
সেভ দ্য রোড-এর দাবি অনুযায়ী প্রতি ৩ কিলোমিটারে পুলিশ বুথ বা ওয়াচ টাওয়ার স্থাপন না করা ও হাইওয়ে পুলিশসহ জেলা-উপজেলা পর্যায়ের পুলিশ-প্রশাসনের দায়িত্বে অবহেলার কারণে সড়কপথে গত ১৭ মাসে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে ৪১১ টি, এতে ডাকাতদের হামলায় আহত ২৫৭ এবং নিহত হয়েছেন ২ জন। এছাড়াও নৌ, সড়ক ও রেলপথে নারী শ্লীলতাহানীর ঘটনা ঘটেছে ৮২৫ টি, ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে ১৫ টি। যার অধিকাংশই থানা-পুলিশের স্মরণাপন্ন হয়ানি বলে প্রত্যক্ষদর্শী ও সেভ দ্য রোড-এর স্বেচ্ছাসেবিদের তথ্যে উঠে এসেছে। নৌপথে কোস্টগার্ড ও নৌপুলিশের দায়িত্ব অবহেলার সুযোগে অন্যান্য বছরের তুলনায় ডাকাতি বেড়েছে। ২১৬ টি ডাকাতির ঘটনায় সর্বশেষ ১৮৮ জন আহত ও ১ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়াও সড়ক- রেল ও নৌপথে প্রতিনিয়ত ছিনতাইয়ের ঘটনা বেড়েই চলছে। গত ১৭ মাসে সারাদেশে ১৭ হাজার ৪১২ টিরও বেশি ছিনতাই ঘটনা ঘটেছে বলেও জানানো হয় এই প্রতিবেদনে। সেই সাথে জানানো হয়- ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত- নৌপথে ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটেছে ২০৫২ টি। আহত ১৭৫৪ জন, নিহত হয়েছেন ১৮৭ জন এবং নিখোঁজ আছেন ৪৬ জন; রেলপথে ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটেছে ১১০৬ টি। আহত হয়েছে ১০৭৬ জন, নিহত হয়েছে ৪৯২ জন; আকাশপথে ১ টি দুর্ঘটনায় ৩৬ জন নিহত এবং ১৭২ জন আহত হন। সেই সাথে বিমানবন্দরের কর্মরতদের দ্বারায় হয়রানি, নির্যাতন ও হেনস্থার শিকার হয়েছেন ১৭ জন।
নতুন করে বছর বছর দাবি বা সুপারিশ উপস্থাপন না করে, সেভ দ্য রোড গত ১৮ বছর যাবৎ ৪ পথ দুর্ঘটনামুক্ত করতে ৭ দফা দাবি নিয়ে কাজ করছে। ৭ দফা- ১. মিরেরসরাই ট্রাজেডিতে নিহত অর্ধশত শিক্ষার্থীর স্মরণে ১১ জুলাইকে ‘দুর্ঘটনামুক্ত পথ দিবস’ ঘোষণা ও পঞ্চম শ্রেণি থেকে উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত পাঠ্যবইয়ে সড়ক, রেল, নৌ ও আকাশপথে চলাচলের নিয়ম-নীতি যুক্ত করতে হবে। ২. ৩ কিলোমিটার অন্তর পুলিশ বুথ স্থাপন, প্রতিটি সড়ক সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা, সড়ক প্রশস্থ করার পাশাপাশি ফুটপাত দখলমুক্ত করে যাত্রীদের চলাচলের সুবিধা দিতে হবে। ৩. সড়ক পথে ধর্ষণ-হয়রানি রোধে ফিটনেস বিহীন বাহন নিষিদ্ধ এবং কমপক্ষে অষ্টম শ্রেণি উত্তীর্ণ ও জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যতিত চালক-সহযোগি নিয়োগ ও হেলপারদ্বারা পরিবহন চালানো বন্ধে সংশ্লিষ্ট সকলকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। ৪. সড়ক-নৌ-রেল ও আকাশ পথ দূর্ঘটনায় নিহতদের কমপক্ষে ১০ লাখ ও আহতদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত ও ৩ লাখ টাকা সরকারীভাবে দিতে হবে। ৫. ‘ট্রান্সপোর্ট ওয়ার্কার্স রুল’ বাস্তবায়নের পাশাপাশি সত্যিকারের সম্মৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষে ‘ট্রান্সপোর্ট পুলিশ ব্যাটালিয়ন’ বাস্তবায়ন করতে হবে। ৬. পথ দূর্ঘটনার তদন্ত ও সাজা ত্বরান্বিত করণের মধ্য দিয়ে সতর্কতা তৈরি করতে হবে এবং ট্রান্সপোর্ট পুলিশ ব্যাটালিয়ন গঠনের পূর্ব পর্যন্ত হাইওয়ে পুলিশ, নৌ পুলিশ সহ সংশ্লিষ্টদের আন্তরিকতা-সহমর্মিতা-সচেতনতার পাশাপাশি সকল পথের চালক-শ্রমিক ও যাত্রীদের আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে। সকল পরিবহন চালকের লাইসেন্স থাকতে হবে। ৭. ইউলুপ বৃদ্ধি, পথ-সেতুসহ সংশ্লিষ্ট সকল মন্ত্রণালয়ে দূর্নীতি প্রতিরোধে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। যাতে ভাঙা পথ, ভাঙা সেতু আর ভাঙা কালভার্টের কারণে আর কোন প্রাণ দিতে না হয়। উল্লেখ্য, ‘সেভ দ্য রোড-এর অঙ্গীকার পথ দূর্ঘটনা থাকবে না আর…’ স্লোগানকে সামনে রেখে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের টিএসসি থেকে ২০০৭ সালের ১৪ আগস্ট প্রাথমিক ও ২৮ আগস্ট আনুষ্ঠানিকভাবে পথচলা শুরু করে আকাশ-সড়ক- রেল ও নৌপথ দুর্ঘটনামুক্ত করার জন্য নিবেদিত দেশের একমাত্র সচেতনতা-গবেষণা ও স্বেচ্ছাসেবি সংগঠন সেভ দ্য রোড। সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন সেভ দ্য রোড-এর চেয়ারম্যান শ্রদ্ধাজন মো. আখতারুজ্জামান, প্রতিষ্ঠাতা ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান মোমিন মেহেদী, মহাসচিব শান্তা ফারজানা, ভাইস চেয়ারম্যান বিকাশ রায়, সোনিয়া দেওয়ান প্রীতি, সমাজসেবি ও পথবন্ধু আনিসুর রহমান মাস্টার, সাংগঠনিক সম্পাদক মহিদুল মল্লিক প্রমুখ।
নিজস্ব প্রতিবেদক 






































