বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬, ৯ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সিরিয়াল কিলার সম্রাটের ঘটনায় আবারও আলোচনায় রসু খাঁ

  • ঢাকা ব্যুরো
  • প্রকাশের সময় : ০৮:৩৯:০২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬
  • ২১

ছবি-সংগৃহীত

ঢাকার উপকণ্ঠ সাভারে সাত মাসে ছয়টি লাশ উদ্ধার হওয়ার পর মশিউর রহমান সবুজ গ্রেপ্তার হয়েছেন। তার স্বীকারোক্তির আলোচনার মাঝে আবারও আলোচনায় উঠে এসেছে বাংলাদেশের এক কুখ্যাত সিরিয়াল কিলার রসু খাঁর নাম। রসু খাঁ, যার আসল নাম রশিদ খাঁ, ছিল নিম্নবিত্ত পরিবারের একজন ক্রিমিনাল। প্রেমের অভিনয়ে গার্মেন্টস কর্মীসহ দরিদ্র নারীদের ফাঁদে ফেলে ধর্ষণ ও হত্যা করাই ছিল তার নেশা। ১০১টি হত্যা করার লক্ষ্য নিয়ে চললেও ১১ জন নারীকে হত্যা করার পর পুলিশের হাতে ধরা পড়ে। চাঁদপুর আদালত তাকে এক হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে, বাকি ৯টি মামলার বিচার চলমান।

দরিদ্র কৃষক পরিবারে জন্ম নেওয়া রসু খাঁ ছোট বেলা থেকেই অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। প্রথম বিবাহে বৌয়ের অন্ধ এক চোখ দেখে ক্ষুব্ধ হয়ে দ্বিতীয় বিবাহ করেন এবং টঙ্গীতে থেকে অপরাধ জগতে যুক্ত হন। প্রেমিকাকে প্রতারণার শিকার হওয়ার পর প্রতিশোধ নিতে তিনি ১০১ নারীর ধর্ষণ ও হত্যা করার শপথ নেন।ঢাকা, সাভার ও টঙ্গী এলাকার নিম্নবিত্ত নারীদের টার্গেট করতেন রসু খাঁ। ভুক্তভোগীদের হাত-পা বেঁধে নদী বা খালের পানিতে ডুবিয়ে দিয়ে হত্যা করতেন। এমনকি নিজ শ্যালির স্ত্রীকেও ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগে নাম জড়িয়েছে তার।

২০০৯ সালের ৭ জুলাই তিন সন্তানের জননী পারভীন আক্তারকে হত্যা করাই ছিল তার সর্বশেষ অপরাধ। ঘটনার তদন্তে ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরের সূত্রে গ্রেপ্তার হন তিনি।২০২৪ সালের ৯ জুলাই হাইকোর্ট তার মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছে। রসু খাঁ কারাগারে রয়েছে, সুস্থ আছে বলে জানিয়েছে কারা কর্তৃপক্ষ। তবে তার বিরুদ্ধে অন্যান্য মামলার বিচার চলছে। কারাগারে ফাঁসির আসামিদের জন্য পৃথক সেলে রাখা হয় এবং তিনি সেখানেই রয়েছেন। এখনও পর্যন্ত কারাগারে তার কোনো স্বজন দেখা করতে আসেননি।

উল্লেখ্য, কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে থাকা ভবন ভাঙার কারণে রসু খাঁকে কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কারাগারে স্থানান্তর করা হয়েছে। ভবিষ্যতে নতুন কারাগার নির্মাণ হলে তাকে আবার কুমিল্লায় ফিরিয়ে আনা হবে। সিরিয়াল কিলার রসু খাঁ ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ আদালতে আপিল আবেদন করা হয়েছে। মামলাগুলোর নিষ্পত্তি অপেক্ষায় আদালত।

জনপ্রিয়

বিমানবন্দরে নারীকে যৌন নির্যাতন, গ্রেপ্তার ১

সিরিয়াল কিলার সম্রাটের ঘটনায় আবারও আলোচনায় রসু খাঁ

প্রকাশের সময় : ০৮:৩৯:০২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬

ঢাকার উপকণ্ঠ সাভারে সাত মাসে ছয়টি লাশ উদ্ধার হওয়ার পর মশিউর রহমান সবুজ গ্রেপ্তার হয়েছেন। তার স্বীকারোক্তির আলোচনার মাঝে আবারও আলোচনায় উঠে এসেছে বাংলাদেশের এক কুখ্যাত সিরিয়াল কিলার রসু খাঁর নাম। রসু খাঁ, যার আসল নাম রশিদ খাঁ, ছিল নিম্নবিত্ত পরিবারের একজন ক্রিমিনাল। প্রেমের অভিনয়ে গার্মেন্টস কর্মীসহ দরিদ্র নারীদের ফাঁদে ফেলে ধর্ষণ ও হত্যা করাই ছিল তার নেশা। ১০১টি হত্যা করার লক্ষ্য নিয়ে চললেও ১১ জন নারীকে হত্যা করার পর পুলিশের হাতে ধরা পড়ে। চাঁদপুর আদালত তাকে এক হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে, বাকি ৯টি মামলার বিচার চলমান।

দরিদ্র কৃষক পরিবারে জন্ম নেওয়া রসু খাঁ ছোট বেলা থেকেই অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। প্রথম বিবাহে বৌয়ের অন্ধ এক চোখ দেখে ক্ষুব্ধ হয়ে দ্বিতীয় বিবাহ করেন এবং টঙ্গীতে থেকে অপরাধ জগতে যুক্ত হন। প্রেমিকাকে প্রতারণার শিকার হওয়ার পর প্রতিশোধ নিতে তিনি ১০১ নারীর ধর্ষণ ও হত্যা করার শপথ নেন।ঢাকা, সাভার ও টঙ্গী এলাকার নিম্নবিত্ত নারীদের টার্গেট করতেন রসু খাঁ। ভুক্তভোগীদের হাত-পা বেঁধে নদী বা খালের পানিতে ডুবিয়ে দিয়ে হত্যা করতেন। এমনকি নিজ শ্যালির স্ত্রীকেও ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগে নাম জড়িয়েছে তার।

২০০৯ সালের ৭ জুলাই তিন সন্তানের জননী পারভীন আক্তারকে হত্যা করাই ছিল তার সর্বশেষ অপরাধ। ঘটনার তদন্তে ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরের সূত্রে গ্রেপ্তার হন তিনি।২০২৪ সালের ৯ জুলাই হাইকোর্ট তার মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছে। রসু খাঁ কারাগারে রয়েছে, সুস্থ আছে বলে জানিয়েছে কারা কর্তৃপক্ষ। তবে তার বিরুদ্ধে অন্যান্য মামলার বিচার চলছে। কারাগারে ফাঁসির আসামিদের জন্য পৃথক সেলে রাখা হয় এবং তিনি সেখানেই রয়েছেন। এখনও পর্যন্ত কারাগারে তার কোনো স্বজন দেখা করতে আসেননি।

উল্লেখ্য, কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে থাকা ভবন ভাঙার কারণে রসু খাঁকে কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কারাগারে স্থানান্তর করা হয়েছে। ভবিষ্যতে নতুন কারাগার নির্মাণ হলে তাকে আবার কুমিল্লায় ফিরিয়ে আনা হবে। সিরিয়াল কিলার রসু খাঁ ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ আদালতে আপিল আবেদন করা হয়েছে। মামলাগুলোর নিষ্পত্তি অপেক্ষায় আদালত।