সোমবার, ০৫ জানুয়ারী ২০২৬, ২২ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নির্বাচনে জাতীয় পার্টিকে অযোগ্য ঘোষণার দাবি আখতার হোসেনের

ছবি - সংগৃহীত

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন জাতীয় পার্টিকে ‘ফ্যাসিবাদের দোসর’ আখ্যায়িত করে আগামী জাতীয় নির্বাচনে তাদের অযোগ্য ঘোষণা করার দাবি তুলেছেন। শুক্রবার (২ জানুয়ারি) রংপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে রংপুর-৪ আসনের মনোনয়ন যাচাই-বাছাইয়ের পর সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

আখতার হোসেন বলেন, দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে গত ১৬ বছর ধরে যে ফ্যাসিবাদ ও স্বৈরাচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তার পেছনে জাতীয় পার্টির ভূমিকা রয়েছে। তাই ফ্যাসিবাদের রাজনীতিতে যারা লিপ্ত, তাদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া ঠিক হবে না। তিনি জনগণ, সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে এই ব্যাপারে কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানান।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড প্রতিষ্ঠা করা সরকারের ও নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব। নির্বাচনী মাঠে অনিয়ম, অর্থ ও পেশীশক্তির প্রভাব থেকে মুক্ত নির্বাচন নিশ্চিত করতে হবে।

মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিনে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না থাকলেও, তফসিল ঘোষণার পর থেকে বিভিন্ন এলাকায় সহিংসতা ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। বিশেষ করে তফসিল ঘোষণার পরদিন ওসমান হাদিকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। তিনি সরকারকে আশঙ্কার কথা বলেন যে, যারা ২০১৪ সালের ২৪ জানুয়ারির অভ্যুত্থানের সময় সাধারণ মানুষের ওপর গুলি ও হামলা চালিয়েছিল তারা এখনো কার্যত অবাধে ঘুরে বেড়াচ্ছে।

আখতার হোসেন বলেন, সরকার যতই নিরাপত্তা ব্যবস্থা করুক, অপরাধীরা গ্রেপ্তার না হলে প্রার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। আমরা বুলেট ভয়ের মধ্যে থেকেও সত্যের পথে অবিচল থাকবো।

জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে এনসিপির জোট প্রসঙ্গে তিনি জানান, সংস্কার বাস্তবায়ন, গণহত্যার বিচার দৃশ্যমান করা ও দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়ার লক্ষ্যে আট দলের জোট একসঙ্গে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে। এই জোটের আসন বিন্যাস নিয়ে আলোচনা চলছে এবং অল্প সময়ের মধ্যে চূড়ান্ত হবে।

উল্লেখ্য, রংপুর-৪ (পীরগাছা-কাউনিয়া) আসনে মোট ১০ প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন, যাদের মধ্যে তিন জনের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। বৈধ প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন বিএনপি, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী), জাতীয় নাগরিক পার্টি, জাতীয় পার্টি, বাংলাদেশ কংগ্রেস এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থীরা।

জনপ্রিয়

ট্রাম্পের হুমকির পর ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্টের সুর নরম

নির্বাচনে জাতীয় পার্টিকে অযোগ্য ঘোষণার দাবি আখতার হোসেনের

প্রকাশের সময় : ০৮:০২:৫৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩ জানুয়ারী ২০২৬

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন জাতীয় পার্টিকে ‘ফ্যাসিবাদের দোসর’ আখ্যায়িত করে আগামী জাতীয় নির্বাচনে তাদের অযোগ্য ঘোষণা করার দাবি তুলেছেন। শুক্রবার (২ জানুয়ারি) রংপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে রংপুর-৪ আসনের মনোনয়ন যাচাই-বাছাইয়ের পর সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

আখতার হোসেন বলেন, দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে গত ১৬ বছর ধরে যে ফ্যাসিবাদ ও স্বৈরাচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তার পেছনে জাতীয় পার্টির ভূমিকা রয়েছে। তাই ফ্যাসিবাদের রাজনীতিতে যারা লিপ্ত, তাদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া ঠিক হবে না। তিনি জনগণ, সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে এই ব্যাপারে কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানান।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড প্রতিষ্ঠা করা সরকারের ও নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব। নির্বাচনী মাঠে অনিয়ম, অর্থ ও পেশীশক্তির প্রভাব থেকে মুক্ত নির্বাচন নিশ্চিত করতে হবে।

মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিনে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না থাকলেও, তফসিল ঘোষণার পর থেকে বিভিন্ন এলাকায় সহিংসতা ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। বিশেষ করে তফসিল ঘোষণার পরদিন ওসমান হাদিকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। তিনি সরকারকে আশঙ্কার কথা বলেন যে, যারা ২০১৪ সালের ২৪ জানুয়ারির অভ্যুত্থানের সময় সাধারণ মানুষের ওপর গুলি ও হামলা চালিয়েছিল তারা এখনো কার্যত অবাধে ঘুরে বেড়াচ্ছে।

আখতার হোসেন বলেন, সরকার যতই নিরাপত্তা ব্যবস্থা করুক, অপরাধীরা গ্রেপ্তার না হলে প্রার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। আমরা বুলেট ভয়ের মধ্যে থেকেও সত্যের পথে অবিচল থাকবো।

জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে এনসিপির জোট প্রসঙ্গে তিনি জানান, সংস্কার বাস্তবায়ন, গণহত্যার বিচার দৃশ্যমান করা ও দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়ার লক্ষ্যে আট দলের জোট একসঙ্গে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে। এই জোটের আসন বিন্যাস নিয়ে আলোচনা চলছে এবং অল্প সময়ের মধ্যে চূড়ান্ত হবে।

উল্লেখ্য, রংপুর-৪ (পীরগাছা-কাউনিয়া) আসনে মোট ১০ প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন, যাদের মধ্যে তিন জনের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। বৈধ প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন বিএনপি, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী), জাতীয় নাগরিক পার্টি, জাতীয় পার্টি, বাংলাদেশ কংগ্রেস এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থীরা।