শনিবার, ০৩ জানুয়ারী ২০২৬, ১৯ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সিরাজগঞ্জ-২ আসনে বিএনপি প্রার্থী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর সম্পদের বিবরণ প্রকাশ

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি 
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিরাজগঞ্জ-২ (সদর ও কামারখন্দ) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু তার হলফনামায় নিজের ও স্ত্রীর স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ, আয় এবং মামলার তথ্য উপস্থাপন করেছেন। সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) সিরাজগঞ্জ জেলা রিটার্নিং অফিসার কার্যালয়ে জমা দেওয়া হলফনামায় এসব তথ্য উল্লেখ করা হয়।
হলফনামা অনুযায়ী, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর মোট সম্পদের পরিমাণ চার কোটি ৬৪ লাখ ৮৩ হাজার ৬২৭ টাকা। অপরদিকে তার স্ত্রী সাবেক সংসদ সদস্য ও বর্তমান জেলা বিএনপির সভাপতি রুমানা মাহমুদের মোট সম্পদের পরিমাণ ২৪ কোটি ৯৫ লাখ ৯২ হাজার ৭০৩ টাকা। টুকু তার পেশা হিসেবে ওয়ান টেক্স লিমিটেডের পরামর্শক এবং স্ত্রীর পেশা ‘গৃহিণী’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
সম্পদ বিবরণীতে দেখা যায়, টুকুর নামে কৃষিজমির অর্জনকালীন মূল্য ৫৮ হাজার ৫০০ টাকা এবং তার স্ত্রীর নামে কৃষিজমির অর্জনকালীন মূল্য ১৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা। নিজ নামে বাড়ি ও অ্যাপার্টমেন্টের মূল্য দেখানো হয়েছে এক লাখ ৬৬ হাজার ৮০৭ টাকা, আর স্ত্রীর নামে রয়েছে ২০ লাখ টাকা মূল্যের আবাসিক সম্পদ।
নগদ অর্থ হিসেবে টুকুর কাছে দুই কোটি ১৩ লাখ ৫ হাজার ৬২৭ টাকা এবং তার স্ত্রীর কাছে তিন কোটি ৭৬ লাখ ৫২ হাজার ৪৫২ টাকা থাকার তথ্য দেওয়া হয়েছে। বন্ড ও কোম্পানির শেয়ারে টুকুর বিনিয়োগ ৩২ লাখ ৫৪ হাজার টাকা এবং তার স্ত্রীর বিনিয়োগ ১৬ কোটি ৩৭ লাখ ৪১ হাজার ৮০০ টাকা। মোটরযান বাবদ টুকুর সম্পদের মূল্য ১০ লাখ টাকা এবং তার স্ত্রীর ৬৫ লাখ টাকা উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া টুকুর ইলেকট্রনিক পণ্যের মূল্য তিন লাখ ৯৯ হাজার টাকা এবং আসবাবপত্রের মূল্য পাঁচ লাখ ২৫ হাজার টাকা। তার স্ত্রীর নামে দেড় লাখ টাকা মূল্যের স্বর্ণালঙ্কার এবং ৯৫ হাজার টাকা মূল্যের আসবাবপত্র রয়েছে।
হলফনামায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু উত্তরাধিকার সূত্রে দুই কোটি ২৫ লাখ টাকা মূল্যের সম্পদ পেয়েছেন। এর মধ্যে দুই কোটি টাকা স্ত্রীকে এবং ২৫ লাখ টাকা ভাইকে প্রদান করেছেন। কৃষি, বন্ড ও শেয়ার খাত থেকে তার বার্ষিক আয় আট লাখ ২৬ হাজার ৩৫৭ টাকা বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এই আয়ের ওপর তার স্ত্রী ও সন্তানরা নির্ভরশীল।
মামলার তথ্য প্রসঙ্গে হলফনামায় বলা হয়েছে, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে মোট ১০টি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় তিনি বর্তমানে জামিনে রয়েছেন এবং কয়েকটি বিষয়ে উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশ কার্যকর রয়েছে।
ব্যক্তিগত তথ্য অনুযায়ী, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ১৯৫০ সালের ১০ মে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার শিয়ালকোল ইউনিয়নের কয়েলগাঁতী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ তৎকালীন পাকিস্তান কেন্দ্রীয় সরকারের শিল্প ও প্রাকৃতিক সম্পদমন্ত্রী ছিলেন। সাবেক উপ-প্রধানমন্ত্রী এম এ মতিন তার ভগ্নিপতি।
জনপ্রিয়

বেনাপোলে বিএনপির নেতার ভাইয়ের মৃত্যু,জানাজায় ধানের শীষের প্রার্থী নুরুজ্জামান লিটন

সিরাজগঞ্জ-২ আসনে বিএনপি প্রার্থী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর সম্পদের বিবরণ প্রকাশ

প্রকাশের সময় : ১২:১৯:৫০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ জানুয়ারী ২০২৬
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি 
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিরাজগঞ্জ-২ (সদর ও কামারখন্দ) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু তার হলফনামায় নিজের ও স্ত্রীর স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ, আয় এবং মামলার তথ্য উপস্থাপন করেছেন। সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) সিরাজগঞ্জ জেলা রিটার্নিং অফিসার কার্যালয়ে জমা দেওয়া হলফনামায় এসব তথ্য উল্লেখ করা হয়।
হলফনামা অনুযায়ী, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর মোট সম্পদের পরিমাণ চার কোটি ৬৪ লাখ ৮৩ হাজার ৬২৭ টাকা। অপরদিকে তার স্ত্রী সাবেক সংসদ সদস্য ও বর্তমান জেলা বিএনপির সভাপতি রুমানা মাহমুদের মোট সম্পদের পরিমাণ ২৪ কোটি ৯৫ লাখ ৯২ হাজার ৭০৩ টাকা। টুকু তার পেশা হিসেবে ওয়ান টেক্স লিমিটেডের পরামর্শক এবং স্ত্রীর পেশা ‘গৃহিণী’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
সম্পদ বিবরণীতে দেখা যায়, টুকুর নামে কৃষিজমির অর্জনকালীন মূল্য ৫৮ হাজার ৫০০ টাকা এবং তার স্ত্রীর নামে কৃষিজমির অর্জনকালীন মূল্য ১৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা। নিজ নামে বাড়ি ও অ্যাপার্টমেন্টের মূল্য দেখানো হয়েছে এক লাখ ৬৬ হাজার ৮০৭ টাকা, আর স্ত্রীর নামে রয়েছে ২০ লাখ টাকা মূল্যের আবাসিক সম্পদ।
নগদ অর্থ হিসেবে টুকুর কাছে দুই কোটি ১৩ লাখ ৫ হাজার ৬২৭ টাকা এবং তার স্ত্রীর কাছে তিন কোটি ৭৬ লাখ ৫২ হাজার ৪৫২ টাকা থাকার তথ্য দেওয়া হয়েছে। বন্ড ও কোম্পানির শেয়ারে টুকুর বিনিয়োগ ৩২ লাখ ৫৪ হাজার টাকা এবং তার স্ত্রীর বিনিয়োগ ১৬ কোটি ৩৭ লাখ ৪১ হাজার ৮০০ টাকা। মোটরযান বাবদ টুকুর সম্পদের মূল্য ১০ লাখ টাকা এবং তার স্ত্রীর ৬৫ লাখ টাকা উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া টুকুর ইলেকট্রনিক পণ্যের মূল্য তিন লাখ ৯৯ হাজার টাকা এবং আসবাবপত্রের মূল্য পাঁচ লাখ ২৫ হাজার টাকা। তার স্ত্রীর নামে দেড় লাখ টাকা মূল্যের স্বর্ণালঙ্কার এবং ৯৫ হাজার টাকা মূল্যের আসবাবপত্র রয়েছে।
হলফনামায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু উত্তরাধিকার সূত্রে দুই কোটি ২৫ লাখ টাকা মূল্যের সম্পদ পেয়েছেন। এর মধ্যে দুই কোটি টাকা স্ত্রীকে এবং ২৫ লাখ টাকা ভাইকে প্রদান করেছেন। কৃষি, বন্ড ও শেয়ার খাত থেকে তার বার্ষিক আয় আট লাখ ২৬ হাজার ৩৫৭ টাকা বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এই আয়ের ওপর তার স্ত্রী ও সন্তানরা নির্ভরশীল।
মামলার তথ্য প্রসঙ্গে হলফনামায় বলা হয়েছে, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে মোট ১০টি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় তিনি বর্তমানে জামিনে রয়েছেন এবং কয়েকটি বিষয়ে উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশ কার্যকর রয়েছে।
ব্যক্তিগত তথ্য অনুযায়ী, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ১৯৫০ সালের ১০ মে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার শিয়ালকোল ইউনিয়নের কয়েলগাঁতী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ তৎকালীন পাকিস্তান কেন্দ্রীয় সরকারের শিল্প ও প্রাকৃতিক সম্পদমন্ত্রী ছিলেন। সাবেক উপ-প্রধানমন্ত্রী এম এ মতিন তার ভগ্নিপতি।