রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মোংলা বন্দরে চলতি অর্থ বছরের ৬ মাসে ৬৪ লক্ষ মেট্রিক টন পণ্য খালাস

মারুফ বাবু, মোংলা প্রতিনিধিঃ
রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেও দেশ-বিদেশী পন্য আমদানী-রফতানীতে এগিয়ে যাচ্ছে মোংলা সমুদ্র বন্দর। চলতি অর্থ বছরে ১ কোটি ৩০ লক্ষ মেট্রিক টন পন্য আমাদী-রফতানীর লক্ষমাত্র নিয়ে কাজ করছে বন্দরটি। ফলে এ বন্দরকে ঘিরে অর্থনীতিতে এসেছে ব্যাপক পরিবর্তন। সম্ভাবনাময় এ বন্দরটিকে ব্যাবসায়ীরা সফল ভাবে ব্যাবহার করলে মোংলা সমুদ্র বন্দর শুধু বাংলাদেশ নয়, দক্ষিণ এশিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ নৌ-বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কর্মকান্ডের কেন্দ্রস্থল হবে এ মোংলা সমুদ্র বন্দর।
বন্দর সুত্রে জানায়, সময়ের সাথে সাথে ব্যবসা বাণিজ্যের অপার সম্ভাবনা তৈরী হওয়ায় দেশি বিদেশি আমদানি রপ্তানিকারকদের নজর এখন মোংলা সমুদ্র বন্দরের দিকে। অন্যান্য বন্দরের তুলনায় মোংলা বন্দর দিয়ে পণ্য পরিবহনে খরচ কম এবং নৌ, সড়ক ও রেল পথে পন্য পরিবহন সহজ হওয়ায় ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের শুরুতেই কন্টেইনারবাহী সহ সব ধরণের জাহাজের আগমন বৃদ্ধি পেয়েছে। দেশ-বিদেশি পণ্য আমদানির পাশাপাশি দেশে তৈরী বিভিন্ন ব্র্যান্ডের পোশাক, যন্ত্রপাতি মোংলা বন্দর দিয়ে রপ্তানি করা হচ্ছে ইউরোপ আমেরিকার বিভিন্ন দেশে।
চলতি অর্থ বছরের প্রথম ৬ মাসে মোংলা বন্দর দিয়ে পন্য নিয়ে ৪৪০টি বানিজ্যিক জাহাজ আগমন হয়েছে। এর মধ্যে ২৭ টি কন্টেইনার বাহী জাহাজে করে বিভিন্ন প্রকারের বিদেশী পন্য আমদানী করা হযেছে। যার পন্য বোঝাই ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বন্দর দিয়ে মোট ২১ হাজার ৪৫৬ টিইউজ কন্টেইনার হ্যান্ডলিং করা হয়েছিলো, সেখানে চলতি বছরের ৬ মাসে ১৭ হাজার ৪০০ টিইউজ কন্টেইনার হ্যান্ডলিং করা হয়। একই সাথে ৬ মাসে ১৬ টি জাহাজে আমদানী হয়েছে ৫ হাজার ২২২টি  জাপানী রিকিন্ডশন গাড়ী মোংলা বন্দর দিয়ে খালাস করা হয়েছে।
মোংলা সমুদ্র বন্দরকে ঘিরে গড়ে উঠেছে অর্ধশতাধিক শিল্পকারখানা, ইপিজেড এবং বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল, এতে সৃষ্টি হয়েছে অন্তত ৩০ থেকে ৩৫ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান। বন্দরে আমদানী-রফতানী বৃদ্ধির পাশাপাশী বৃদ্ধি পেয়েছে বন্দরের রাজস্ব আয়ও।
মোংলা বন্দরের উপ-পরিচালক মো: মাকরুজ্জামান বলেন, মোংলা বন্দর এখন বহুমুখী উন্নয়নের কাজ চলছে। বর্তমান সরকারের প্রচেষ্টায় উন্নয়ন, অগ্রগতি আর অর্থনৈতিক সম্ভানা নিয়ে কাজ করছে সরকার। বেশ কযেকটি বড় বড় মেঘা প্রকল্পের কাজ চলছে। প্রকল্পগুলো শেষ হলে দক্ষিন-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। জাহাজ বাড়বে, বাড়বে পন্য আমদানী-রফতানীর সংখ্যা, বৃদ্ধি পাবে রাজস্ব। যা থেকে দেশের অর্থনীতিতেও বড় অবদান রাখবে মোংলা সমুদ্র বন্দর।
জনপ্রিয়

আমি পদত্যাগ করিনি

মোংলা বন্দরে চলতি অর্থ বছরের ৬ মাসে ৬৪ লক্ষ মেট্রিক টন পণ্য খালাস

প্রকাশের সময় : ০৮:৪৯:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ জানুয়ারী ২০২৬
মারুফ বাবু, মোংলা প্রতিনিধিঃ
রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেও দেশ-বিদেশী পন্য আমদানী-রফতানীতে এগিয়ে যাচ্ছে মোংলা সমুদ্র বন্দর। চলতি অর্থ বছরে ১ কোটি ৩০ লক্ষ মেট্রিক টন পন্য আমাদী-রফতানীর লক্ষমাত্র নিয়ে কাজ করছে বন্দরটি। ফলে এ বন্দরকে ঘিরে অর্থনীতিতে এসেছে ব্যাপক পরিবর্তন। সম্ভাবনাময় এ বন্দরটিকে ব্যাবসায়ীরা সফল ভাবে ব্যাবহার করলে মোংলা সমুদ্র বন্দর শুধু বাংলাদেশ নয়, দক্ষিণ এশিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ নৌ-বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কর্মকান্ডের কেন্দ্রস্থল হবে এ মোংলা সমুদ্র বন্দর।
বন্দর সুত্রে জানায়, সময়ের সাথে সাথে ব্যবসা বাণিজ্যের অপার সম্ভাবনা তৈরী হওয়ায় দেশি বিদেশি আমদানি রপ্তানিকারকদের নজর এখন মোংলা সমুদ্র বন্দরের দিকে। অন্যান্য বন্দরের তুলনায় মোংলা বন্দর দিয়ে পণ্য পরিবহনে খরচ কম এবং নৌ, সড়ক ও রেল পথে পন্য পরিবহন সহজ হওয়ায় ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের শুরুতেই কন্টেইনারবাহী সহ সব ধরণের জাহাজের আগমন বৃদ্ধি পেয়েছে। দেশ-বিদেশি পণ্য আমদানির পাশাপাশি দেশে তৈরী বিভিন্ন ব্র্যান্ডের পোশাক, যন্ত্রপাতি মোংলা বন্দর দিয়ে রপ্তানি করা হচ্ছে ইউরোপ আমেরিকার বিভিন্ন দেশে।
চলতি অর্থ বছরের প্রথম ৬ মাসে মোংলা বন্দর দিয়ে পন্য নিয়ে ৪৪০টি বানিজ্যিক জাহাজ আগমন হয়েছে। এর মধ্যে ২৭ টি কন্টেইনার বাহী জাহাজে করে বিভিন্ন প্রকারের বিদেশী পন্য আমদানী করা হযেছে। যার পন্য বোঝাই ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বন্দর দিয়ে মোট ২১ হাজার ৪৫৬ টিইউজ কন্টেইনার হ্যান্ডলিং করা হয়েছিলো, সেখানে চলতি বছরের ৬ মাসে ১৭ হাজার ৪০০ টিইউজ কন্টেইনার হ্যান্ডলিং করা হয়। একই সাথে ৬ মাসে ১৬ টি জাহাজে আমদানী হয়েছে ৫ হাজার ২২২টি  জাপানী রিকিন্ডশন গাড়ী মোংলা বন্দর দিয়ে খালাস করা হয়েছে।
মোংলা সমুদ্র বন্দরকে ঘিরে গড়ে উঠেছে অর্ধশতাধিক শিল্পকারখানা, ইপিজেড এবং বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল, এতে সৃষ্টি হয়েছে অন্তত ৩০ থেকে ৩৫ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান। বন্দরে আমদানী-রফতানী বৃদ্ধির পাশাপাশী বৃদ্ধি পেয়েছে বন্দরের রাজস্ব আয়ও।
মোংলা বন্দরের উপ-পরিচালক মো: মাকরুজ্জামান বলেন, মোংলা বন্দর এখন বহুমুখী উন্নয়নের কাজ চলছে। বর্তমান সরকারের প্রচেষ্টায় উন্নয়ন, অগ্রগতি আর অর্থনৈতিক সম্ভানা নিয়ে কাজ করছে সরকার। বেশ কযেকটি বড় বড় মেঘা প্রকল্পের কাজ চলছে। প্রকল্পগুলো শেষ হলে দক্ষিন-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। জাহাজ বাড়বে, বাড়বে পন্য আমদানী-রফতানীর সংখ্যা, বৃদ্ধি পাবে রাজস্ব। যা থেকে দেশের অর্থনীতিতেও বড় অবদান রাখবে মোংলা সমুদ্র বন্দর।