
ইরানে বিক্ষোভ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে দেশ ছেড়ে রাশিয়ার মস্কোতে আশ্রয় নেওয়ার একটি বিকল্প পরিকল্পনা (প্ল্যান বি) প্রস্তুত রেখেছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। একটি পশ্চিমা গোয়েন্দা প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে এই খবর জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টাইমস।
প্রতিবেদনে বলা হয়, নিরাপত্তা বাহিনী যদি বিক্ষোভ দমনে ব্যর্থ হয় বা খামেনির প্রতি আনুগত্য হারায়, সেই পরিস্থিতিতে খামেনি তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী, পরিবারের সদস্য ও সর্বোচ্চ ২০ জনের একটি ছোট দল নিয়ে ইরান ত্যাগ করে মস্কোতে আশ্রয় নেওয়ার পরিকল্পনা করেছেন। এই দলে তার পুত্র ও সম্ভাব্য উত্তরাধিকারী মোজতবা খামেনিও রয়েছেন।
গোয়েন্দা সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে দ্য টাইমস আরও জানায়, খামেনি ও তার ঘনিষ্ঠ মহল ইতিমধ্যে তেহরান ছাড়ার একটি নির্দিষ্ট ‘এক্সিট রুট’ চিহ্নিত করেছেন। একই সঙ্গে তারা বিদেশে থাকা সম্পদ, সম্পত্তি এবং নগদ অর্থ জোগাড় করার উদ্যোগ নিয়েছেন, যাতে প্রয়োজনে দ্রুত ও নিরাপদে দেশত্যাগ করা সম্ভব হয়।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, চলতি বছরের জুনে ইসরাইলের সঙ্গে টানা ১২ দিনের সংঘাতের পর খামেনি শারীরিক ও মানসিকভাবে আগের তুলনায় দুর্বল হয়ে পড়েছেন। পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থার তৈরি মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণে তাকে ‘প্যারানয়েড’ বা অতিমাত্রায় সন্দেহপ্রবণ নেতা হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। এই বৈশিষ্ট্যই তাকে সম্ভাব্য পালানোর পরিকল্পনা নিতে উদ্বুদ্ধ করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
গোয়েন্দা বিশ্লেষণে বলা হয়, আদর্শগতভাবে খামেনি অত্যন্ত দৃঢ় হলেও বর্তমান পরিস্থিতি মূল্যায়নে তিনি যথেষ্ট বাস্তববাদী। দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য অর্জনের জন্য কৌশলগত সমঝোতায় তিনি বিশ্বাস করেন এবং নিজেকে একজন দীর্ঘমেয়াদি চিন্তক হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছেন।
ইরানে চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা ও জনবিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে এই প্রতিবেদন নতুন করে দেশটির ক্ষমতার ভারসাম্য ও ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক 







































