বৃহস্পতিবার, ০৮ জানুয়ারী ২০২৬, ২৪ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সিরাজগঞ্জ তাড়াশে সাত সড়কের কাজ অসম্পূর্ণ, জনভোগান্তি বাড়ছে

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি 
সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের আওতাধীন সাতটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের নির্মাণ ও সংস্কারকাজ দীর্ঘদিন ধরে অসম্পূর্ণ থাকায় জনদুর্ভোগ বাড়ছে। আংশিক কাজ শেষ করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোর কাজ বন্ধ থাকায় সড়কগুলো চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এতে স্থানীয়দের যাতায়াত, পণ্য পরিবহন ও কৃষিকাজে বিঘ্ন ঘটছে।
এলজিইডি সূত্রে জানা যায়, ২০২৪–২৫ অর্থবছরে তাড়াশ উপজেলায় সড়ক নির্মাণ ও সংস্কারের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়। এর আওতায় চাঁদপুর–নামা সিলোট সড়ক নির্মাণে মেসার্স সার্চ ট্রেডিং ২ কোটি ৯৮ লাখ টাকা, বিনোদপুর–কুসুম্বী–বিনসাড়া সড়ক সংস্কারে হাসনা কনস্ট্রাকশন ১ কোটি ৪২ লাখ টাকা, নওগাঁ মাজার রোড টু রঙমহল সড়ক সংস্কারে মেসার্স সাব্বির কনস্ট্রাকশন ৬৬ লাখ ১১ হাজার টাকা, উলিপুর–চকজয়কৃষ্ণপুর সড়ক নির্মাণে মেসার্স রাইয়ান কনস্ট্রাকশন ৪৬ লাখ ৫ হাজার টাকা, সরাতলা–মাধাইনগর–মাদারজানি সড়ক নির্মাণে ওশান এন্টারপ্রাইজ ৫ কোটি ৩৩ লাখ টাকা, বিনোদপুর–খড়খড়িয়া সড়ক নির্মাণে একই প্রতিষ্ঠান ২ কোটি ৪৫ লাখ টাকা এবং হেদার খাল–কুন্দাইল–ধাপতেতুলিয়া সড়ক নির্মাণে নিশিত বসু অ্যান্ড মীম ডেভেলপমেন্ট ৯ কোটি ৩৪ লাখ টাকার কার্যাদেশ পায়।
সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা গেছে, কোনো কোনো সড়কে অর্ধেক কাজ সম্পন্ন হলেও কোথাও সামান্য অংশ শেষ করে তা ফেলে রাখা হয়েছে। কয়েকটি সড়কে কার্পেটিং তুলে কিংবা খোয়া বিছিয়ে দীর্ঘদিন কাজ বন্ধ থাকায় সেগুলো আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এলজিইডির পক্ষ থেকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার জন্য একাধিকবার তাগিদ দেওয়া হলেও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের কার্যকর সাড়া পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে কিছু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে উপজেলা প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে অতিরিক্ত অর্থ দাবি সংক্রান্ত অভিযোগ তোলা হয়েছে। অপরদিকে উপজেলা প্রকৌশলী এসব অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছেন, কাজ বন্ধ রাখা ঠিকাদারদের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক পদক্ষেপের প্রক্রিয়া চলছে।
অসম্পূর্ণ সড়কগুলোর কারণে সংশ্লিষ্ট এলাকার সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়ত ভোগান্তির মুখে পড়ছেন। স্থানীয় পর্যায়ে দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের চিহ্নিত করা এবং সড়কগুলো দ্রুত চলাচলের উপযোগী করার দাবি উঠেছে। এ অবস্থায় প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি ও তদারকি জোরদারের প্রয়োজনীয়তা গুরুত্ব পাচ্ছে।
জনপ্রিয়

বিএনপি জনগণের ভোটে ক্ষমতায় যেতে চায়, পেছনের দরজা দিয়ে নয়: ডা. শাহাদাত 

সিরাজগঞ্জ তাড়াশে সাত সড়কের কাজ অসম্পূর্ণ, জনভোগান্তি বাড়ছে

প্রকাশের সময় : ০৩:২৫:১৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ জানুয়ারী ২০২৬
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি 
সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের আওতাধীন সাতটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের নির্মাণ ও সংস্কারকাজ দীর্ঘদিন ধরে অসম্পূর্ণ থাকায় জনদুর্ভোগ বাড়ছে। আংশিক কাজ শেষ করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোর কাজ বন্ধ থাকায় সড়কগুলো চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এতে স্থানীয়দের যাতায়াত, পণ্য পরিবহন ও কৃষিকাজে বিঘ্ন ঘটছে।
এলজিইডি সূত্রে জানা যায়, ২০২৪–২৫ অর্থবছরে তাড়াশ উপজেলায় সড়ক নির্মাণ ও সংস্কারের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়। এর আওতায় চাঁদপুর–নামা সিলোট সড়ক নির্মাণে মেসার্স সার্চ ট্রেডিং ২ কোটি ৯৮ লাখ টাকা, বিনোদপুর–কুসুম্বী–বিনসাড়া সড়ক সংস্কারে হাসনা কনস্ট্রাকশন ১ কোটি ৪২ লাখ টাকা, নওগাঁ মাজার রোড টু রঙমহল সড়ক সংস্কারে মেসার্স সাব্বির কনস্ট্রাকশন ৬৬ লাখ ১১ হাজার টাকা, উলিপুর–চকজয়কৃষ্ণপুর সড়ক নির্মাণে মেসার্স রাইয়ান কনস্ট্রাকশন ৪৬ লাখ ৫ হাজার টাকা, সরাতলা–মাধাইনগর–মাদারজানি সড়ক নির্মাণে ওশান এন্টারপ্রাইজ ৫ কোটি ৩৩ লাখ টাকা, বিনোদপুর–খড়খড়িয়া সড়ক নির্মাণে একই প্রতিষ্ঠান ২ কোটি ৪৫ লাখ টাকা এবং হেদার খাল–কুন্দাইল–ধাপতেতুলিয়া সড়ক নির্মাণে নিশিত বসু অ্যান্ড মীম ডেভেলপমেন্ট ৯ কোটি ৩৪ লাখ টাকার কার্যাদেশ পায়।
সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা গেছে, কোনো কোনো সড়কে অর্ধেক কাজ সম্পন্ন হলেও কোথাও সামান্য অংশ শেষ করে তা ফেলে রাখা হয়েছে। কয়েকটি সড়কে কার্পেটিং তুলে কিংবা খোয়া বিছিয়ে দীর্ঘদিন কাজ বন্ধ থাকায় সেগুলো আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এলজিইডির পক্ষ থেকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার জন্য একাধিকবার তাগিদ দেওয়া হলেও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের কার্যকর সাড়া পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে কিছু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে উপজেলা প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে অতিরিক্ত অর্থ দাবি সংক্রান্ত অভিযোগ তোলা হয়েছে। অপরদিকে উপজেলা প্রকৌশলী এসব অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছেন, কাজ বন্ধ রাখা ঠিকাদারদের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক পদক্ষেপের প্রক্রিয়া চলছে।
অসম্পূর্ণ সড়কগুলোর কারণে সংশ্লিষ্ট এলাকার সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়ত ভোগান্তির মুখে পড়ছেন। স্থানীয় পর্যায়ে দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের চিহ্নিত করা এবং সড়কগুলো দ্রুত চলাচলের উপযোগী করার দাবি উঠেছে। এ অবস্থায় প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি ও তদারকি জোরদারের প্রয়োজনীয়তা গুরুত্ব পাচ্ছে।