সোমবার, ০৫ জানুয়ারী ২০২৬, ২২ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

যশোরে দুটি আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী টিএস আইয়ুবসহ ৫ জনের মনোনয়ন বাতিল  

ছবি-সংগৃহীত

যশোর প্রতিনিধি 
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে যশোরে আরোও দুটি সংসদীয় আসনে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই হয়েছে। এতে বিএনপির মনোনীত প্রার্থীসহ পাঁচ প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। আজ শুক্রবার মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে এ সিদ্ধান্ত দেন জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ আশেক হাসান।
রিটার্নিং অফিস সূত্রে,শুক্রবার সকালে যশোর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে যশোর-৩ (সদর) ও যশোর-৪ (বাঘারপাড়া-অভয়নগর ও বসুন্দিয়া ইউনিয়ন) আসনের প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করেন জেলা রিটার্নিং অফিসার। যশোর সদরে ৬ জন প্রার্থীর মধ্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মনোনীত প্রার্থী ও দলটির শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক মুহাম্মদ শোয়াইব হোসেনের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। তিনি আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকে ঋণ খেলাপি ছিলেন। মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়ার পর যশোর-৩ আসনে এখন বৈধ প্রার্থী হিসেবে থাকছেন-জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের মনোনীত প্রার্থী আব্দুল কাদের,বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ও বিএনপির খুলনা বিভাগীয় ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত,জাতীয় পার্টির খবির গাজী, বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) রাশেদ খান, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) নিজাম উদ্দিন অমিত।
এদিকে যশোর-৪(বাঘারপাড়া-অভয়নগর ও বসুন্দিয়া ইউনিয়ন) মনোনয়ন দাখিল করেছিলেন ১০ জন প্রার্থী।এর মধ্যে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী টিএস আইয়ূব, জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ এ এইচ সাবেরুল হক সাবু, স্বতন্ত্র প্রার্থী ফারহান সাজিদ ও জাতীয় পার্টির জহুরুল হকের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। বিএনপির মনোনীত প্রার্থী টিএস আইয়ূব ঢাকা ব্যাংকে খেলাপি ঋণ রয়েছে। টিএস আইয়ুবের প্রার্থীতা গ্রহণ না করতে সম্প্রতি জেলা রিটার্নিং অফিসারকে চিঠি দিয়েছিলেন ব্যাংকটির ধানমন্ডি মডেল ব্যাঞ্চের কর্মকর্তারা। তার ছেলে ফারহান সাজিদও নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছিলেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ১ শতাংশ ভোটারের নাম ও সই জমা দিয়ে ছিলেন স্বতন্ত্র এই প্রার্থী। তবে এই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী ফারহান ভোটারের যে তালিকা দিয়েছেন, সেখানে অসত্য তথ্য দেওয়ার অভিযোগ উঠে। পরবর্তীতে দ্বৈবচয়নের ভিত্তিতে ভোটারের তালিকা যাচাই করে দেখা গেছে ১০ জনের মধ্যে অধিকাংশ জনের বিষয়ে অসত্য তথ্য দেওয়া হয়েছে। যে কারণে তার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।
আরেক প্রার্থী জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু তিনি বিএনপির মনোনীত প্রার্থী না হলেও মনোনয়ন ফরমে দেখিয়েছেন তিনি বিএনপির মনোনীত প্রার্থী। তবে মনোনয়ন দাখিলের সময়ে দলীয় মনোনয়ন ফরম জমা দিতে পারেনি। ফলে তার মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। এছাড়া জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী জহুরুল হকের মনোনয়ন ফরম অসম্পূর্ণ থাকায় তার মনোনয়নও বাতিল করা হয়েছে।
ফলে এই আসনে বৈধ প্রার্থী হিসেবে থাকছেন- বিএনপির বিকল্প মনোনীত প্রার্থী মতিয়ার রহমান ফারাজী, জামায়াতে ইসলামীর অধ্যাপক গোলাম রসুল,স্বতন্ত্র এম নাজিমউদ্দিন আল আজাদ, বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টি (বিএমজেপি) সুকৃতি কুমার মন্ডল, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের বায়েজীদ হোসাইন ও খেলাফত মজলীশের আশেক এলাহী।
যশোর জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ আশেক হাসান বলেন, ‘আজ দুটি আসনের প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে যশোর -৩ ও ৪ আসনে মোট পাঁচ প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। বাতিল হওয়া প্রার্থীরা আপিল করতে পারবেন। এছড়া জেলার বাকী দুটি আসনের প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করা হবে শনিবার।
যশোর জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, জেলায় ৬টি সংসদীয় আসনে ৪৬ জন প্রার্থী মনোনয়ন দাখিল করেছিলেন। এর মধ্যে বিএনপি থেকে ১০জন, জামায়াত ইসলামীর ৬জন, স্বতন্ত্র ১০জন, ইসলামী আন্দোলনের ৬জন, জাতীয় পার্টি ৬জন, বিএনএফ, বাসদ, জাগপা, সিপিবি, খেলাফত মজলিস ও মাইনরিটি জনতা পার্টি থেকে একজন, এবি পার্টির ২ জন মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। এর আগে ৬টি আসনে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন ৭১ জন প্রার্থী।
নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র বাছাই চলবে ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২০ জানুয়ারি। প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে পরদিন ২১ জানুয়ারি। ২২ জানুয়ারি প্রচারণা শুরু করতে পারবেন প্রার্থীরা; চলবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে সাতটা পর্যন্ত। এবং আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে।
জনপ্রিয়

সিরাজগঞ্জে হিন্দু নারীর সৎকারে বাধা, মরদেহ নিয়ে উপজেলা চত্বরে বিক্ষোভ

যশোরে দুটি আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী টিএস আইয়ুবসহ ৫ জনের মনোনয়ন বাতিল  

প্রকাশের সময় : ০৬:০৯:১৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ জানুয়ারী ২০২৬
যশোর প্রতিনিধি 
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে যশোরে আরোও দুটি সংসদীয় আসনে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই হয়েছে। এতে বিএনপির মনোনীত প্রার্থীসহ পাঁচ প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। আজ শুক্রবার মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে এ সিদ্ধান্ত দেন জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ আশেক হাসান।
রিটার্নিং অফিস সূত্রে,শুক্রবার সকালে যশোর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে যশোর-৩ (সদর) ও যশোর-৪ (বাঘারপাড়া-অভয়নগর ও বসুন্দিয়া ইউনিয়ন) আসনের প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করেন জেলা রিটার্নিং অফিসার। যশোর সদরে ৬ জন প্রার্থীর মধ্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মনোনীত প্রার্থী ও দলটির শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক মুহাম্মদ শোয়াইব হোসেনের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। তিনি আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকে ঋণ খেলাপি ছিলেন। মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়ার পর যশোর-৩ আসনে এখন বৈধ প্রার্থী হিসেবে থাকছেন-জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের মনোনীত প্রার্থী আব্দুল কাদের,বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ও বিএনপির খুলনা বিভাগীয় ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত,জাতীয় পার্টির খবির গাজী, বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) রাশেদ খান, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) নিজাম উদ্দিন অমিত।
এদিকে যশোর-৪(বাঘারপাড়া-অভয়নগর ও বসুন্দিয়া ইউনিয়ন) মনোনয়ন দাখিল করেছিলেন ১০ জন প্রার্থী।এর মধ্যে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী টিএস আইয়ূব, জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ এ এইচ সাবেরুল হক সাবু, স্বতন্ত্র প্রার্থী ফারহান সাজিদ ও জাতীয় পার্টির জহুরুল হকের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। বিএনপির মনোনীত প্রার্থী টিএস আইয়ূব ঢাকা ব্যাংকে খেলাপি ঋণ রয়েছে। টিএস আইয়ুবের প্রার্থীতা গ্রহণ না করতে সম্প্রতি জেলা রিটার্নিং অফিসারকে চিঠি দিয়েছিলেন ব্যাংকটির ধানমন্ডি মডেল ব্যাঞ্চের কর্মকর্তারা। তার ছেলে ফারহান সাজিদও নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছিলেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ১ শতাংশ ভোটারের নাম ও সই জমা দিয়ে ছিলেন স্বতন্ত্র এই প্রার্থী। তবে এই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী ফারহান ভোটারের যে তালিকা দিয়েছেন, সেখানে অসত্য তথ্য দেওয়ার অভিযোগ উঠে। পরবর্তীতে দ্বৈবচয়নের ভিত্তিতে ভোটারের তালিকা যাচাই করে দেখা গেছে ১০ জনের মধ্যে অধিকাংশ জনের বিষয়ে অসত্য তথ্য দেওয়া হয়েছে। যে কারণে তার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।
আরেক প্রার্থী জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু তিনি বিএনপির মনোনীত প্রার্থী না হলেও মনোনয়ন ফরমে দেখিয়েছেন তিনি বিএনপির মনোনীত প্রার্থী। তবে মনোনয়ন দাখিলের সময়ে দলীয় মনোনয়ন ফরম জমা দিতে পারেনি। ফলে তার মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। এছাড়া জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী জহুরুল হকের মনোনয়ন ফরম অসম্পূর্ণ থাকায় তার মনোনয়নও বাতিল করা হয়েছে।
ফলে এই আসনে বৈধ প্রার্থী হিসেবে থাকছেন- বিএনপির বিকল্প মনোনীত প্রার্থী মতিয়ার রহমান ফারাজী, জামায়াতে ইসলামীর অধ্যাপক গোলাম রসুল,স্বতন্ত্র এম নাজিমউদ্দিন আল আজাদ, বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টি (বিএমজেপি) সুকৃতি কুমার মন্ডল, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের বায়েজীদ হোসাইন ও খেলাফত মজলীশের আশেক এলাহী।
যশোর জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ আশেক হাসান বলেন, ‘আজ দুটি আসনের প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে যশোর -৩ ও ৪ আসনে মোট পাঁচ প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। বাতিল হওয়া প্রার্থীরা আপিল করতে পারবেন। এছড়া জেলার বাকী দুটি আসনের প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করা হবে শনিবার।
যশোর জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, জেলায় ৬টি সংসদীয় আসনে ৪৬ জন প্রার্থী মনোনয়ন দাখিল করেছিলেন। এর মধ্যে বিএনপি থেকে ১০জন, জামায়াত ইসলামীর ৬জন, স্বতন্ত্র ১০জন, ইসলামী আন্দোলনের ৬জন, জাতীয় পার্টি ৬জন, বিএনএফ, বাসদ, জাগপা, সিপিবি, খেলাফত মজলিস ও মাইনরিটি জনতা পার্টি থেকে একজন, এবি পার্টির ২ জন মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। এর আগে ৬টি আসনে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন ৭১ জন প্রার্থী।
নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র বাছাই চলবে ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২০ জানুয়ারি। প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে পরদিন ২১ জানুয়ারি। ২২ জানুয়ারি প্রচারণা শুরু করতে পারবেন প্রার্থীরা; চলবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে সাতটা পর্যন্ত। এবং আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে।