শনিবার, ০৩ জানুয়ারী ২০২৬, ২০ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সিরাজগঞ্জে নবজাতক হত্যার অভিযোগ, লাশ লুকানোর চেষ্টা

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি 
সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলায় নবজাতককে হত্যার পর লাশ লুকানোর অভিযোগ উঠেছে এক নারীর বিরুদ্ধে। মাটিচাপা দেওয়ার প্রস্তুতিকালে ঘটনাটি প্রতিবেশীদের নজরে এলে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পরে অভিযুক্ত নারী ও তার স্বজনরা বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যান।
ঘটনাটি ঘটেছে শাহজাদপুর উপজেলার পোরজনা ইউনিয়নের বাচড়া ভুতের দিয়ার গ্রামে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই গ্রামের দেলোয়ারের কন্যা জান্নাতুল ফেরদৌসের সঙ্গে একই ইউনিয়নের নন্দলালপুর গ্রামের করীম মণ্ডলের প্রায় এক বছর আগে বিয়ে হয়। দাম্পত্য জীবনে বনিবনা না হওয়ায় ছয় মাস পর তাদের বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে এবং জান্নাতুল ফেরদৌস বাবার বাড়িতে ফিরে আসেন।
বিবাহবিচ্ছেদের পর করীম মণ্ডল দ্বিতীয় বিয়ে করেন। পরে গত ২৭ অক্টোবর তিনি মারা যান। এ ঘটনায় তার দ্বিতীয় স্ত্রীর বিরুদ্ধে হত্যা সংক্রান্ত অভিযোগ রয়েছে বলে জানা গেছে।
এদিকে জান্নাতুল ফেরদৌস বিবাহবিচ্ছেদের পর অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি পরিবার গোপন রাখে। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) দিবাগত রাতে তিনি একটি কন্যাসন্তান প্রসব করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রসবের পর নবজাতককে হত্যা করে বাড়ির টয়লেটে রাখা হয়।
পরদিন বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) ভোরে নবজাতকের লাশ মাটিচাপা দেওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ির পেছনে গর্ত খোঁড়া হলে প্রতিবেশীদের সন্দেহ হয়। বিষয়টি দ্রুত এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে অভিযুক্ত নারী ও তার পরিবারের সদস্যরা বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যান।
এ ঘটনায় করীম মণ্ডলের পরিবারের পক্ষ থেকে গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে। তাদের দাবি, নবজাতকটি করীম মণ্ডলের একমাত্র স্মৃতি ছিল।
এ বিষয়ে শাহজাদপুর থানার পুলিশ জানায়, ঘটনাটি সম্পর্কে তারা অবগত হয়েছেন। বিষয়টি যাচাই করে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। পুলিশ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনতে তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে।
জনপ্রিয়

নির্বাচনে জাতীয় পার্টিকে অযোগ্য ঘোষণার দাবি আখতার হোসেনের

সিরাজগঞ্জে নবজাতক হত্যার অভিযোগ, লাশ লুকানোর চেষ্টা

প্রকাশের সময় : ০৬:৫৮:১১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি 
সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলায় নবজাতককে হত্যার পর লাশ লুকানোর অভিযোগ উঠেছে এক নারীর বিরুদ্ধে। মাটিচাপা দেওয়ার প্রস্তুতিকালে ঘটনাটি প্রতিবেশীদের নজরে এলে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পরে অভিযুক্ত নারী ও তার স্বজনরা বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যান।
ঘটনাটি ঘটেছে শাহজাদপুর উপজেলার পোরজনা ইউনিয়নের বাচড়া ভুতের দিয়ার গ্রামে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই গ্রামের দেলোয়ারের কন্যা জান্নাতুল ফেরদৌসের সঙ্গে একই ইউনিয়নের নন্দলালপুর গ্রামের করীম মণ্ডলের প্রায় এক বছর আগে বিয়ে হয়। দাম্পত্য জীবনে বনিবনা না হওয়ায় ছয় মাস পর তাদের বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে এবং জান্নাতুল ফেরদৌস বাবার বাড়িতে ফিরে আসেন।
বিবাহবিচ্ছেদের পর করীম মণ্ডল দ্বিতীয় বিয়ে করেন। পরে গত ২৭ অক্টোবর তিনি মারা যান। এ ঘটনায় তার দ্বিতীয় স্ত্রীর বিরুদ্ধে হত্যা সংক্রান্ত অভিযোগ রয়েছে বলে জানা গেছে।
এদিকে জান্নাতুল ফেরদৌস বিবাহবিচ্ছেদের পর অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি পরিবার গোপন রাখে। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) দিবাগত রাতে তিনি একটি কন্যাসন্তান প্রসব করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রসবের পর নবজাতককে হত্যা করে বাড়ির টয়লেটে রাখা হয়।
পরদিন বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) ভোরে নবজাতকের লাশ মাটিচাপা দেওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ির পেছনে গর্ত খোঁড়া হলে প্রতিবেশীদের সন্দেহ হয়। বিষয়টি দ্রুত এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে অভিযুক্ত নারী ও তার পরিবারের সদস্যরা বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যান।
এ ঘটনায় করীম মণ্ডলের পরিবারের পক্ষ থেকে গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে। তাদের দাবি, নবজাতকটি করীম মণ্ডলের একমাত্র স্মৃতি ছিল।
এ বিষয়ে শাহজাদপুর থানার পুলিশ জানায়, ঘটনাটি সম্পর্কে তারা অবগত হয়েছেন। বিষয়টি যাচাই করে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। পুলিশ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনতে তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে।