বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

১৪ ডিসেম্বর সিরাজগঞ্জ হানাদারমুক্ত দিবস

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি 
আজ ১৪ ডিসেম্বর সিরাজগঞ্জ হানাদারমুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে পাক হানাদার বাহিনী সিরাজগঞ্জ শহর ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়। এর মধ্য দিয়ে জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা শত্রুমুক্ত হয় এবং শহরে স্বাধীন বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়।
স্থানীয় সূত্র ও মুক্তিযুদ্ধকালীন তথ্য অনুযায়ী, ডিসেম্বরের ১০ তারিখ থেকেই সিরাজগঞ্জে অবস্থানরত পাক বাহিনীর মনোবল দুর্বল হতে থাকে। একই সময়ে তাদের সহযোগী শান্তি কমিটি, রাজাকার ও আলবদর বাহিনীর তৎপরতাও সীমিত হয়ে পড়ে। পরিস্থিতি আরও সংকটময় হয়ে ওঠে ১৩ ডিসেম্বর রাতে, যখন মুক্তিযোদ্ধারা পাক বাহিনীকে তিন দিক থেকে ঘিরে ফেলেন। স্থল ও নৌপথ মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ন্ত্রণে চলে গেলেও রেলপথ তখনও পাক বাহিনীর দখলে ছিল।
এ অবস্থায় মুক্তিযোদ্ধারা সিরাজগঞ্জ রেলওয়ে ঘাট, যমুনা নদীর তীরবর্তী এলাকা, কাজিপুর মোড়সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অবস্থান নেন। পরাজয় নিশ্চিত বুঝে পাক বাহিনী ট্রেনযোগে ঈশ্বরদীর দিকে সরে যায়। রেকি দলের মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর শহরজুড়ে বিজয় উদ্‌যাপন শুরু হয়।
পরে মুক্তিযোদ্ধারা সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজের যুদ্ধবিধ্বস্ত শহীদ মিনারের পাদদেশে সমবেত হন। একই সঙ্গে পাক বাহিনীর পলায়নের ফলে জেলার বেলকুচি, কামারখন্দ, রায়গঞ্জ, চৌহালী, উল্লাপাড়া ও শাহজাদপুর থানাসহ অন্যান্য এলাকাও শত্রুমুক্ত হয়।
১৪ ডিসেম্বর ভোরে মুক্তিযোদ্ধারা সিরাজগঞ্জ পৌর এলাকার ওয়াপদা অফিসে অবস্থিত পাক বাহিনীর প্রধান ক্যাম্প দখলে নেন। একই দিনে কওমী জুটমিল, মহকুমা প্রশাসকের কার্যালয়সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় স্বাধীন বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়।
মুক্তিযুদ্ধকালীন বেসরকারি সাব-সেক্টর কমান্ড পলাশডাঙ্গা যুবশিবিরের সহকারী পরিচালক আব্দুল আজিজ সরকার জানান, সিরাজগঞ্জ মুক্ত হওয়ার ফলে উত্তরাঞ্চলে পাক বাহিনীর অবস্থান আরও দুর্বল হয়ে পড়ে। তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের সহযোগিতা ও মুক্তিযোদ্ধাদের সংগঠিত তৎপরতার মধ্য দিয়েই এই অগ্রগতি সম্ভব হয়।
জনপ্রিয়

গুগলের জেমিনি এআই বেছে নিলো অ্যাপল

১৪ ডিসেম্বর সিরাজগঞ্জ হানাদারমুক্ত দিবস

প্রকাশের সময় : ১০:৩৫:৪৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি 
আজ ১৪ ডিসেম্বর সিরাজগঞ্জ হানাদারমুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে পাক হানাদার বাহিনী সিরাজগঞ্জ শহর ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়। এর মধ্য দিয়ে জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা শত্রুমুক্ত হয় এবং শহরে স্বাধীন বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়।
স্থানীয় সূত্র ও মুক্তিযুদ্ধকালীন তথ্য অনুযায়ী, ডিসেম্বরের ১০ তারিখ থেকেই সিরাজগঞ্জে অবস্থানরত পাক বাহিনীর মনোবল দুর্বল হতে থাকে। একই সময়ে তাদের সহযোগী শান্তি কমিটি, রাজাকার ও আলবদর বাহিনীর তৎপরতাও সীমিত হয়ে পড়ে। পরিস্থিতি আরও সংকটময় হয়ে ওঠে ১৩ ডিসেম্বর রাতে, যখন মুক্তিযোদ্ধারা পাক বাহিনীকে তিন দিক থেকে ঘিরে ফেলেন। স্থল ও নৌপথ মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ন্ত্রণে চলে গেলেও রেলপথ তখনও পাক বাহিনীর দখলে ছিল।
এ অবস্থায় মুক্তিযোদ্ধারা সিরাজগঞ্জ রেলওয়ে ঘাট, যমুনা নদীর তীরবর্তী এলাকা, কাজিপুর মোড়সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অবস্থান নেন। পরাজয় নিশ্চিত বুঝে পাক বাহিনী ট্রেনযোগে ঈশ্বরদীর দিকে সরে যায়। রেকি দলের মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর শহরজুড়ে বিজয় উদ্‌যাপন শুরু হয়।
পরে মুক্তিযোদ্ধারা সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজের যুদ্ধবিধ্বস্ত শহীদ মিনারের পাদদেশে সমবেত হন। একই সঙ্গে পাক বাহিনীর পলায়নের ফলে জেলার বেলকুচি, কামারখন্দ, রায়গঞ্জ, চৌহালী, উল্লাপাড়া ও শাহজাদপুর থানাসহ অন্যান্য এলাকাও শত্রুমুক্ত হয়।
১৪ ডিসেম্বর ভোরে মুক্তিযোদ্ধারা সিরাজগঞ্জ পৌর এলাকার ওয়াপদা অফিসে অবস্থিত পাক বাহিনীর প্রধান ক্যাম্প দখলে নেন। একই দিনে কওমী জুটমিল, মহকুমা প্রশাসকের কার্যালয়সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় স্বাধীন বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়।
মুক্তিযুদ্ধকালীন বেসরকারি সাব-সেক্টর কমান্ড পলাশডাঙ্গা যুবশিবিরের সহকারী পরিচালক আব্দুল আজিজ সরকার জানান, সিরাজগঞ্জ মুক্ত হওয়ার ফলে উত্তরাঞ্চলে পাক বাহিনীর অবস্থান আরও দুর্বল হয়ে পড়ে। তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের সহযোগিতা ও মুক্তিযোদ্ধাদের সংগঠিত তৎপরতার মধ্য দিয়েই এই অগ্রগতি সম্ভব হয়।