শনিবার, ০৩ জানুয়ারী ২০২৬, ১৯ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বছরজুড়ে যা যা করলো ইবি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন

ইবি প্রতিনিধি 

চব্বিশের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক বাস্তবতায় ক্যাম্পাসগুলোতে দেখা দিয়েছে আমূল পরিবর্তন। দীর্ঘদিনের স্বৈরাচারী রাজনীতি থেকে বেরিয়ে এসে ক্যাম্পাসগুলোতে ফিরেছে বহুমাত্রিক রাজনৈতিক তৎপরতা। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ও (ইবি) তার ব্যতিক্রম নয়। ২০২৫ সাল জুড়ে শিক্ষার্থীদের অধিকার রক্ষা, ক্যাম্পাসের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত ও শিক্ষার উন্নয়নসহ নানা কার্যক্রম চালিয়েছে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন ইবি শাখা।

স্বৈরাচারী হাসিনার শাসনের পতনের পর ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্ররাজনীতি নতুন রূপে আবির্ভূত হয়। আগে যেখানে ছাত্রলীগ ছাড়া অন্য সকল ছাত্রসংগঠনের কার্যক্রম প্রায় নিষিদ্ধ ছিল, সেখানে জুলাই বিপ্লবের পর ইবি ক্যাম্পাসে সক্রিয় হয়ে ওঠে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, ছাত্রদল, ছাত্রশিবির, ছাত্র ইউনিয়নসহ বিভিন্ন ঘরানার সংগঠন। ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক সহাবস্থান ফিরিয়ে নিয়ে আসতে ভূমিকা রেখেছে সংগঠনটি।

শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনে বিভিন্ন দাবি বাস্তবায়ন :

২০২৫ সালে ইবি বৈছাআর কার্যক্রমের প্রায় সম্পুর্ণ  অংশজুড়ে ছিল শিক্ষার্থীদের অধিকার ও প্রয়োজন সংক্রান্ত দাবি।কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিতে জব কর্ণারের ব্যবস্থা,আবাসিক হল সমূহে পানির ফিল্টার স্থাপন,শিক্ষার্থীদের জন্য স্মার্ট আইডি কার্ড নিশ্চিতকরণ,ভর্তি-ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের হেল্প ডেস্ক এর মাধ্যমে সহযোগিতা, বাৎসরিক ছুটি কমানো,সেশনজট নিরসন, কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ সড়কে শিক্ষার্থীদের বাস ভাড়া অর্ধেক করা এবং সার্বক্ষণিক বাস সুবিধার প্রত্যয়ে ঘন্টা প্রতি বাস সুবিধা চালু করা।

শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনে বিভিন্ন স্মারকলিপি:

২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষ  থেকে শুধু মাত্র পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠী ছাড়া সকল কোটা বাতিলের সিদ্ধান্ত,
জুলাই অভুত্থানের বিপক্ষে নেতৃত্ব দেওয়া  ব্যাক্তিদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক  ব্যাবস্থা, সেশনজট নিরসনে  অনুষদ ভিত্তিক একাডেমিক ক্যালেন্ডার প্রণয়ন এবং বাস্তবায়ন, বহিরাগত মুক্ত ক্যাম্পাস নিশ্চিত, ক্যাম্পাসে স্টেডিয়াম তৈরি, বিশ্ববিদ্যালয়ের জিমনেসিয়ামে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম, ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে ফায়ার সার্ভিস ও বিভিন্ন ব্যাংকের বুথ স্থাপন করাসহ বিভিন্ন প্রয়োজনে স্মারক লিপি প্রদান।

জাতীয় স্বার্থে বিভিন্ন কর্মসূচি :

”ফেলানী দিবস” উপলক্ষে ভারতীয় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ, “জুলাইয়ের প্রেরণা,দিতে হবে ঘোষণা’ শীর্ষক লিফলেট বিতরণ,
”বাংলাদেশির পরম্পরা : বায়ান্ন থেকে চব্বিশ ”এর আলোকচিত্র প্রদর্শনী, একুশ আমার অস্তিত্ব শীর্ষক আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী, জুলাই চব্বিশের স্মৃতিচারণমূলক আঞ্চলিক ভাষায় অনলাইন ভিডিও  প্রতিযোগিতা, শ্রমজীবী ও ভ্যান চালকদের সাথে ইফতার,সহস্র কন্ঠে দেশের গান, আওয়ামী দোসরদের বিচার ও তাদের  সকল কার্যক্রম নিষিদ্ধ এবং বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনায় তাদের নাম পরিবর্তনের দাবিতে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ, কুয়েট শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে  অনশন।

প্রাইম এশিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জাহিদুল ইসলাম পারভেজ হত্যাকান্ডের সাথে যুক্ত সকলের তদন্ত সাপেক্ষে সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে প্রতিবাদ সমাবেশ, শহীদ মিনারে সমবেত কন্ঠে জাতীয় সংগীত পরিবেশন, সাজিদ আব্দুল্লাহ ও শহীদ ওসমান হাদির বিচারের দাবিতে যৌথ বিক্ষোভ কর্মসূচি।

শিক্ষার্থীদের জন্য জ্ঞানভিত্তিক প্রতিযোগিতা :

বিভিন্ন কুইজ প্রতিযোগিতা সহ বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল বিভাগের অংশগ্রহণ নিয়ে বিতর্ক প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হয়।

স্মরণ, শোক ও জাতীয় কর্মসূচি:

বছরজুড়ে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ দিবসগুলোতেও নানা কর্মসূচি পালন করে। কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ এর জুলাই আন্দোলনে হওয়া শহীদদের কবর জিয়ারত ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন। শহীদ ওসমান হাদির জন্য গায়েবি জানাযা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন সহ বিভিন্ন জাতীয় ব্যক্তিবর্গের আত্মার মাগফিরাতের জন্যও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করে সংগঠনটি।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ইবি শাখার আহ্বায়ক এস এম সুইট বলেন, “জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে গঠিত বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা  এবছরেও বেশকিছু  শিক্ষার্থীবান্ধব কার্যক্রম করেছে । বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের কল্যানে  যতগুলো কাজ করা দরকার এবং একটি সংগঠন হিসেবে যেভাবে যেভাবে ভুমিকা রাখা উচিত তার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি।  পাশাপাশি জুলাই বিপ্লবের স্পিরিটকে ধরে রাখতে বিভিন্ন জাতীয় কর্মসুচিও পালন করেছি । গত বছরের আমাদের যে পরিকল্পনা গুলো বাস্তবায়ন করতে পারিনি সেগুলো ফিলাপের চেষ্টা করবো। এবছরে আরো বেশি বেশি করে শিক্ষার্থীদের জন্য কাজ করতে চাই এজন্য সকলের সহযোগিতা কামনা করছি।”

জনপ্রিয়

বেনাপোলে বিএনপির নেতার ভাইয়ের মৃত্যু,জানাজায় ধানের শীষের প্রার্থী নুরুজ্জামান লিটন

বছরজুড়ে যা যা করলো ইবি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন

প্রকাশের সময় : ১১:২১:৫৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২ জানুয়ারী ২০২৬

ইবি প্রতিনিধি 

চব্বিশের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক বাস্তবতায় ক্যাম্পাসগুলোতে দেখা দিয়েছে আমূল পরিবর্তন। দীর্ঘদিনের স্বৈরাচারী রাজনীতি থেকে বেরিয়ে এসে ক্যাম্পাসগুলোতে ফিরেছে বহুমাত্রিক রাজনৈতিক তৎপরতা। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ও (ইবি) তার ব্যতিক্রম নয়। ২০২৫ সাল জুড়ে শিক্ষার্থীদের অধিকার রক্ষা, ক্যাম্পাসের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত ও শিক্ষার উন্নয়নসহ নানা কার্যক্রম চালিয়েছে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন ইবি শাখা।

স্বৈরাচারী হাসিনার শাসনের পতনের পর ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্ররাজনীতি নতুন রূপে আবির্ভূত হয়। আগে যেখানে ছাত্রলীগ ছাড়া অন্য সকল ছাত্রসংগঠনের কার্যক্রম প্রায় নিষিদ্ধ ছিল, সেখানে জুলাই বিপ্লবের পর ইবি ক্যাম্পাসে সক্রিয় হয়ে ওঠে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, ছাত্রদল, ছাত্রশিবির, ছাত্র ইউনিয়নসহ বিভিন্ন ঘরানার সংগঠন। ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক সহাবস্থান ফিরিয়ে নিয়ে আসতে ভূমিকা রেখেছে সংগঠনটি।

শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনে বিভিন্ন দাবি বাস্তবায়ন :

২০২৫ সালে ইবি বৈছাআর কার্যক্রমের প্রায় সম্পুর্ণ  অংশজুড়ে ছিল শিক্ষার্থীদের অধিকার ও প্রয়োজন সংক্রান্ত দাবি।কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিতে জব কর্ণারের ব্যবস্থা,আবাসিক হল সমূহে পানির ফিল্টার স্থাপন,শিক্ষার্থীদের জন্য স্মার্ট আইডি কার্ড নিশ্চিতকরণ,ভর্তি-ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের হেল্প ডেস্ক এর মাধ্যমে সহযোগিতা, বাৎসরিক ছুটি কমানো,সেশনজট নিরসন, কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ সড়কে শিক্ষার্থীদের বাস ভাড়া অর্ধেক করা এবং সার্বক্ষণিক বাস সুবিধার প্রত্যয়ে ঘন্টা প্রতি বাস সুবিধা চালু করা।

শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনে বিভিন্ন স্মারকলিপি:

২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষ  থেকে শুধু মাত্র পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠী ছাড়া সকল কোটা বাতিলের সিদ্ধান্ত,
জুলাই অভুত্থানের বিপক্ষে নেতৃত্ব দেওয়া  ব্যাক্তিদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক  ব্যাবস্থা, সেশনজট নিরসনে  অনুষদ ভিত্তিক একাডেমিক ক্যালেন্ডার প্রণয়ন এবং বাস্তবায়ন, বহিরাগত মুক্ত ক্যাম্পাস নিশ্চিত, ক্যাম্পাসে স্টেডিয়াম তৈরি, বিশ্ববিদ্যালয়ের জিমনেসিয়ামে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম, ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে ফায়ার সার্ভিস ও বিভিন্ন ব্যাংকের বুথ স্থাপন করাসহ বিভিন্ন প্রয়োজনে স্মারক লিপি প্রদান।

জাতীয় স্বার্থে বিভিন্ন কর্মসূচি :

”ফেলানী দিবস” উপলক্ষে ভারতীয় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ, “জুলাইয়ের প্রেরণা,দিতে হবে ঘোষণা’ শীর্ষক লিফলেট বিতরণ,
”বাংলাদেশির পরম্পরা : বায়ান্ন থেকে চব্বিশ ”এর আলোকচিত্র প্রদর্শনী, একুশ আমার অস্তিত্ব শীর্ষক আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী, জুলাই চব্বিশের স্মৃতিচারণমূলক আঞ্চলিক ভাষায় অনলাইন ভিডিও  প্রতিযোগিতা, শ্রমজীবী ও ভ্যান চালকদের সাথে ইফতার,সহস্র কন্ঠে দেশের গান, আওয়ামী দোসরদের বিচার ও তাদের  সকল কার্যক্রম নিষিদ্ধ এবং বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনায় তাদের নাম পরিবর্তনের দাবিতে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ, কুয়েট শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে  অনশন।

প্রাইম এশিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জাহিদুল ইসলাম পারভেজ হত্যাকান্ডের সাথে যুক্ত সকলের তদন্ত সাপেক্ষে সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে প্রতিবাদ সমাবেশ, শহীদ মিনারে সমবেত কন্ঠে জাতীয় সংগীত পরিবেশন, সাজিদ আব্দুল্লাহ ও শহীদ ওসমান হাদির বিচারের দাবিতে যৌথ বিক্ষোভ কর্মসূচি।

শিক্ষার্থীদের জন্য জ্ঞানভিত্তিক প্রতিযোগিতা :

বিভিন্ন কুইজ প্রতিযোগিতা সহ বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল বিভাগের অংশগ্রহণ নিয়ে বিতর্ক প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হয়।

স্মরণ, শোক ও জাতীয় কর্মসূচি:

বছরজুড়ে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ দিবসগুলোতেও নানা কর্মসূচি পালন করে। কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ এর জুলাই আন্দোলনে হওয়া শহীদদের কবর জিয়ারত ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন। শহীদ ওসমান হাদির জন্য গায়েবি জানাযা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন সহ বিভিন্ন জাতীয় ব্যক্তিবর্গের আত্মার মাগফিরাতের জন্যও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করে সংগঠনটি।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ইবি শাখার আহ্বায়ক এস এম সুইট বলেন, “জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে গঠিত বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা  এবছরেও বেশকিছু  শিক্ষার্থীবান্ধব কার্যক্রম করেছে । বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের কল্যানে  যতগুলো কাজ করা দরকার এবং একটি সংগঠন হিসেবে যেভাবে যেভাবে ভুমিকা রাখা উচিত তার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি।  পাশাপাশি জুলাই বিপ্লবের স্পিরিটকে ধরে রাখতে বিভিন্ন জাতীয় কর্মসুচিও পালন করেছি । গত বছরের আমাদের যে পরিকল্পনা গুলো বাস্তবায়ন করতে পারিনি সেগুলো ফিলাপের চেষ্টা করবো। এবছরে আরো বেশি বেশি করে শিক্ষার্থীদের জন্য কাজ করতে চাই এজন্য সকলের সহযোগিতা কামনা করছি।”