
ইসলাম শিশুদের প্রতি অত্যন্ত কোমল ও যত্নশীল আচরণের নির্দেশ দেয়। শিশু যেন ভালোবাসা, নিরাপত্তা ও ন্যায়ের পরিবেশে বড় হতে পারে।
এটাই ইসলামের লক্ষ্য। নবীজীর সা. জীবনে আমরা দেখি তিনি শিশুদের আদর করতেন, তাদের সঙ্গে খেলতেন এবং সমানভাবে গুরুত্ব দিতেন। ইসলামী শিক্ষায় শিশু লালন-পালনের এ আচরণশৈলী সমাজে শান্তি ও সুস্থ প্রজন্ম গঠনে অপরিহার্য।
শিশুদের প্রতি নবীজির কোমলতা
নবীজি সা. কখনো শিশুদের ওপর রাগ দেখাতেন না। কর্কশ ভাষায় কথা বলতেন না। চোখ রাঙাতেন না। তিনি শিশুদের কাছে ডাকতেন, বুকে জড়িয়ে ধরতেন, তাদের সঙ্গে খেলতেন ও কথা বলতেন, সফরে বের হলে রাস্তায় পাওয়া শিশুকে উটে তুলে নিতেন এবং নিজে নামার স্থানে নামিয়ে দিতেন, এতিম শিশুদের মাথায় হাত বুলাতেন, নতুন জামা-কাপড় কিনে দিতেন।হাদিসে এসেছে, আমি এবং এতিমের প্রতিপালনকারী জান্নাতে এভাবে থাকব। তিনি তর্জনী ও মধ্যমার মাঝখানে সামান্য ফাঁক রেখে ইঙ্গিত করলেন। (বুখারি: ৪৯৯৮)
নবীজি সা. কখনো শিশুদের ওপর রাগ দেখাতেন না। কর্কশ ভাষায় কথা বলতেন না। চোখ রাঙাতেন না। তিনি শিশুদের কাছে ডাকতেন, বুকে জড়িয়ে ধরতেন, তাদের সঙ্গে খেলতেন ও কথা বলতেন, সফরে বের হলে রাস্তায় পাওয়া শিশুকে উটে তুলে নিতেন এবং নিজে নামার স্থানে নামিয়ে দিতেন, এতিম শিশুদের মাথায় হাত বুলাতেন, নতুন জামা-কাপড় কিনে দিতেন।হাদিসে এসেছে, আমি এবং এতিমের প্রতিপালনকারী জান্নাতে এভাবে থাকব। তিনি তর্জনী ও মধ্যমার মাঝখানে সামান্য ফাঁক রেখে ইঙ্গিত করলেন। (বুখারি: ৪৯৯৮)
হযরত আনাস (রা.) বলেন, আমি ৯ বছর রাসুল সা. এর খেদমত করেছি। তিনি কখনো বলেননি, এমন কেন করলে? অথবা এমন করোনি কেন? (মুসলিম: ২৩৯০)
শিশুদের প্রতি সহিংসতা ইসলামে নিন্দনীয়
শিশুকে শুধু শিক্ষা দিলেই হবে না; তাকে দিতে হবে মানবিক শিক্ষা, আত্মসম্মান, ভালোবাসা ও নিরাপত্তা। একটি শিশুকে মারধর, অপমান বা অবমাননা করে বড় করলে সে আত্মবিশ্বাসহীন, মানসিকভাবে বিধ্বস্ত মানুষে পরিণত হয়।
শিশুকে শুধু শিক্ষা দিলেই হবে না; তাকে দিতে হবে মানবিক শিক্ষা, আত্মসম্মান, ভালোবাসা ও নিরাপত্তা। একটি শিশুকে মারধর, অপমান বা অবমাননা করে বড় করলে সে আত্মবিশ্বাসহীন, মানসিকভাবে বিধ্বস্ত মানুষে পরিণত হয়।
ইসলামে শিশুহত্যার কঠোর শাস্তির উদাহরণও রয়েছে। এক শিশু হত্যা হলে সেই হত্যাকারীকে শিশুর মতো করেই পাথরাঘাতে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। (মুসলিম: ৪৪৫৪)
নবীজি সা. নামাজে থাকলেও যদি শিশুর কান্না শুনতেন, নামাজ সংক্ষিপ্ত করতেন। এক হাদীসে এসেছে; হজরত আবু কাতাদা (রা.)-এর সূত্রে বর্ণিত। নবী কারিম (সা.) বলেন, আমি অনেক সময় দীর্ঘ করে নামাজ আদায়ের ইচ্ছা নিয়ে দাঁড়াই। পরে শিশুর কান্নাকাটি শুনে নামাজ সংক্ষেপ করি। কারণ শিশুর মাকে কষ্টে ফেলা আমি পছন্দ করি না। ( বুখারি : ৭০৭)
এছাড়া তিনি সাহাবাদের বলতেন, শিশুদের প্রতি এমন আচরণ করো যাতে তাদের মধ্যে আত্মসম্মান জন্মায়। কিন্তু আমরা কী করছি? আমরা শিশুদের আত্মসম্মান ভেঙে দিচ্ছি। একটি শিশু যেভাবে বড় হয়, তার ভেতরে তাই গড়ে ওঠে। শাসন প্রয়োজন হলে করবেন, তবে সহিংসতা কখনোই শাসন নয়।
আল কুরআনে মহান আল্লাহ বলেন, যারা ক্রোধ দমন করে, মানুষের দোষ ক্ষমা করে, আল্লাহ তাদের ভালোবাসেন। (সুরা আল ইমরান: ১৩৪)
এছাড়া তিনি সাহাবাদের বলতেন, শিশুদের প্রতি এমন আচরণ করো যাতে তাদের মধ্যে আত্মসম্মান জন্মায়। কিন্তু আমরা কী করছি? আমরা শিশুদের আত্মসম্মান ভেঙে দিচ্ছি। একটি শিশু যেভাবে বড় হয়, তার ভেতরে তাই গড়ে ওঠে। শাসন প্রয়োজন হলে করবেন, তবে সহিংসতা কখনোই শাসন নয়।
আল কুরআনে মহান আল্লাহ বলেন, যারা ক্রোধ দমন করে, মানুষের দোষ ক্ষমা করে, আল্লাহ তাদের ভালোবাসেন। (সুরা আল ইমরান: ১৩৪)
ইসলাম যে ভালোবাসা, দয়া, সংযম এবং ন্যায়ের মাধ্যমে শিশুদের লালন করার শিক্ষা দিয়েছে, তা কেবল একটি আদেশ নয়; বরং একটি সভ্য সমাজ গড়ার ভিত্তি। তাই আসুন আমরা নিজেদের আচরণে সেই শিক্ষাকে বাস্তবায়ন করি, শিশুদের প্রতি কোমলতা ও সম্মানের পরিবেশ গড়ে তুলি, এবং নবীজীর আদর্শকে সামনে রেখে পরবর্তী প্রজন্মকে মানবিক, নৈতিক ও সুস্থ চরিত্রের মানুষ হিসেবে গড়ে তুলি। মহান আল্লাহ তাআ’লা আমাদের সেই তাওফিক দান করুন; আমিন! –সময় সংবাদ
ধর্ম ডেস্ক 






































