
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি
সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে শুল্কমুক্ত আমদানিকৃত বন্ডেড সূতা বহনকারী একটি কাভার্ডভ্যান জব্দের কয়েক ঘণ্টা পর কোনো মামলা ছাড়াই ছেড়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) সকালে জব্দ করা যানটি ওই দিন রাতেই মুচলেকার মাধ্যমে ছেড়ে দেওয়া হয়।
পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বেলকুচি থানা পুলিশ সিরাজগঞ্জ–বেলকুচি–এনায়েতপুর সড়কের সীমান্তবর্তী সয়দাবাদ এলাকা থেকে ঢাকার যাত্রাবাড়ি থেকে আসা সুতাভর্তি কাভার্ডভ্যানটি আটক করে। প্রাথমিকভাবে মালামালটি শুল্কমুক্ত আমদানিকৃত বন্ডেড সূতা হিসেবে সন্দেহ করা হয়।
রাতে কোনো মামলা দায়ের না করে একটি মুচলেকার মাধ্যমে গাড়িটি ছেড়ে দেওয়া হয়। মুচলেকাপত্রে উল্লেখ করা হয়, ভবিষ্যতে এ সংক্রান্ত কোনো জটিলতা তৈরি হলে বেলকুচি থানা পুলিশ কিংবা উপজেলা প্রশাসন দায়ী থাকবে না। মুচলেকায় বেলকুচি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শামসুল আলম, মধ্যস্থতাকারী হিসেবে চন্দনগাঁতী এলাকার রাসেল তালুকদার এবং গাড়ামাসী এলাকার হিমেলের স্বাক্ষর রয়েছে। মুচলেকার একটি কপি প্রতিবেদকের কাছেও সংরক্ষিত আছে।
বেলকুচি থানায় অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত ইন্সপেক্টর (তদন্ত) জহুরুল হক সাংবাদিকদের জানান, স্থানীয় লোকজন ও গণমাধ্যমকর্মীদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কাভার্ডভ্যানটি জব্দ করা হয়। পরে জানা যায়, মালামালটি গাছাবাড়ি গ্রামের সুতা ব্যবসায়ী হাজী ইসমাইল হোসেনের কেনা। তার প্রতিনিধি আলমগীর হোসেন প্রয়োজনীয় কাগজপত্র উপস্থাপন করলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করে তার নির্দেশে মালামালসহ গাড়িটি ছেড়ে দেওয়া হয়।
তিনি আরও জানান, মুচলেকায় চন্দনগাঁতীর রাসেল তালুকদার, গাড়ামাসীর হিমেল, গাছাবাড়ির আলমগীর হোসেন এবং এসআই শামসুল আলম স্বাক্ষী হিসেবে রয়েছেন।
এদিকে, ঘটনার দিন দুপুরে তথ্য জানতে প্রতিবেদক থানায় গেলে কোনো বক্তব্য দেওয়া হয়নি। তদন্ত কর্মকর্তা মিটিংয়ে আছেন জানিয়ে সে সময় সাংবাদিকদের ফিরে যেতে বলা হয়।
বেলকুচির উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফরিন জাহান সাংবাদিকদের বলেন, জব্দকৃত কাভার্ডভ্যানে লুঙ্গি তৈরির কাজে ব্যবহৃত সূতা ছিল। এটি ভারত বা চীন থেকে শুল্কবিহীন আমদানিকৃত বন্ডেড সূতা নয়। যাচাই-বাছাই শেষে বৈধ মালিকদের কাছে মালামাল হস্তান্তর করা হয়েছে। এ সংক্রান্ত কাগজপত্র বেলকুচি থানা পুলিশের কাছে সংরক্ষিত থাকার কথা।
অন্যদিকে, গাছাবাড়ির সুতা ব্যবসায়ী হাজী ইসমাইল হোসেন ও তার প্রতিনিধি আলমগীর হোসেন শুক্রবার বিকেলে জানান, তারা ঢাকা থেকে নগদ টাকায় গার্মেন্টসের বৈধ পলেস্টার ঝুট সুতা কিনে আনছিলেন। সাংবাদিকদের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝির কারণে গাড়িটি আটক করা হয়। পরে কাগজপত্র যাচাই শেষে পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসন মুচলেকার মাধ্যমে গাড়িটি ছেড়ে দেয়।
উল্লেখ্য, দেশের প্রান্তিক তাঁতিদের সহায়তার জন্য সরকার ভারত ও চীন থেকে শুল্কমুক্ত বন্ডেড সূতা আমদানির সুযোগ দিয়ে থাকে। নিয়ম অনুযায়ী, এসব সূতা স্বল্পমূল্যে নির্ধারিত তাঁতিদের কাছে সরবরাহ করার কথা। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, এ ধরনের সূতা দেশের বিভিন্ন এলাকায় অবৈধভাবে সরবরাহের অভিযোগ অতীতেও উঠেছে।
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি 







































