সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬, ২৯ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

কালীগঞ্জে টিআর-কাবিটা প্রকল্প যেন টাকা বানানোর মেশিন

মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফা, লালমনিরহাট প্রতিনিধিঃ
লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলায় ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরের টিআর,কাবিখা ও কাবিটা কর্মসূচির অধীনে বাস্তবায়িত প্রকল্পে বিস্তর অনিয়ম । প্রকল্পের কোথাও অর্ধেক বা সিকিভাগ এবং কোথাও কাজ না করেই বরাদ্দের সিংহভাগ টাকা আত্মসাৎ করেছে প্রকল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা।  তাছাড়া কিছু কিছু প্রকল্প আছে কেবল কাগজে-কলমে। বাস্তবে কাজের কোন অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায় নি। প্রকল্পের কাজে তদারকির সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তারাও এই অনিয়মের সাথে জড়িত। তদন্ত করলেই বেড়িয়ে আসবে এসব প্রকল্পের ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির চিত্র।
সরেজমিনে অনুসন্ধানকালে জানা যায়, প্রতি অর্থবছরে টিআর ও কাবিটা-কাবিখা সংস্কার কর্মসূচির অধীনে গ্রামীণ পর্যায়ে বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নে নগদ টাকা ও খাদ্যশস্য বরাদ্দ দেয় সরকার। এসব বরাদ্দে সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যানদের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রকল্প গ্রহণ এবং বাস্তবায়ন করা হয়। এ কাজের তদারকি করেন সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রশাসন ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা। কিন্তু তদারককারী ও বাস্তবায়নকারীদের গড়িমসিতে বেশ কয়েকটি প্রকল্পের কাজ হয়েছে শুধু কাগজে কলমে ।
বাংলাদেশ সরকারের হাতে গোনা কয়েকটি দপ্তরের মধ্যে সরকারের উন্নয়নের ভাবমূর্তি নির্ভর করে যেসব দপ্তর তার মধ্যে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার দপ্তর।
পিআইও মাজহানুর রহমান উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ  একটি দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হয়ে এই উপজেলায় যোগদানের পর অনিয়ম করেই যাচ্ছেন।
জানা যায়, ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরের উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে ১ম ও ২য় এবং তৃতীয় কিস্তিতে টিআর,,কাবিখা-কাবিটা  প্রকল্পের আওতায় যে সকল প্রকল্প বরাদ্দ দেয়া হয়েছে যার  বেশিরভাগ  প্রকল্পে কাজ হয়েছে নামমাত্র ।
সরজমিনে দেখা যায়, গত ২০২৪-২০২৫ অর্থ বছরে তৃতীয় কিস্তিতে কাবিটা কর্মসূচীর আওতায় উপজেলার ১ নং ভোটমারী ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের খান্নুন এর বাড়ী হইতে নুরইসলাম মাষ্টারের বাড়ী পযন্ত ১০০ মিটার রাস্তা এইচবিবি করন কাজে বরাদ্দ দেয়া হয় ৩ লক্ষ টাকা। প্রকল্পটি শুধু কাগজে কলমে বাস্তবায়ন দেখিয়ে বরাদ্দের টাকা উত্তোলন করা হয়েছে।  বাস্তবে কোন কাজ করা হয়নি। তবে মজার বিষয় হচ্ছে ওই প্রকল্প স্থানে পুর্বের এইচবিবি করন কাজ করাই ছিলো। পুর্বের করা প্রকল্প দেখিয়ে বরাদ্দের টাকা আত্মসাত করার পায়তারা করেছিলো প্রকল্পের সংঙ্গে সংশ্লিষ্টরা । ২ নং মদাতী ইউনিয়নে টিআর কর্মসূচীর আওতায় পরিত্যাক্ত একটি প্রতিষ্ঠান ৩ নং ওয়ার্ডের  তালুক শাখাতী হযরত আলী রাহমাহতুল্লাহ হাফিজিয়া মাদরাসা সংস্কারে বরাদ্দ দেয়া হয় ১ লক্ষ ৭৫ হাজার টাকা। সেখানে কাজ হয়েছে নামমাত্র। মজার বিষয় ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে ওই একই প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তন করে তালুক শাখাতী হযরত আলী (রাঃ) কওমী মাদরাসা নাম দিয়ে প্রকল্পের বরাদ্দ দেয়া হয় ১ লক্ষ ৪৪ হাজার টাকা।কাজ হয়েছে নামমাত্র। ওই প্রকল্পের সভাপতির দেয়া তথ্যমতে প্রতিষ্ঠানটি পরিত্যাক্ত। একই ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডে হেতেনের বাড়ীর তিপুতি হইতে ব্রাক্ষণপাড়া কালীমন্দির পযন্ত ৪৩০ মিটার রাস্তা সংস্কারে বরাদ্দ দেয়া হয় ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা যার কোন কাজই করা হয়নি কিন্ত বিল উত্তোলন হয়েছে। গোড়ল ইউনিয়নের গোড়ল দাখিল মাদরাসা উন্নয়নে বরাদ্দ দেয়া হয় ২ লক্ষ ৩৩ হাজার ৫শত টাকা, কাজ করা হয়েছে ১০ টি টিন ও ৬ টি চিকন সিরি দিয়ে একটি চালা। বাকী টাকা প্রকল্পের সাথে সংশ্লিষ্টদের পকেটে। একই ইউনিয়নের গোড়ল ৮ নং ওয়ার্ডের ভাল্লাটারী হতে সিএমএস স্কুল পযন্ত ৭৫০ মিটার রাস্তায় মাটি কাটা বরাদ্দ ৩ লক্ষ ৬৭ হাজার ৮শত টাকা। বরাদ্দের টাকা উত্তোলন হলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। চলবলা ইউনিয়ন পরিষদের গেট নির্মাণে বরাদ্দ দেয়া হয় ৪ লক্ষ টাকা। প্রকল্পের সভাপতি মর্জিনা বেগম এবং অত্র ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান আলাল উদ্দিন বরাদ্দের টাকা উত্তোলন করেছেন কিন্তু প্রকল্পের কাজ করেছেন আংশিক । কাকিনা ৩ নং ওয়ার্ডের কাজীর হাট ওয়াব্দা বাধ লোকমানের বাড়ী হতে বেলালের বাড়ী পযন্ত ৩৫০ মিটার রাস্তা সংস্কারে বরাদ্দ দেয়া হয় ৩  লক্ষ ৫০ হাজার ২শত ৫৮ টাকা। কাজ হয়েছে নামমাত্র। তবুও উত্তোলন হয়েছে বরাদ্দের পুরো টাকা।
প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার দেয়া তথ্য মতে,চলতি ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে প্রথম কিস্তিতে উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে টিআর প্রকল্প-৫৩ টি,কাবিখা প্রকল্প-২৪টি এবং কাবিটা প্রকল্প-৪২টির কাজ চলমান রয়েছে। এসকল প্রকল্পের কাজের শেষ সময় ছিল ৩১ ডিসেম্বর। তবে এ রিপোর্ট লেখা পযন্ত অনেক প্রকল্পের কাজ আজও রয়েছে কাগজে কলমে।
এ বিষয় উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা  মাজহানুর রহমান বলেন, ২০২৪-২০২৫ অর্থ বছরের সকল প্রকল্পের কাজ দেখে বিল প্রদান করা হয়েছে। ভোটমারী ৮ নং ওয়ার্ডের একটি এইচবিবি করণ পুর্বের করা কাজ দেখিয়ে ৩ লক্ষ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয় এবং বরাদ্দের অর্থ উত্তোলনও করা হয় এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ওই প্রকল্পের কাজ করা হবে। অপরদিকে মদাতী ইউনিয়নের পরিত্যাক্ত একটি প্রতিষ্ঠানের ভিন্ন ভিন্ন নাম দেখিয়ে পর পর দুইবার বরাদ্দ কিভাবে পায়? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি পরিত্যাক্ত প্রতিষ্ঠানটির ভিন্ন ভিন্ন নাম দেখিয়ে বরাদ্দ পাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, নাম পরিবর্তন করে বরাদ্দ অবশ্যই পেতে পারে তবে কাজ করেছে আবার করবে বলেও জানান তিনি।
এ বিষয় নবাগত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামিমা আক্তার জাহান বলেন, আমি এ উপজেলায় নতুন যোগদান করেছি, প্রকল্পের বিষয় আমি সঠিক বলতে পারবো না। তবে যেসকল প্রকল্পের কাজ হয়নি সেই সকল প্রকল্পের তথ্যগুলো দিলে আমি বিষয়টি দেখবো।
জনপ্রিয়

নির্বাচনে বিশ্বাস ফেরানোই আমাদের মূল লক্ষ্য: বিভাগীয় কমিশনার

কালীগঞ্জে টিআর-কাবিটা প্রকল্প যেন টাকা বানানোর মেশিন

প্রকাশের সময় : ০১:৪১:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬
মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফা, লালমনিরহাট প্রতিনিধিঃ
লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলায় ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরের টিআর,কাবিখা ও কাবিটা কর্মসূচির অধীনে বাস্তবায়িত প্রকল্পে বিস্তর অনিয়ম । প্রকল্পের কোথাও অর্ধেক বা সিকিভাগ এবং কোথাও কাজ না করেই বরাদ্দের সিংহভাগ টাকা আত্মসাৎ করেছে প্রকল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা।  তাছাড়া কিছু কিছু প্রকল্প আছে কেবল কাগজে-কলমে। বাস্তবে কাজের কোন অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায় নি। প্রকল্পের কাজে তদারকির সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তারাও এই অনিয়মের সাথে জড়িত। তদন্ত করলেই বেড়িয়ে আসবে এসব প্রকল্পের ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির চিত্র।
সরেজমিনে অনুসন্ধানকালে জানা যায়, প্রতি অর্থবছরে টিআর ও কাবিটা-কাবিখা সংস্কার কর্মসূচির অধীনে গ্রামীণ পর্যায়ে বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নে নগদ টাকা ও খাদ্যশস্য বরাদ্দ দেয় সরকার। এসব বরাদ্দে সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যানদের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রকল্প গ্রহণ এবং বাস্তবায়ন করা হয়। এ কাজের তদারকি করেন সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রশাসন ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা। কিন্তু তদারককারী ও বাস্তবায়নকারীদের গড়িমসিতে বেশ কয়েকটি প্রকল্পের কাজ হয়েছে শুধু কাগজে কলমে ।
বাংলাদেশ সরকারের হাতে গোনা কয়েকটি দপ্তরের মধ্যে সরকারের উন্নয়নের ভাবমূর্তি নির্ভর করে যেসব দপ্তর তার মধ্যে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার দপ্তর।
পিআইও মাজহানুর রহমান উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ  একটি দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হয়ে এই উপজেলায় যোগদানের পর অনিয়ম করেই যাচ্ছেন।
জানা যায়, ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরের উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে ১ম ও ২য় এবং তৃতীয় কিস্তিতে টিআর,,কাবিখা-কাবিটা  প্রকল্পের আওতায় যে সকল প্রকল্প বরাদ্দ দেয়া হয়েছে যার  বেশিরভাগ  প্রকল্পে কাজ হয়েছে নামমাত্র ।
সরজমিনে দেখা যায়, গত ২০২৪-২০২৫ অর্থ বছরে তৃতীয় কিস্তিতে কাবিটা কর্মসূচীর আওতায় উপজেলার ১ নং ভোটমারী ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের খান্নুন এর বাড়ী হইতে নুরইসলাম মাষ্টারের বাড়ী পযন্ত ১০০ মিটার রাস্তা এইচবিবি করন কাজে বরাদ্দ দেয়া হয় ৩ লক্ষ টাকা। প্রকল্পটি শুধু কাগজে কলমে বাস্তবায়ন দেখিয়ে বরাদ্দের টাকা উত্তোলন করা হয়েছে।  বাস্তবে কোন কাজ করা হয়নি। তবে মজার বিষয় হচ্ছে ওই প্রকল্প স্থানে পুর্বের এইচবিবি করন কাজ করাই ছিলো। পুর্বের করা প্রকল্প দেখিয়ে বরাদ্দের টাকা আত্মসাত করার পায়তারা করেছিলো প্রকল্পের সংঙ্গে সংশ্লিষ্টরা । ২ নং মদাতী ইউনিয়নে টিআর কর্মসূচীর আওতায় পরিত্যাক্ত একটি প্রতিষ্ঠান ৩ নং ওয়ার্ডের  তালুক শাখাতী হযরত আলী রাহমাহতুল্লাহ হাফিজিয়া মাদরাসা সংস্কারে বরাদ্দ দেয়া হয় ১ লক্ষ ৭৫ হাজার টাকা। সেখানে কাজ হয়েছে নামমাত্র। মজার বিষয় ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে ওই একই প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তন করে তালুক শাখাতী হযরত আলী (রাঃ) কওমী মাদরাসা নাম দিয়ে প্রকল্পের বরাদ্দ দেয়া হয় ১ লক্ষ ৪৪ হাজার টাকা।কাজ হয়েছে নামমাত্র। ওই প্রকল্পের সভাপতির দেয়া তথ্যমতে প্রতিষ্ঠানটি পরিত্যাক্ত। একই ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডে হেতেনের বাড়ীর তিপুতি হইতে ব্রাক্ষণপাড়া কালীমন্দির পযন্ত ৪৩০ মিটার রাস্তা সংস্কারে বরাদ্দ দেয়া হয় ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা যার কোন কাজই করা হয়নি কিন্ত বিল উত্তোলন হয়েছে। গোড়ল ইউনিয়নের গোড়ল দাখিল মাদরাসা উন্নয়নে বরাদ্দ দেয়া হয় ২ লক্ষ ৩৩ হাজার ৫শত টাকা, কাজ করা হয়েছে ১০ টি টিন ও ৬ টি চিকন সিরি দিয়ে একটি চালা। বাকী টাকা প্রকল্পের সাথে সংশ্লিষ্টদের পকেটে। একই ইউনিয়নের গোড়ল ৮ নং ওয়ার্ডের ভাল্লাটারী হতে সিএমএস স্কুল পযন্ত ৭৫০ মিটার রাস্তায় মাটি কাটা বরাদ্দ ৩ লক্ষ ৬৭ হাজার ৮শত টাকা। বরাদ্দের টাকা উত্তোলন হলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। চলবলা ইউনিয়ন পরিষদের গেট নির্মাণে বরাদ্দ দেয়া হয় ৪ লক্ষ টাকা। প্রকল্পের সভাপতি মর্জিনা বেগম এবং অত্র ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান আলাল উদ্দিন বরাদ্দের টাকা উত্তোলন করেছেন কিন্তু প্রকল্পের কাজ করেছেন আংশিক । কাকিনা ৩ নং ওয়ার্ডের কাজীর হাট ওয়াব্দা বাধ লোকমানের বাড়ী হতে বেলালের বাড়ী পযন্ত ৩৫০ মিটার রাস্তা সংস্কারে বরাদ্দ দেয়া হয় ৩  লক্ষ ৫০ হাজার ২শত ৫৮ টাকা। কাজ হয়েছে নামমাত্র। তবুও উত্তোলন হয়েছে বরাদ্দের পুরো টাকা।
প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার দেয়া তথ্য মতে,চলতি ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে প্রথম কিস্তিতে উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে টিআর প্রকল্প-৫৩ টি,কাবিখা প্রকল্প-২৪টি এবং কাবিটা প্রকল্প-৪২টির কাজ চলমান রয়েছে। এসকল প্রকল্পের কাজের শেষ সময় ছিল ৩১ ডিসেম্বর। তবে এ রিপোর্ট লেখা পযন্ত অনেক প্রকল্পের কাজ আজও রয়েছে কাগজে কলমে।
এ বিষয় উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা  মাজহানুর রহমান বলেন, ২০২৪-২০২৫ অর্থ বছরের সকল প্রকল্পের কাজ দেখে বিল প্রদান করা হয়েছে। ভোটমারী ৮ নং ওয়ার্ডের একটি এইচবিবি করণ পুর্বের করা কাজ দেখিয়ে ৩ লক্ষ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয় এবং বরাদ্দের অর্থ উত্তোলনও করা হয় এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ওই প্রকল্পের কাজ করা হবে। অপরদিকে মদাতী ইউনিয়নের পরিত্যাক্ত একটি প্রতিষ্ঠানের ভিন্ন ভিন্ন নাম দেখিয়ে পর পর দুইবার বরাদ্দ কিভাবে পায়? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি পরিত্যাক্ত প্রতিষ্ঠানটির ভিন্ন ভিন্ন নাম দেখিয়ে বরাদ্দ পাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, নাম পরিবর্তন করে বরাদ্দ অবশ্যই পেতে পারে তবে কাজ করেছে আবার করবে বলেও জানান তিনি।
এ বিষয় নবাগত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামিমা আক্তার জাহান বলেন, আমি এ উপজেলায় নতুন যোগদান করেছি, প্রকল্পের বিষয় আমি সঠিক বলতে পারবো না। তবে যেসকল প্রকল্পের কাজ হয়নি সেই সকল প্রকল্পের তথ্যগুলো দিলে আমি বিষয়টি দেখবো।