
যশোর অফিস
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যশোর জেলার ৬টি আসনে লড়ছেন ৩৫ প্রার্থী। আজ বুধবার জেলা রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান নিজ কার্যালয়ে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ ও প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্ধ করেন। এসময় তিনি নির্বাচনী আচরণবিধি কঠোর ভাবে মেনে চলার জন্য প্রার্থী ও তাদের দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি আহবান জানান। নির্বাচনী আচরণবিধি লংঘনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোরভাবে আইনের প্রয়োগ করা হবে বলেও তিনি তার বক্তৃতায় উল্লেখ করেন।তিনি জানান এবছর জেলার ৬টি সংসদীয় আসনের মোট ভোটার ২৪ লাখ,৭১ হাজার ৯০৮। যা গত সংসদ নির্বাচনের তুলনায় প্রায় ১০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। জেলার ৬টি সংসদীয় আসনে ৮২৪টি ভোট কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ কার্যক্রম সুষ্ঠু ভাবে সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় সকল পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। জেলার সার্বিক আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সন্তোষজনক। নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে প্রচেষ্টার কমতি নেই উল্লেখ করে জেলা প্রশাসক বলেন, আশা করছি এবারের নির্বাচন ব্যাপক উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে। তরুন ভোটাররা ফ্যাসিবাদ মুক্ত বাংলাদেশে প্রথম বারের মতো ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে উন্মুখ হয়ে আছে। প্রতিটি ভোট কেন্দ্র ও আশে পাশের পরিবেশ শান্তিপূর্ণ করতে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনসহ টিম যশোর রাতদিন পরিশ্রম করে যাচ্ছে।
প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে,জাতীয় সংসদের-৮৫ যশোর-১ শার্শা আসনে ৪জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এরা হচ্ছে বিএনপির নুরুজ্জামান লিটন (ধানের শীষ),জামায়াতের মাওলানা আজিজুর রহমান (দাড়িপাল্লা).জাতীয় পার্টির জাহাঙ্গীর আলম চঞ্চল (লাঙ্গল) ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের বকতিয়ার রহমান(হাতপাখা) প্রতিক নিয়ে নির্বাচন করছেন।
জাতীয় সংসদের -৮৬ যশোর-২ চৌগাছা-ঝিকরগাছা আসনে জেলার সর্বোচ্চ ৮ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এরা হচ্ছেন বিএনপির সাবিরা সুলতানা মুন্নি (ধানের শীষ),জামায়াতের ডাক্তার মোসলেহ উদ্দীন ফরিদ (দাড়িপাল্লা). ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ইদ্রিস আলী (হাতপাখা), বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) ইমরান খান (মঈ), বিএনএফ’র শামসুল হক (টেলিভিশন),এবি পার্টির রিপন মাহামুদ (ঈগল) প্রতীক নিয়ে লড়ছেন। এছাড়া বিএনপি নেতা জহুরুল ইসলাম (ঘোড়া) ও মেহেদী হাসান (ফুটবল) মার্কা নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়াই করছেন। তবে ইতিমধ্যে বিএনপি নেতা জহুরুল ইসলাম নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষনা দিয়েছেন।
জাতীয় সংসদের ৮৭ যশোর-৩ সদর আসনে ৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এরা হচ্ছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা অনিন্দ্য ইসলাম অমিত (ধানের শীষ), জামায়াতের ভিপি আব্দুল কাদের (দাড়িপাল্লা).জাতীয় পার্টির খবির উদ্দিন গাজী (লাঙ্গল), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মাওলানা শোয়াইব হোসেন (হাতপাখা),জাগপার নিজাম উদ্দিন অমিত (চশমা) ও সিপিবির রাশেদ খান (কাস্তে) প্রতিক নিয়ে নির্বাচন করছেন।
জাতীয় সংসদের -৮৮ যশোর-৪ বাঘারপাড়া-অভয়নগর আসনে ৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এরা হচ্ছেন অভয়নগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি শ্রমিক নেতা ফারাজী মতিয়ার রহমান(ধানের শীষ),জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক গোলাম রসুল (দাড়িপাল্লা).জাতীয় পার্টির এ্যাড.জহুরুল ইসলাম (লাঙ্গল), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের বায়েজিদ হোসাইন (হাতপাখা),খেলাফত মজলিসের মাওলানা আশেক এলাহী (দেওয়াল ঘড়ি),বাংলাদেশ মাইনোরিটি জনতা পার্টি-বিএমজেপি’র সুকৃতি মন্ডল (রকেট) এবং সাবেক মন্ত্রী এম নাজিম উদ্দিন আল আজাদ (মোটর সাইকেল) প্রতিক নিয়ে নির্বাচনে লড়ছেন। নাজিম উদ্দিন আল আজাদ স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে এই নির্বাচনে লড়াই করছেন।
জাতীয় সংসদের -৮৯ যশোর-৫ মণিরামপুর আসনে ৫ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এরা হচ্ছেন বিএনপির প্রার্থী নবাগত রশীদ বিন ওয়াক্কাস (ধানের শীষ),জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির এ্যাড.গাজী এনামুল হক (দাড়িপাল্লা).জাতীয় পার্টির এম, এ হালিম (লাঙ্গল), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জয়নাল আবেদীন (হাতপাখা), এবং মণিরামপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি এ্যাড. শহিদ মোহাম্মদ ইকবাল(কলস)। বিএনপি নেতা এ্যাড. শহিদ মোহাম্মদ ইকবাল স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে এই নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করছেন। বিএনপি প্রথমে শহিদ মোহাম্মদ ইকবালকে দলীয় মনোনয়ন প্রদান করে। পরবর্তীতে জোটের শরিক দল জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম এর কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা রশীদ বিন ওয়াক্কাসকে দলে ভিড়িয়ে তাকে এই আসনে ধানের শীষ প্রতিকের প্রার্থী করা হয়। যা নিয়ে এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
জাতীয় সংসদের -৯০ যশোর-৬ কেশবপুর আসনে ৫ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এরা হচ্ছেন কেশবপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও কেন্দ্রীয় নেতা আবুল হোসেন আজাদ (ধানের শীষ), জেলা জামায়াতের নেতা অধ্যাপক মোক্তার আলী (দাড়িপাল্লা).জাতীয় পার্টির জি এম হাসান (লাঙ্গল), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের শহিদুল ইসলাম (হাতপাখা) ও এবি পার্টির মাহামুদ হাসান (ঈগল) প্রতিক নিয়ে নির্বাচনে লড়ছেন।
যশোর অফিস 






































