মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬, ৩০ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

কুলাউড়া সরকারি কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের ফ্রান্সে মিলনমেলা

তিমির বনিক,মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:
ফ্রান্সে বসবাসরত মৌলভীবাজারের কুলাউড়া সরকারি কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে এক ব্যতিক্রম ধর্মী মিলনমেলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্থানীয় সময় শনিবার (১০ই জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টায় প্যারিসের নিকটবর্তী ওভারভিলিয়ের একটি অভিজাত হলে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে নারী–পুরুষ, শিশু–কিশোরসহ বিভিন্ন প্রজন্মের নানান বয়সী প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে এক মিলন মেলায় পরিণত হয় উৎসবের রঙিন প্রাঙ্গণে।
শিক্ষাজীবনের স্মৃতি, বন্ধুত্ব আর শেকড়ের টানে ফ্রান্সের নানান প্রান্ত থেকে প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা মিলিত হন এই আয়োজনে। দলমত নির্বিশেষে সবার অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানটি ছিল পরিপাটি, প্রাণবন্ত ও আবেগঘন মুহূর্ত। এক মুহূর্তের জন্য যেন প্যারিস শহরেই ফিরে পেয়েছিল কুলাউড়া সরকারি কলেজের ক্যাম্পাস, আনন্দের বন্যা আর ভালোবাসার জোয়ারে ভাসছিল পুরো পরিবেশ ও অনুষ্ঠানস্থল।
অনুষ্ঠানটি যৌথভাবে উপস্থাপনা করেন সঙ্গীতশিল্পী সুমা দাস, মো. লুৎফর রহমান বাবু ও আহমেদ জুনেদ ফারহান। সূচনায় আরশী বড়ুয়ার ভায়োলিনে পরিবেশিত বাংলাদেশের জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন উপস্থিত দর্শকরা। পরে কলেজের প্রয়াত শিক্ষকদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা ও দোয়া কামনা করা হয়।
স্বাগত বক্তব্যে কলেজের প্রাক্তন সিনিয়র শিক্ষার্থী সাব্বির আহমেদ চৌধুরী প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে কলেজের মানোন্নয়নে অবদান রাখা শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান এবং মিলনমেলায় অংশগ্রহণকারী প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও অতিথিদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।
অনুষ্ঠানের প্রথম পর্বে স্মৃতিচারণমূলক বক্তব্য দেন লুলু আহমেদ, মো. মিরজান আলী, আতিকুর রহমান, অজয় দাশ, হাসান সিরাজ, কিশোর দে ও সিপার আহমদ। দ্বিতীয় পর্বে বক্তব্য রাখেন হেপী দে, আবুল কালাম মামুন, পারভেজ রশিদ খান, আব্দুর রহমান,মনধীর কুমার বসু, সামাদ খান রাজু, হাফিজুর রহমান, এম. আশরাফুর রহমান, লুৎফর রহমান শাহান শহিক ও জুয়েল মাহমুদ।
প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সম্মানার্থে উত্তরী ও ব্যাজ পরিয়ে দেন ফরাসি নাগরিক, আইটি পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের সভাপতি ও প্রকৌশলী সেবাস্তিয়ান কারিরিক রাই শিবাজি।
সাংস্কৃতিক পর্বে সঙ্গীত পরিবেশন করে দর্শকদের মুগ্ধ করেন প্রখ্যাত শিল্পী রাহুল আনন্দ ও সুমা দাস। রাহুল আনন্দের কণ্ঠে গানে গানে পুরো হল হয়ে ওঠে উচ্ছ্বাসমুখর—সকলের করতালিতে দর্শকরা শিল্পীর সুরে সাড়া দেন। বিশেষ নৃত্য পরিবেশন করেন জিএম শরিফুল ইসলাম ও তাঁর দল ‘সৃজনশীল নৃত্যাঙ্গন’। শিশু শিল্পীদের আবৃত্তিও অনুষ্ঠানে বাড়তি মাত্রা যোগ করে।
অনুষ্ঠানের বিশেষ মুহূর্তে সামাজিক, রাজনৈতিক ও কমিউনিটির বিশিষ্টজনেরা সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বলেন, ফ্রান্সে কুলাউড়া সরকারি কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের এই মিলনমেলা শুধু একটি অনুষ্ঠান নয়—এটি স্মৃতি, পরিচয় ও শেকড়ের সঙ্গে পুনঃসংযোগের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এমন মনোমুগ্ধকর আয়োজনে তাঁরা সত্যিই অভিভূত ও আনন্দঘন পরিবেশ ও প্রত্যেকের চেহাড়ায় ফুটে ওঠে বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস।
জনপ্রিয়

সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের মাধ্যমেই নির্ধারণ হবে দেশের ভবিষ্যৎ: প্রধান উপদেষ্টা

কুলাউড়া সরকারি কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের ফ্রান্সে মিলনমেলা

প্রকাশের সময় : ০৭:৫১:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬
তিমির বনিক,মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:
ফ্রান্সে বসবাসরত মৌলভীবাজারের কুলাউড়া সরকারি কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে এক ব্যতিক্রম ধর্মী মিলনমেলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্থানীয় সময় শনিবার (১০ই জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টায় প্যারিসের নিকটবর্তী ওভারভিলিয়ের একটি অভিজাত হলে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে নারী–পুরুষ, শিশু–কিশোরসহ বিভিন্ন প্রজন্মের নানান বয়সী প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে এক মিলন মেলায় পরিণত হয় উৎসবের রঙিন প্রাঙ্গণে।
শিক্ষাজীবনের স্মৃতি, বন্ধুত্ব আর শেকড়ের টানে ফ্রান্সের নানান প্রান্ত থেকে প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা মিলিত হন এই আয়োজনে। দলমত নির্বিশেষে সবার অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানটি ছিল পরিপাটি, প্রাণবন্ত ও আবেগঘন মুহূর্ত। এক মুহূর্তের জন্য যেন প্যারিস শহরেই ফিরে পেয়েছিল কুলাউড়া সরকারি কলেজের ক্যাম্পাস, আনন্দের বন্যা আর ভালোবাসার জোয়ারে ভাসছিল পুরো পরিবেশ ও অনুষ্ঠানস্থল।
অনুষ্ঠানটি যৌথভাবে উপস্থাপনা করেন সঙ্গীতশিল্পী সুমা দাস, মো. লুৎফর রহমান বাবু ও আহমেদ জুনেদ ফারহান। সূচনায় আরশী বড়ুয়ার ভায়োলিনে পরিবেশিত বাংলাদেশের জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন উপস্থিত দর্শকরা। পরে কলেজের প্রয়াত শিক্ষকদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা ও দোয়া কামনা করা হয়।
স্বাগত বক্তব্যে কলেজের প্রাক্তন সিনিয়র শিক্ষার্থী সাব্বির আহমেদ চৌধুরী প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে কলেজের মানোন্নয়নে অবদান রাখা শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান এবং মিলনমেলায় অংশগ্রহণকারী প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও অতিথিদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।
অনুষ্ঠানের প্রথম পর্বে স্মৃতিচারণমূলক বক্তব্য দেন লুলু আহমেদ, মো. মিরজান আলী, আতিকুর রহমান, অজয় দাশ, হাসান সিরাজ, কিশোর দে ও সিপার আহমদ। দ্বিতীয় পর্বে বক্তব্য রাখেন হেপী দে, আবুল কালাম মামুন, পারভেজ রশিদ খান, আব্দুর রহমান,মনধীর কুমার বসু, সামাদ খান রাজু, হাফিজুর রহমান, এম. আশরাফুর রহমান, লুৎফর রহমান শাহান শহিক ও জুয়েল মাহমুদ।
প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সম্মানার্থে উত্তরী ও ব্যাজ পরিয়ে দেন ফরাসি নাগরিক, আইটি পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের সভাপতি ও প্রকৌশলী সেবাস্তিয়ান কারিরিক রাই শিবাজি।
সাংস্কৃতিক পর্বে সঙ্গীত পরিবেশন করে দর্শকদের মুগ্ধ করেন প্রখ্যাত শিল্পী রাহুল আনন্দ ও সুমা দাস। রাহুল আনন্দের কণ্ঠে গানে গানে পুরো হল হয়ে ওঠে উচ্ছ্বাসমুখর—সকলের করতালিতে দর্শকরা শিল্পীর সুরে সাড়া দেন। বিশেষ নৃত্য পরিবেশন করেন জিএম শরিফুল ইসলাম ও তাঁর দল ‘সৃজনশীল নৃত্যাঙ্গন’। শিশু শিল্পীদের আবৃত্তিও অনুষ্ঠানে বাড়তি মাত্রা যোগ করে।
অনুষ্ঠানের বিশেষ মুহূর্তে সামাজিক, রাজনৈতিক ও কমিউনিটির বিশিষ্টজনেরা সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বলেন, ফ্রান্সে কুলাউড়া সরকারি কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের এই মিলনমেলা শুধু একটি অনুষ্ঠান নয়—এটি স্মৃতি, পরিচয় ও শেকড়ের সঙ্গে পুনঃসংযোগের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এমন মনোমুগ্ধকর আয়োজনে তাঁরা সত্যিই অভিভূত ও আনন্দঘন পরিবেশ ও প্রত্যেকের চেহাড়ায় ফুটে ওঠে বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস।