রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬, ৫ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ঠাকুরগাঁওয়ে দুই দিনে পৃথক ঘটনায় ৩ জনের আত্মহত্যা 

জাহাঙ্গীর আলম, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:
ঠাকুরগাঁওয়ে দুই দিনে পৃথক ঘটনায় তিন জন আত্মহত্যা করেছে। অনলাইন জুয়ায় সর্বস্ব হারিয়ে এক ব্যক্তি, মাথা ব্যথা সহ্য করতে না পেরে এক স্কুলছাত্রী এবং মোবাইল ফোন কিনে না দেয়ায় বাবার সাথে অভিমান করে চিরকুট লিখে ১০ শ্রেণীর শিক্ষার্থী গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। শনিবার (১৭ জানুয়ারি) ঠাকুরগাঁও পৌর শহর ও সদর উপজেলার পৃথক দুটি স্থানে এবং ১৬ জানুয়ারি (শুক্রবার) পৌর শহরের হাজিপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন, ঠাকুরগাঁও পৌর শহরের পূর্ব হাজীপাড়া এলাকার মৃত মজিবর রহমানের ছেলে সাদেকুল ইসলাম (৫০), সদর উপজেলার চিলারং ইউনিয়নের বাশগাড়া-ফকিরপাড়া এলাকার তোফায়েল হোসেনের মেয়ে তামান্না আক্তার (১৫) এবং জেলার বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার ৫ নং দুওসুও ইউনিয়নের জিয়াবাড়ী গ্রামের হুমায়ুন কবিরের মেয়ে হুমায়রা আক্তার মিম (১৫)।
পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সাদেকুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে অনলাইন জুয়ায় আসক্ত ছিলেন। একপর্যায়ে তিনি নিজের বসতবাড়ি প্রায় ১৪ লাখ টাকায় বিক্রি করে দেন। এরপর পূর্ব হাজীপাড়া এলাকায় মৃত কাউসার আলীর বাড়িতে ভাড়া নিয়ে বসবাস শুরু করেন। সেখানেও ঋণ করে অনলাইন জুয়া খেলতে থাকেন তিনি। সব টাকা হারিয়ে চরম আর্থিক সংকটে পড়েন সাদেকুল ইসলাম। পরিবারকে নিয়ে দিশেহারা হয়ে শেষ পর্যন্ত আত্মহত্যার পথ বেছে নেন।
স্ত্রী মরজিনা বেগম বলেন, অনেক চেষ্টা করেও ওনাকে জুয়া থেকে ফেরাতে পারিনি। বাড়ি বিক্রির সব টাকা জুয়ায় শেষ করেছে। ঋণের চাপ আর টাকার অভাবে চিকিৎসাও করাতে পারিনি। আজ সন্ধ্যায় ঘরে ঘুমিয়েছিল, কখন যে গলায় ফাস দিয়েছে বুঝতে পারিনি। খেতে ডাকতে গিয়ে দেখি ঝুলন্ত অবস্থায় আছে। পরে প্রতিবেশীরা পুলিশে খবর দেয়।
অন্যদিকে, সদর উপজেলার চিলারং ইউনিয়নের বাশগাড়া-ফকিরপাড়া এলাকায় তামান্না আক্তার নামে এক স্কুলছাত্রী আত্মহত্যা করেছে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, তামান্না দীর্ঘদিন ধরে তীব্র মাথা ব্যথায় ভুগছিল। শনিবার দুপুরে পরিবারের অগোচরে নিজের ঘরের দরজা বন্ধ করে গলায় ফাঁস দেয় সে। পরে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় এক গ্রাম্য চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে গত ১৬ জানুয়ারি (শুক্রবার) রাতে বাবার সাথে অভিমান করে চিরকুট লিখে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে হুমায়রা আক্তার মিম।
যা লেখা ছিল চিরকুটে,,,,,,,,
“রেজাল্ট দেওয়ার জন্যই আমার জন্ম তো তাই না ?
শুধু ভাল রেজাল্ট দেওয়ার বিনিময়েই তো আমার বড় হওয়া।
so i am giving you my last result….”
পরিবারের সদস্যরা জানান, বাবার সাথে ফোনে রাতে কথা হয় মিমের। ফোন নেয়ার বাহানা ধরে মিম এক পর্যায়ে ফোনে তর্ক বিতর্ক হয়।পরে সবার অগোচরে চিরকুট লিখে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করে মিম। লেখাপড়ার সুবাদে ঠাকুরগাঁও পৌর শহরের হাজীপাড়া এলাকায় তার চাচা হারুনুর রশিদের বাসায় তারা দুই ভাইবোন থাকতেন। তার বাবা ও মা ঢাকার একটি গার্মেন্টসে চাকরি করেন বলে জানা গেছে।
ঠাকুরগাঁও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনির হোসেন বলেন, পরিবারের ভাষ্যমতে অনলাইন জুয়া ও ঋণের কারণে সাদেকুল ইসলাম আত্মহত্যা করেছেন। আর তামান্না আক্তার দীর্ঘদিনের মাথাব্যথার কারণে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছে এদিকে মিম তার চিরকুট লেখা ভাষ্যমতে বাবার সাথে অভিমান করে আত্মহত্যা করেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। এ ঘটনায় সদর থানায় অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।
জনপ্রিয়

বকশীগঞ্জে সরকারি স্কুলে ভর্তি জালিয়াতির অভিযোগ, ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা

ঠাকুরগাঁওয়ে দুই দিনে পৃথক ঘটনায় ৩ জনের আত্মহত্যা 

প্রকাশের সময় : ০৩:০৭:৪৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬
জাহাঙ্গীর আলম, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:
ঠাকুরগাঁওয়ে দুই দিনে পৃথক ঘটনায় তিন জন আত্মহত্যা করেছে। অনলাইন জুয়ায় সর্বস্ব হারিয়ে এক ব্যক্তি, মাথা ব্যথা সহ্য করতে না পেরে এক স্কুলছাত্রী এবং মোবাইল ফোন কিনে না দেয়ায় বাবার সাথে অভিমান করে চিরকুট লিখে ১০ শ্রেণীর শিক্ষার্থী গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। শনিবার (১৭ জানুয়ারি) ঠাকুরগাঁও পৌর শহর ও সদর উপজেলার পৃথক দুটি স্থানে এবং ১৬ জানুয়ারি (শুক্রবার) পৌর শহরের হাজিপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন, ঠাকুরগাঁও পৌর শহরের পূর্ব হাজীপাড়া এলাকার মৃত মজিবর রহমানের ছেলে সাদেকুল ইসলাম (৫০), সদর উপজেলার চিলারং ইউনিয়নের বাশগাড়া-ফকিরপাড়া এলাকার তোফায়েল হোসেনের মেয়ে তামান্না আক্তার (১৫) এবং জেলার বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার ৫ নং দুওসুও ইউনিয়নের জিয়াবাড়ী গ্রামের হুমায়ুন কবিরের মেয়ে হুমায়রা আক্তার মিম (১৫)।
পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সাদেকুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে অনলাইন জুয়ায় আসক্ত ছিলেন। একপর্যায়ে তিনি নিজের বসতবাড়ি প্রায় ১৪ লাখ টাকায় বিক্রি করে দেন। এরপর পূর্ব হাজীপাড়া এলাকায় মৃত কাউসার আলীর বাড়িতে ভাড়া নিয়ে বসবাস শুরু করেন। সেখানেও ঋণ করে অনলাইন জুয়া খেলতে থাকেন তিনি। সব টাকা হারিয়ে চরম আর্থিক সংকটে পড়েন সাদেকুল ইসলাম। পরিবারকে নিয়ে দিশেহারা হয়ে শেষ পর্যন্ত আত্মহত্যার পথ বেছে নেন।
স্ত্রী মরজিনা বেগম বলেন, অনেক চেষ্টা করেও ওনাকে জুয়া থেকে ফেরাতে পারিনি। বাড়ি বিক্রির সব টাকা জুয়ায় শেষ করেছে। ঋণের চাপ আর টাকার অভাবে চিকিৎসাও করাতে পারিনি। আজ সন্ধ্যায় ঘরে ঘুমিয়েছিল, কখন যে গলায় ফাস দিয়েছে বুঝতে পারিনি। খেতে ডাকতে গিয়ে দেখি ঝুলন্ত অবস্থায় আছে। পরে প্রতিবেশীরা পুলিশে খবর দেয়।
অন্যদিকে, সদর উপজেলার চিলারং ইউনিয়নের বাশগাড়া-ফকিরপাড়া এলাকায় তামান্না আক্তার নামে এক স্কুলছাত্রী আত্মহত্যা করেছে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, তামান্না দীর্ঘদিন ধরে তীব্র মাথা ব্যথায় ভুগছিল। শনিবার দুপুরে পরিবারের অগোচরে নিজের ঘরের দরজা বন্ধ করে গলায় ফাঁস দেয় সে। পরে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় এক গ্রাম্য চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে গত ১৬ জানুয়ারি (শুক্রবার) রাতে বাবার সাথে অভিমান করে চিরকুট লিখে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে হুমায়রা আক্তার মিম।
যা লেখা ছিল চিরকুটে,,,,,,,,
“রেজাল্ট দেওয়ার জন্যই আমার জন্ম তো তাই না ?
শুধু ভাল রেজাল্ট দেওয়ার বিনিময়েই তো আমার বড় হওয়া।
so i am giving you my last result….”
পরিবারের সদস্যরা জানান, বাবার সাথে ফোনে রাতে কথা হয় মিমের। ফোন নেয়ার বাহানা ধরে মিম এক পর্যায়ে ফোনে তর্ক বিতর্ক হয়।পরে সবার অগোচরে চিরকুট লিখে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করে মিম। লেখাপড়ার সুবাদে ঠাকুরগাঁও পৌর শহরের হাজীপাড়া এলাকায় তার চাচা হারুনুর রশিদের বাসায় তারা দুই ভাইবোন থাকতেন। তার বাবা ও মা ঢাকার একটি গার্মেন্টসে চাকরি করেন বলে জানা গেছে।
ঠাকুরগাঁও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনির হোসেন বলেন, পরিবারের ভাষ্যমতে অনলাইন জুয়া ও ঋণের কারণে সাদেকুল ইসলাম আত্মহত্যা করেছেন। আর তামান্না আক্তার দীর্ঘদিনের মাথাব্যথার কারণে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছে এদিকে মিম তার চিরকুট লেখা ভাষ্যমতে বাবার সাথে অভিমান করে আত্মহত্যা করেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। এ ঘটনায় সদর থানায় অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।