
যশোর অফিস
যশোর জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি এহসানুল হক মুন্না ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। শনিবার দিবাগত রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে শহরের লাল দিঘিপাড়াস্থ নিজ বাসভবনে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৫৬ বছর।
তিনি মা, স্ত্রী,এক ছেলে,এক ভাই, দুই বোনসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তার মৃত্যুতে যশোরে বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
এহসানুল হক মুন্নার মৃত্যুর সংবাদ শুনে শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাতে তার বাসভবনে যান বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক নার্গিস বেগম, দলের জাতীয় নির্বাহী কমিটির ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক (খুলনা বিভাগ) অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এবং দৈনিক লোকসমাজ পত্রিকার প্রকাশক শান্তনু ইসলাম সুমিত।
মৃতের ভাই এহতেশামুল হক পাপ্পু জানান, আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীদের হামলায় এহসানুল হক মুন্না ফুসফুসে গুলিবিদ্ধ হন। এরপর থেকে তিনি আর সুস্থ জীবনে ফিরতে পারেননি। দলীয় সূত্র জানায়,স্বৈরাচার এরশাদবিরোধী আন্দোলনে যশোরের রাজপথে তিনি তেজস্বী ভূমিকা পালন করেন। পরবর্তীতে ১৯৯৯ সালে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে জনদাবি আদায়ের আন্দোলনে আওয়ামী সন্ত্রাসীদের গুলিতে তার ফুসফুস আক্রান্ত হয়।
এহসানুল হক মুন্না জেলা বিএনপির যুববিষয়ক সম্পাদক,জেলা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং সদর উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি দলের কর্মী গড়ার একজন দক্ষ সংগঠক হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
রোববার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে তার মরদেহ জেলা বিএনপি কার্যালয়ে নেওয়া হয়। সেখানে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক নার্গিস বেগম ও জাতীয় নির্বাহী কমিটির ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত তার কফিনে দলীয় পতাকা মুড়িয়ে দেন এবং কেন্দ্রীয় বিএনপির পক্ষে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এ সময় জেলা বিএনপি, নগর বিএনপি, সদর উপজেলা বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদল, মৎস্যজীবী দলসহ বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ শ্রদ্ধা জানান।
শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে মরদেহ নেওয়া হয় চাঁচড়া ডাল মিল মসজিদ প্রাঙ্গণে। সেখানে বাদ জোহর তার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজার আগে বক্তব্য রাখেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত,জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবুসহ নেতৃবৃন্দ।
জানাজায় জেলা বিএনপি ও বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং সর্বস্তরের মানুষ অংশ নেন। জানাজা শেষে তাকে চাঁচড়া রাজবাড়ী কবরস্থানে দাফন করা হয়।
এহসানুল হক মুন্নার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক নার্গিস বেগম ও দলের জাতীয় নির্বাহী কমিটির ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।এক শোকবার্তায় তারা বলেন,শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শে বিশ্বাসী এহসানুল হক মুন্না যশোরে যুবদলকে শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড় করিয়েছিলেন। তার মৃত্যুতে দলের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। তারা মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন।
যশোর অফিস 






































