
ক্ষেতলাল (জয়পুরহাট) প্রতিনিধি:
জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলায় এক সহকারী প্রধান শিক্ষককে লাঞ্ছিত করার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে ক্লাস বর্জন ও বিক্ষোভ করেছে শিক্ষার্থীরা। বুধবার (২১ জানুয়ারি) উপজেলার বিনাই জসিম উদ্দিন মেমোরিয়াল বিদ্যানিকেতন এ ঘটনা ঘটে। দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে শিক্ষার্থীরা পাঠদান বন্ধ রেখে প্রতিবাদ জানায়।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে মোবাইল ফোন ব্যবহার নিষিদ্ধ করে একটি জরুরি নোটিশ জারি করেন প্রধান শিক্ষক। ওই নির্দেশ অমান্য করে দশম শ্রেণির দুই শিক্ষার্থী জোবায়েদ ও জাহিদ বুধবার শ্রেণিকক্ষে মোবাইল ফোন নিয়ে আসে। বিষয়টি নজরে এলে দায়িত্বরত শিক্ষক তাদের ফোন দুটি জব্দ করে সহকারী প্রধান শিক্ষক মুনছুর রহমান এর কাছে জমা দেন। নিয়ম অনুযায়ী তিনি শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের বিদ্যালয়ে ডেকে পাঠান।
প্রত্যক্ষদর্শী ও বিদ্যালয় সংশ্লিষ্টরা জানান, জাহিদের অভিভাবক বিদ্যালয়ে এসে শিক্ষকদের পদক্ষেপকে সমর্থন জানালেও শিক্ষার্থী জোবায়েদ ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে একপর্যায়ে সে বিদ্যালয়ের ওয়াশরুমের দরজা ও জানালা ভাঙচুর করে। পরে জোবায়েদের বাবা জাকারিয়া ও তার চাচা বিদ্যালয়ে এসে শিক্ষকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন। তারা সহকারী প্রধান শিক্ষক মুনছুর রহমানকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে সবার সামনে দফায় দফায় লাঞ্ছিত করেন।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী মিম ও হিমেল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “বিদ্যালয়ের একটি ভবনের কাজ চলায় স্যার মাঠে আমাদের ক্লাস নিচ্ছিলেন। আমাদের সামনেই একজন সম্মানিত শিক্ষককে মারধরের মতো করে লাঞ্ছিত করা হয়েছে। শিক্ষকদের এই অপমান আমরা মেনে নিতে পারি না। সুষ্ঠু বিচার না হওয়া পর্যন্ত আমরা ক্লাসে ফিরব না।”
ভুক্তভোগী সহকারী প্রধান শিক্ষক মুনছুর রহমান বলেন, “প্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলা রক্ষায় মোবাইল ফোন নিষিদ্ধের নিয়ম কার্যকর করতে গিয়ে আমাকে এই পরিস্থিতির শিকার হতে হয়েছে। ঘটনাটি অত্যন্ত মানহানিকর ও দুঃখজনক।”
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুর মজিদ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত নিন্দনীয়। আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। পরিচালনা কমিটির সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ক্ষেতলাল (জয়পুরহাট) প্রতিনিধি: 






































