওয়ার পরামর্শ দেই। সেইসঙ্গে এটি আমাদের শরীরও উষ্ণ রাখে।

আদা চায়ের অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি বৈশিষ্ট্য রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে শক্তিশালী করে। যে কারণে ঠাণ্ডা বা ভাইরাসে আক্রান্ত হলেও তা থেকে দ্রুত পুনরুদ্ধার করতে সাহায্য করে আদা চা।

৪। প্রদাহ দূর করে
ড. সিমরান সাইনি বলেন, ‘আদা খেলে তা আমাদের শরীরে প্রদাহের প্রভাব কমাতে কাজ করে। ফলে সংক্রমণের মাত্রা খারাপ হওয়ার আগেই তা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়। এমনকি এটি হজমেও সাহায্য করে। সেইসঙ্গে পেট ফাঁপা, বমি বমি ভাব নিয়ন্ত্রণে কাজ করে আদা।

৫।কোষ্ঠকাঠিন্য রোধ করে 
শীতে ত্বকের রুক্ষ্মতার পাশাপাশি শরীরেও এর প্রভাব পড়ে। ঠান্ডা আবহাওয়ার কারণে পানি খাওয়ার পরিমাণও এ সময় অনকে কমে যায়। যে কারণে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দেখা দেয় অনেকের। আর এ কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যার সমাধানেও কাজ করতে পারে আদা চা।

৬। ব্যাথা কমাতে সাহায্য করে
পেশীর ব্যথা সারাতেও নিয়মিত খেতে পারেন আদা চা।

৭। শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে
শীতে রক্তে শর্করার মাত্রা ও ওজন নিয়ন্ত্রণেও দারুণ কাজ করতে পারে আদা চা। রক্ত জমাট বাধার মতো সমস্যার সমাধান করে। রক্ত সঞ্চালন উন্নত করে।

 ৮। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়
হার্টের স্বাস্থ্য ভালো রাখে। শরীর সুস্থ এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে তুলতেও কার্যকরী আদা চা।