মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬, ৭ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মানসিক সমর্থন পেতে কুকুরের ভিডিও দেখা, কী বলছে গবেষকরা

ছবি-সংগৃহীত

অনেকেরই প্রিয় পোষা প্রাণী কুকুর, যাদের সংস্পর্শে এলে মুহূর্তেই মন ভালো হয়ে যায়। তবে নতুন এক গবেষণা বলছে, কেবল সশরীরে উপস্থিতিই নয়, বরং ইন্টারনেটে কুকুরের ভিডিও দেখলেও উল্লেখযোগ্য হারে মানসিক চাপ বা স্ট্রেস কমে। ব্রিটিশ কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় ওকানাগান এবং ব্রক ইউনিভার্সিটির গবেষকদের যৌথ এক গবেষণায় উঠে এসেছে এই চমকপ্রদ তথ্য।

গবেষণায় দেখা গেছে, মাত্র পাঁচ মিনিটের একটি কুকুরের ভিডিও দেখে প্রায় একই মাত্রার মানসিক প্রশান্তি পাওয়া সম্ভব, যা একটি কুকুরের সরাসরি সংস্পর্শে গেলে পাওয়া যায়। ‘হিউম্যান অ্যানিম্যাল ইন্টারেকশনস’ নামক জার্নালে প্রকাশিত এই গবেষণায় এক হাজারেরও বেশি মানুষের ওপর পরীক্ষা চালানো হয়।

গবেষক ড. জন-টাইলার বিনফেট জানান, বয়স বা পেশা নির্বিশেষে মানুষের মানসিক চাপ কমাতে এই ভিডিওগুলো কার্যকর ভূমিকা পালন করে। বিশেষ করে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কুকুরদের নিয়ে তৈরি করা ভিডিওগুলো দর্শকের সঙ্গে এক ধরণের মানসিক সংযোগ তৈরি করে। এই ভিডিওগুলোতে দর্শকদের কল্পনা করতে বলা হয় যে তারা কুকুরটিকে আদর করছেন এবং নিজেদের অনুভূতির ওপর মনোযোগ দিতে উৎসাহিত করা হয়। গবেষণা বলছে, এই ভার্চুয়াল পদ্ধতি বাস্তবে কুকুরকে আদর করার মতোই ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।

জরিপে দেখা গেছে, শিক্ষার্থী এবং সাধারণ মানুষ উভয়েই এই ভিডিও সেশন শেষে মানসিক চাপ কমে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন। বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে এই পরিবর্তনের হার বেশ লক্ষণীয়।
গবেষণায় অংশ নেওয়া অনেক শিক্ষার্থী জানিয়েছেন, সশরীরে কোনো সেশনে যেতে যারা মানুষের সঙ্গে মেশার ক্ষেত্রে অস্বস্তি বোধ করেন, তাদের জন্য এই ভার্চুয়াল মাধ্যমটি অত্যন্ত আরামদায়ক। এটি মূলত মানুষের সঙ্গে মেশার নেতিবাচক বা অস্থির দিকগুলো থেকে দর্শককে দূরে রাখে এবং এক ধরণের ব্যক্তিগত প্রশান্তি দেয়।

মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা এই পদ্ধতিকে চিকিৎসার পথে একটি সহজ ‘প্রথম ধাপ’ হিসেবে দেখছেন। যারা মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য পেশাদার সাহায্য নিতে ইতস্ততবোধ করেন, তাদের জন্য এটি একটি চমৎকার সূচনা হতে পারে।

এছাড়া অটিজম বা মস্তিষ্কজনিত সমস্যায় ভুগছেন এমন মানুষদের উপযোগী করে এই ভিডিওগুলো তৈরি করা হয়েছে।

গবেষকদের মতে, এটি মানসিক স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে নতুন এক দিগন্তের উন্মোচন করবে। তবে এই মানসিক প্রশান্তির প্রভাব কতদিন স্থায়ী হয়, তা নিয়ে ভবিষ্যতে আরও বিস্তারিত গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জনপ্রিয়

গর্ভাবস্থায় যে ৫ ভুল করা যাবে না

মানসিক সমর্থন পেতে কুকুরের ভিডিও দেখা, কী বলছে গবেষকরা

প্রকাশের সময় : ০৭:৫২:০৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬

অনেকেরই প্রিয় পোষা প্রাণী কুকুর, যাদের সংস্পর্শে এলে মুহূর্তেই মন ভালো হয়ে যায়। তবে নতুন এক গবেষণা বলছে, কেবল সশরীরে উপস্থিতিই নয়, বরং ইন্টারনেটে কুকুরের ভিডিও দেখলেও উল্লেখযোগ্য হারে মানসিক চাপ বা স্ট্রেস কমে। ব্রিটিশ কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় ওকানাগান এবং ব্রক ইউনিভার্সিটির গবেষকদের যৌথ এক গবেষণায় উঠে এসেছে এই চমকপ্রদ তথ্য।

গবেষণায় দেখা গেছে, মাত্র পাঁচ মিনিটের একটি কুকুরের ভিডিও দেখে প্রায় একই মাত্রার মানসিক প্রশান্তি পাওয়া সম্ভব, যা একটি কুকুরের সরাসরি সংস্পর্শে গেলে পাওয়া যায়। ‘হিউম্যান অ্যানিম্যাল ইন্টারেকশনস’ নামক জার্নালে প্রকাশিত এই গবেষণায় এক হাজারেরও বেশি মানুষের ওপর পরীক্ষা চালানো হয়।

গবেষক ড. জন-টাইলার বিনফেট জানান, বয়স বা পেশা নির্বিশেষে মানুষের মানসিক চাপ কমাতে এই ভিডিওগুলো কার্যকর ভূমিকা পালন করে। বিশেষ করে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কুকুরদের নিয়ে তৈরি করা ভিডিওগুলো দর্শকের সঙ্গে এক ধরণের মানসিক সংযোগ তৈরি করে। এই ভিডিওগুলোতে দর্শকদের কল্পনা করতে বলা হয় যে তারা কুকুরটিকে আদর করছেন এবং নিজেদের অনুভূতির ওপর মনোযোগ দিতে উৎসাহিত করা হয়। গবেষণা বলছে, এই ভার্চুয়াল পদ্ধতি বাস্তবে কুকুরকে আদর করার মতোই ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।

জরিপে দেখা গেছে, শিক্ষার্থী এবং সাধারণ মানুষ উভয়েই এই ভিডিও সেশন শেষে মানসিক চাপ কমে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন। বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে এই পরিবর্তনের হার বেশ লক্ষণীয়।
গবেষণায় অংশ নেওয়া অনেক শিক্ষার্থী জানিয়েছেন, সশরীরে কোনো সেশনে যেতে যারা মানুষের সঙ্গে মেশার ক্ষেত্রে অস্বস্তি বোধ করেন, তাদের জন্য এই ভার্চুয়াল মাধ্যমটি অত্যন্ত আরামদায়ক। এটি মূলত মানুষের সঙ্গে মেশার নেতিবাচক বা অস্থির দিকগুলো থেকে দর্শককে দূরে রাখে এবং এক ধরণের ব্যক্তিগত প্রশান্তি দেয়।

মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা এই পদ্ধতিকে চিকিৎসার পথে একটি সহজ ‘প্রথম ধাপ’ হিসেবে দেখছেন। যারা মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য পেশাদার সাহায্য নিতে ইতস্ততবোধ করেন, তাদের জন্য এটি একটি চমৎকার সূচনা হতে পারে।

এছাড়া অটিজম বা মস্তিষ্কজনিত সমস্যায় ভুগছেন এমন মানুষদের উপযোগী করে এই ভিডিওগুলো তৈরি করা হয়েছে।

গবেষকদের মতে, এটি মানসিক স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে নতুন এক দিগন্তের উন্মোচন করবে। তবে এই মানসিক প্রশান্তির প্রভাব কতদিন স্থায়ী হয়, তা নিয়ে ভবিষ্যতে আরও বিস্তারিত গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।