সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬, ৬ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

পাটগ্রামে ভূয়া মাদরাসা কার্যক্রম, প্রতারণা ও সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

মোস্তাফিজুর রহমান, লালমনিরহাট প্রতিনিধিঃ
পাটগ্রামে ভূয়া মাদরাসা কার্যক্রম, প্রতারণা ও সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছ আমিনুর রহমান নামে একজন জমিদাতা। তিনি পাটগ্রাম উপজেলার জগতবেড় ইউনিয়নের ০২নং ওয়ার্ড আশোয়ারপাড়ার স্থায়ী বাসিন্দ।
রবিবার ১৮ জানুয়ারি সন্ধা ৬ টায় লিখিত বক্তব্য পাঠ করে তিনি জানান, আমি লালমনিরহাট জেলার পাটগ্রাম উপজেলাধীন জগতবেড় ইউনিয়নের জগতবেড় দাখিল মাদ্রাসার একজন ভুক্তভোগী জমিদাতা। আজ আমি আপনাদের সামনে একটি গুরুতর প্রতারণা, সন্ত্রাসী হামলা ও প্রশাসনিক হয়রানির বিষয় তুলে ধরতে এই সংবাদ সম্মেলন করছি- ২০০৫ সালে স্থানীয় ছেলে-মেয়েদের ধর্মীয় শিক্ষা বিস্তারের লক্ষ্যে—  মোঃ আমিনুর রহমান (২৯ শতক),  হাজেরা খাতুন (২৯ শতক), কাজী আনোয়ার হোসেন (২৫ শতক),  সফিকুল ইসলাম (১৯ শতক) সহ চারজন মোট ১০২ শতক জমি দান করে একটি মাদরাসা স্থাপনের উদ্যোগ নেই। আমরা একটি প্রাথমিক উদ্যোক্তা কমিটি গঠন করে টিনের ঘর নির্মাণ করি এবং ২০০৫ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত শ্রেণিপাঠদান কার্যক্রম পরিচালনা করি।
কিন্তু মাদরাসা অধিদপ্তর ও মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডে আবেদন করেও পাঠদান অনুমতি না পাওয়ায় ২০০৮ সালে মাদরাসাটি সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যায়। এরপর দীর্ঘ প্রায় ১৭ বছর ধরে এই মাদরাসার কোনো কার্যক্রম ছিল না। বন্ধ হওয়ার পর থেকে আমি আমার জমিতে নিয়মিত চাষাবাদ করে আসছি। এই মাদরাসায় আমি ও আমার মা মোট ৫৮ শতক জমি দান করেছিলাম। আমার মা যে ২৯ শতক জমি দান করেছিলেন, তার সমপরিমাণ জমি আমি পরবর্তীতে অন্য জায়গায় মায়ের নামে লিখে দিয়েছি।
মাদরাসা পরিচালনাকালে মোঃ আবু সাঈদ মুসা সুপার এবং মোঃ রেজাউল করিম সহকারী সুপার ছিলেন। মাদরাসা বন্ধ হলে তারা সবাই অন্যত্র চাকরিতে চলে যান। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক বিষয় হলো—২০২৫ সালে রাতের আঁধারে কাজী আনোয়ার হোসেন ও কাজী ইউনূছ আলী তিনজন জমিদাতাকে বাদ দিয়ে অবৈধভাবে একটি মাদরাসার সাইনবোর্ড স্থাপন করে কার্যক্রম শুরু করেন।
তারা বিভিন্ন মানুষের কাছে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন এবং মাদরাসা অধিদপ্তর ও মাদরাসা বোর্ডে ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে পাঠদান অনুমতির আবেদন করেছেন। আমি এসব অনিয়মের প্রতিবাদ করায়— ১২ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখ সকাল ১১টার দিকে আমার বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে সন্ত্রাসী হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয় এতে ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখ সকালে আমার ৫০ শতক জমির ফসল সম্পূর্ণভাবে নষ্ট করা হয় যাতে আমার প্রায় ২০ লক্ষ্য টাকার ক্ষতি হয় এবং আমাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। গত ১৫ জানুয়ারি, ২০২৬ অনুমান ২০টি গাছ জোরপূর্বক কেটে নিয়ে অন্য মানুকে বসবাসের জন্য ঘড়বাড়ি নির্মান করে দেয়। এতে আমার অপূরনিয় ক্ষতি হয়।
আমি বিষয়টি নিয়ে ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে পাটগ্রাম থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করি। কিন্তু জিডি করার পরও ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে আমাকে পুলিশ দিয়ে থানায় নিয়ে গিয়ে প্রায় ৫ ঘণ্টা আটকে রাখা হয়, যা অত্যন্ত দুঃখজনক ও হয়রানিমূলক।
তিনি সংবাদ সম্মেলনে অবিলম্বে ভুয়া মাদরাসা কার্যক্রম বন্ধ, ভুয়া কাগজপত্র ও প্রতারণার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা, সন্ত্রাসী হামলা ও জমি নষ্টের ঘটনার বিচার নিশ্চিত করা ও থানায় আটক রাখার ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেন। তিনি গণমাধ্যমের মাধ্যমে আমরা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন এবং সাধারণ মানুষকে সতর্ক করেন ভুয়া মাদরাসা ও চাকরির নামে প্রতারণার ফাঁদে পা না দেওয়ার।
জনপ্রিয়

চট্টগ্রামকে শিক্ষাবান্ধব নগরী গড়তে মেয়র শিক্ষাবৃত্তি অব্যাহত থাকবে: ডা. শাহাদাত

পাটগ্রামে ভূয়া মাদরাসা কার্যক্রম, প্রতারণা ও সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

প্রকাশের সময় : ০৮:৫৬:৩০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬
মোস্তাফিজুর রহমান, লালমনিরহাট প্রতিনিধিঃ
পাটগ্রামে ভূয়া মাদরাসা কার্যক্রম, প্রতারণা ও সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছ আমিনুর রহমান নামে একজন জমিদাতা। তিনি পাটগ্রাম উপজেলার জগতবেড় ইউনিয়নের ০২নং ওয়ার্ড আশোয়ারপাড়ার স্থায়ী বাসিন্দ।
রবিবার ১৮ জানুয়ারি সন্ধা ৬ টায় লিখিত বক্তব্য পাঠ করে তিনি জানান, আমি লালমনিরহাট জেলার পাটগ্রাম উপজেলাধীন জগতবেড় ইউনিয়নের জগতবেড় দাখিল মাদ্রাসার একজন ভুক্তভোগী জমিদাতা। আজ আমি আপনাদের সামনে একটি গুরুতর প্রতারণা, সন্ত্রাসী হামলা ও প্রশাসনিক হয়রানির বিষয় তুলে ধরতে এই সংবাদ সম্মেলন করছি- ২০০৫ সালে স্থানীয় ছেলে-মেয়েদের ধর্মীয় শিক্ষা বিস্তারের লক্ষ্যে—  মোঃ আমিনুর রহমান (২৯ শতক),  হাজেরা খাতুন (২৯ শতক), কাজী আনোয়ার হোসেন (২৫ শতক),  সফিকুল ইসলাম (১৯ শতক) সহ চারজন মোট ১০২ শতক জমি দান করে একটি মাদরাসা স্থাপনের উদ্যোগ নেই। আমরা একটি প্রাথমিক উদ্যোক্তা কমিটি গঠন করে টিনের ঘর নির্মাণ করি এবং ২০০৫ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত শ্রেণিপাঠদান কার্যক্রম পরিচালনা করি।
কিন্তু মাদরাসা অধিদপ্তর ও মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডে আবেদন করেও পাঠদান অনুমতি না পাওয়ায় ২০০৮ সালে মাদরাসাটি সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যায়। এরপর দীর্ঘ প্রায় ১৭ বছর ধরে এই মাদরাসার কোনো কার্যক্রম ছিল না। বন্ধ হওয়ার পর থেকে আমি আমার জমিতে নিয়মিত চাষাবাদ করে আসছি। এই মাদরাসায় আমি ও আমার মা মোট ৫৮ শতক জমি দান করেছিলাম। আমার মা যে ২৯ শতক জমি দান করেছিলেন, তার সমপরিমাণ জমি আমি পরবর্তীতে অন্য জায়গায় মায়ের নামে লিখে দিয়েছি।
মাদরাসা পরিচালনাকালে মোঃ আবু সাঈদ মুসা সুপার এবং মোঃ রেজাউল করিম সহকারী সুপার ছিলেন। মাদরাসা বন্ধ হলে তারা সবাই অন্যত্র চাকরিতে চলে যান। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক বিষয় হলো—২০২৫ সালে রাতের আঁধারে কাজী আনোয়ার হোসেন ও কাজী ইউনূছ আলী তিনজন জমিদাতাকে বাদ দিয়ে অবৈধভাবে একটি মাদরাসার সাইনবোর্ড স্থাপন করে কার্যক্রম শুরু করেন।
তারা বিভিন্ন মানুষের কাছে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন এবং মাদরাসা অধিদপ্তর ও মাদরাসা বোর্ডে ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে পাঠদান অনুমতির আবেদন করেছেন। আমি এসব অনিয়মের প্রতিবাদ করায়— ১২ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখ সকাল ১১টার দিকে আমার বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে সন্ত্রাসী হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয় এতে ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখ সকালে আমার ৫০ শতক জমির ফসল সম্পূর্ণভাবে নষ্ট করা হয় যাতে আমার প্রায় ২০ লক্ষ্য টাকার ক্ষতি হয় এবং আমাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। গত ১৫ জানুয়ারি, ২০২৬ অনুমান ২০টি গাছ জোরপূর্বক কেটে নিয়ে অন্য মানুকে বসবাসের জন্য ঘড়বাড়ি নির্মান করে দেয়। এতে আমার অপূরনিয় ক্ষতি হয়।
আমি বিষয়টি নিয়ে ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে পাটগ্রাম থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করি। কিন্তু জিডি করার পরও ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে আমাকে পুলিশ দিয়ে থানায় নিয়ে গিয়ে প্রায় ৫ ঘণ্টা আটকে রাখা হয়, যা অত্যন্ত দুঃখজনক ও হয়রানিমূলক।
তিনি সংবাদ সম্মেলনে অবিলম্বে ভুয়া মাদরাসা কার্যক্রম বন্ধ, ভুয়া কাগজপত্র ও প্রতারণার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা, সন্ত্রাসী হামলা ও জমি নষ্টের ঘটনার বিচার নিশ্চিত করা ও থানায় আটক রাখার ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেন। তিনি গণমাধ্যমের মাধ্যমে আমরা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন এবং সাধারণ মানুষকে সতর্ক করেন ভুয়া মাদরাসা ও চাকরির নামে প্রতারণার ফাঁদে পা না দেওয়ার।