শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৯ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

২০ বছরেও সংস্কারের ছোঁয়া লাগেনি আবাসন প্রকল্পে, দুর্ভোগে বাসিন্দারা 

রাজবাড়ী প্রতিবেদক 
ভূমিহীন দুস্থ মানুষের জন্য প্রায় বিশ বছর আগে রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার বহরপুর ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডে বারুগ্রাম নির্মান করা হয় আবাসন প্রকল্পে। এত বছর পেরিয়ে গেলেও সংস্কারের ছোঁয়া লাগেনি এ প্রকল্পের, দুরবস্থার মধ্যে দিয়ে দিনাপার করছে আবাসনে বসবসরত কয়েক শত বাসিন্দা।
বিগত ২০০৬ সালে আবাসন প্রকল্প নির্মানের পর ১৮০টি ঘরে পরিবার বসবাস করতো। কিন্তু সংস্কারের অভাবে অধিকাংশ ঘরই বসবাস অনুপযোগী হয়েছে পড়ছে, একারণেই বর্তমান এ প্রকল্পে ৭০টি পরিবারে প্রায় ৩ শতাধিক মানুষ বসবাস করছে। প্রায় সকলেই ভূমিহীন ও নিম্ম আয়ের মানুষ।
আবাসনে বাসিন্দাদের সুপেয় পানির চাহিদা পূরনে তখন ১৬টি টিউবওয়েল স্থাপন করলেও বর্তমানে ব্যবহার উপযোগী মাত্র ৪টি টিউবওয়েল আছে  বাকিগুলো নষ্ট হয়ে পড়ে আছে।
প্রকল্পের একটিমাত্র প্রাথমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সেটিও দীর্ঘ ৬ বছরের অধিক সময় ধরে বন্ধ রয়েছে। ১৮টি সেডে ৭২টি শৌচাগার থাকলেও বর্তমানে অধিকাংশ ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে আছে। চলাচলের একমাত্র পথ সেটিও ভেঙে পড়েছে। একটুখানি বৃষ্টিতে ভোগান্তি পৌছে যায় চরমে।
প্রকল্পের বাসিন্দা সুফিয়া বেগম (৭০) বলেন, আমি প্রায় ১৮ বছর এখনে বসবাস করি। যখন বৃষ্টি আসে  তখন লেপতোশক গুছিয়ে বসে থাকি। চাল দিয়ে পানি পড়ে।
জরিনা বেগম (৬৫) বলেন, এই আবাসনে আমরা শুরুথেকেই বাসবাস করি কিন্তু এখন ঘরের চাল  ভেঙে গেছে, জানালা ভেঙে গেছে। আমরা খুব কষ্ট করে পলিথিনের তাবু দিয়ে থাকি। বৃষ্টির দিনে পানি আর শীতে ঠান্ডা বাতাস লাগে।
সোহরাব শেখ (৬৪) বলেন, আবাসান নির্মান এর পরে এখন প্রায় ২০ বছর সময় অতিবাহিত হয়েছে অধিকাংশ ঘরের বেড়া চাল জানালা সহ সবই ভেঙে গেছে। এখানকার বেশিরভাগ টয়লেট ব্যবহারের অনুপযোগী। যাতায়াতের রাস্তা ভেঙে গেছে।
আবাসনের সাধারণ সম্পাদক সুজন শেখ (২৮) বলেন, আমাদের জায়গা জমি নাই, তাই আবাসনে থাকি এখানে থাকার পরিবেশ নেই। সরকারের কাছে দাবি দ্রুতই যেন আবাসনে সংস্কার করে আমাদের বসবাসের উপযোগী করে দেন।
আবাসন প্রকল্পের সভাপতি সভাপতি আবুল কাশেম ৭০ বলেন,  এই আবাসনে একটিমাত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সেটাও ৬ বছরের অধিক সময় বন্ধ রয়েছে। আবাসন থেকে আনুমানিক ৩ কিলোমিটার দূরে নতুনচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ব্যস্ততম সড়কে যত্রতত্র যানবাহন চলাচল করায় শিশুরা যেতে ভয় পায়। ফলে শিশুরা শিক্ষা আলো থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। কতৃপক্ষের কাছে আবেদন জানাই দ্রুতই আমাদের এ প্রকল্পের সংস্কার করা হোক তাহলে আমাদের দুর্ভোগ কমবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা চৌধুরী মুস্তাফিজুর রহমান বলেন আমরা আবাসন প্রকল্প পরিদর্শন করেছি এই মুহুর্তে সরকারি বরাদ্দ দিয়ে প্রকল্পের  সংস্কার ও তাদের ভাল রাখার চেষ্টা করছি।
জনপ্রিয়

যবিপ্রবিতে যথাযোগ্য মর্যাদায় অমর একুশে পালন

২০ বছরেও সংস্কারের ছোঁয়া লাগেনি আবাসন প্রকল্পে, দুর্ভোগে বাসিন্দারা 

প্রকাশের সময় : ০২:৫১:১৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬
রাজবাড়ী প্রতিবেদক 
ভূমিহীন দুস্থ মানুষের জন্য প্রায় বিশ বছর আগে রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার বহরপুর ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডে বারুগ্রাম নির্মান করা হয় আবাসন প্রকল্পে। এত বছর পেরিয়ে গেলেও সংস্কারের ছোঁয়া লাগেনি এ প্রকল্পের, দুরবস্থার মধ্যে দিয়ে দিনাপার করছে আবাসনে বসবসরত কয়েক শত বাসিন্দা।
বিগত ২০০৬ সালে আবাসন প্রকল্প নির্মানের পর ১৮০টি ঘরে পরিবার বসবাস করতো। কিন্তু সংস্কারের অভাবে অধিকাংশ ঘরই বসবাস অনুপযোগী হয়েছে পড়ছে, একারণেই বর্তমান এ প্রকল্পে ৭০টি পরিবারে প্রায় ৩ শতাধিক মানুষ বসবাস করছে। প্রায় সকলেই ভূমিহীন ও নিম্ম আয়ের মানুষ।
আবাসনে বাসিন্দাদের সুপেয় পানির চাহিদা পূরনে তখন ১৬টি টিউবওয়েল স্থাপন করলেও বর্তমানে ব্যবহার উপযোগী মাত্র ৪টি টিউবওয়েল আছে  বাকিগুলো নষ্ট হয়ে পড়ে আছে।
প্রকল্পের একটিমাত্র প্রাথমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সেটিও দীর্ঘ ৬ বছরের অধিক সময় ধরে বন্ধ রয়েছে। ১৮টি সেডে ৭২টি শৌচাগার থাকলেও বর্তমানে অধিকাংশ ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে আছে। চলাচলের একমাত্র পথ সেটিও ভেঙে পড়েছে। একটুখানি বৃষ্টিতে ভোগান্তি পৌছে যায় চরমে।
প্রকল্পের বাসিন্দা সুফিয়া বেগম (৭০) বলেন, আমি প্রায় ১৮ বছর এখনে বসবাস করি। যখন বৃষ্টি আসে  তখন লেপতোশক গুছিয়ে বসে থাকি। চাল দিয়ে পানি পড়ে।
জরিনা বেগম (৬৫) বলেন, এই আবাসনে আমরা শুরুথেকেই বাসবাস করি কিন্তু এখন ঘরের চাল  ভেঙে গেছে, জানালা ভেঙে গেছে। আমরা খুব কষ্ট করে পলিথিনের তাবু দিয়ে থাকি। বৃষ্টির দিনে পানি আর শীতে ঠান্ডা বাতাস লাগে।
সোহরাব শেখ (৬৪) বলেন, আবাসান নির্মান এর পরে এখন প্রায় ২০ বছর সময় অতিবাহিত হয়েছে অধিকাংশ ঘরের বেড়া চাল জানালা সহ সবই ভেঙে গেছে। এখানকার বেশিরভাগ টয়লেট ব্যবহারের অনুপযোগী। যাতায়াতের রাস্তা ভেঙে গেছে।
আবাসনের সাধারণ সম্পাদক সুজন শেখ (২৮) বলেন, আমাদের জায়গা জমি নাই, তাই আবাসনে থাকি এখানে থাকার পরিবেশ নেই। সরকারের কাছে দাবি দ্রুতই যেন আবাসনে সংস্কার করে আমাদের বসবাসের উপযোগী করে দেন।
আবাসন প্রকল্পের সভাপতি সভাপতি আবুল কাশেম ৭০ বলেন,  এই আবাসনে একটিমাত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সেটাও ৬ বছরের অধিক সময় বন্ধ রয়েছে। আবাসন থেকে আনুমানিক ৩ কিলোমিটার দূরে নতুনচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ব্যস্ততম সড়কে যত্রতত্র যানবাহন চলাচল করায় শিশুরা যেতে ভয় পায়। ফলে শিশুরা শিক্ষা আলো থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। কতৃপক্ষের কাছে আবেদন জানাই দ্রুতই আমাদের এ প্রকল্পের সংস্কার করা হোক তাহলে আমাদের দুর্ভোগ কমবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা চৌধুরী মুস্তাফিজুর রহমান বলেন আমরা আবাসন প্রকল্প পরিদর্শন করেছি এই মুহুর্তে সরকারি বরাদ্দ দিয়ে প্রকল্পের  সংস্কার ও তাদের ভাল রাখার চেষ্টা করছি।