শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

রপ্তানি বন্ধ, উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি ও পর্যাপ্ত দাম না পাওয়ায় পান চাষে আগ্রহ হারাচ্ছে চাষিরা

মেহেদী হাসান, রাজবাড়ী প্রতিনিধি
পান ভারত উপমহাদেশের ঐতিহ্যেবাহী খাবার যা কৃষ্টি-সংস্কৃতি সাথে মিসে আছে। ঠিক বাংলাদেশেও যেকোন সামাজিক  অনুষ্ঠানে পান না থাকলে তাপূর্ণতা পায় না। শুধু অনুষ্ঠান নয় সারা বছরই পানের চাহিদা থাকে।  সারাদেশে পান উৎপাদনে সুনাম রয়েছে পদ্মাপাড়ের জেলা রাজবাড়ীর। এজেলাতে (দেশাল, গয়াশি, শাচি) জাতের পান বেশি চাষ হয়।
 স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এই পান ভারত পাকিস্তান, যুক্তরাজ্য, জার্মানি, ইতালি সহ বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হতো কিন্তু করোনা পরবর্তীতে পান রপ্তানি বন্ধ হওয়ায় ও পর্যায়ক্রমে উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পর্যাপ্ত দাম না পাওয়ায় পান চাষে আগ্রহ হারাচ্ছে কৃষক। কৃষি বিভাগের তথ্যমতে এবছর রাজবাড়ী জেলার বালিয়াকান্দিতে ৭২ হেক্টর জমিতে পান চাষ হয়েছে।
পানি চাষি মো স্বাধীন শেখ বলেন (৭-৮) বছর আগে ৩ একর এর অধিক জমিতে আমি পান করছি।  এখন ৬০/৭০ শতক জমিতে চাষ আছে কারন উৎপাদন খরচ দিন দিন বাড়ছে, সে তুলনায় বাজার দর নাই বললেই চলে। এজন্য চাষ কমায় দিছি অনেক চাষিই খেত ভেঙে ফেলছে।
বালিয়াকান্দির বেতেঙ্গা গ্রামের পান চাষি
মো মোহর আলি বলেন ২০ বছর যাবত পান চাষ করি, এই পান আগে বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হতো এখন বন্ধ আছে এজন্য আমরা সঠিক দাম পাইনে।  অনেক চাষি এখন পান চাষে বিমুখ হচ্ছে।
জামালপুরের অপর চাষি সাদিক মিয়া জানান একপাক্ষি জমিতে পান চাষে এক থেকে দেড় লক্ষ টাকা খরচ হয়। প্রাপ্য দাম না পাওয়ার কারনে অনেক চাষি ক্ষেত ভেঙে ফেলছে আমিও চাষ কমায়ে দিছি সরকার যদি পদক্ষেপ নিত তাহলে আমরা প্রাপ্য  দাম পেতাম কৃষক লাভবান হতো এভাবে বারবার লোকসান হলে আগামীতে আর পান চাষ করবো না।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রতন কুমার ঘোষ বলেন এই বালিয়াকান্দিতে দেশি, গয়াশি, শাচি ও শাচি পানের চাষ বেশি হয়। করোনা পূর্ববর্তী সময়ে এই পান করাচি, মধ্যেপ্রাচ্য, যুক্তরাজ্য, জার্মানি, ইতালি সহ বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করা হতো। পান একটি কর্থকারী ফসল পানকে টাকার গাছ বলা হয় গাছ থেকে পাতা ছিরলেই টাকা আসে। আমি কতৃপক্ষের কাছে অনুরোধ করবো আবার পান রপ্তানি শুরু করা গেলে  এই উপজেলাতে পানের আবাদ বৃদ্ধি পাবে ও বালিয়াকান্দির অর্থনীতি চাঙা হবে।
জনপ্রিয়

কুবিতে স্টুডেন্ট’স ইউনিয়ন অব নাঙ্গলকোট এর নবীন বরণ অনুষ্ঠিত

রপ্তানি বন্ধ, উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি ও পর্যাপ্ত দাম না পাওয়ায় পান চাষে আগ্রহ হারাচ্ছে চাষিরা

প্রকাশের সময় : ০৬:৫৪:১৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬
মেহেদী হাসান, রাজবাড়ী প্রতিনিধি
পান ভারত উপমহাদেশের ঐতিহ্যেবাহী খাবার যা কৃষ্টি-সংস্কৃতি সাথে মিসে আছে। ঠিক বাংলাদেশেও যেকোন সামাজিক  অনুষ্ঠানে পান না থাকলে তাপূর্ণতা পায় না। শুধু অনুষ্ঠান নয় সারা বছরই পানের চাহিদা থাকে।  সারাদেশে পান উৎপাদনে সুনাম রয়েছে পদ্মাপাড়ের জেলা রাজবাড়ীর। এজেলাতে (দেশাল, গয়াশি, শাচি) জাতের পান বেশি চাষ হয়।
 স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এই পান ভারত পাকিস্তান, যুক্তরাজ্য, জার্মানি, ইতালি সহ বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হতো কিন্তু করোনা পরবর্তীতে পান রপ্তানি বন্ধ হওয়ায় ও পর্যায়ক্রমে উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পর্যাপ্ত দাম না পাওয়ায় পান চাষে আগ্রহ হারাচ্ছে কৃষক। কৃষি বিভাগের তথ্যমতে এবছর রাজবাড়ী জেলার বালিয়াকান্দিতে ৭২ হেক্টর জমিতে পান চাষ হয়েছে।
পানি চাষি মো স্বাধীন শেখ বলেন (৭-৮) বছর আগে ৩ একর এর অধিক জমিতে আমি পান করছি।  এখন ৬০/৭০ শতক জমিতে চাষ আছে কারন উৎপাদন খরচ দিন দিন বাড়ছে, সে তুলনায় বাজার দর নাই বললেই চলে। এজন্য চাষ কমায় দিছি অনেক চাষিই খেত ভেঙে ফেলছে।
বালিয়াকান্দির বেতেঙ্গা গ্রামের পান চাষি
মো মোহর আলি বলেন ২০ বছর যাবত পান চাষ করি, এই পান আগে বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হতো এখন বন্ধ আছে এজন্য আমরা সঠিক দাম পাইনে।  অনেক চাষি এখন পান চাষে বিমুখ হচ্ছে।
জামালপুরের অপর চাষি সাদিক মিয়া জানান একপাক্ষি জমিতে পান চাষে এক থেকে দেড় লক্ষ টাকা খরচ হয়। প্রাপ্য দাম না পাওয়ার কারনে অনেক চাষি ক্ষেত ভেঙে ফেলছে আমিও চাষ কমায়ে দিছি সরকার যদি পদক্ষেপ নিত তাহলে আমরা প্রাপ্য  দাম পেতাম কৃষক লাভবান হতো এভাবে বারবার লোকসান হলে আগামীতে আর পান চাষ করবো না।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রতন কুমার ঘোষ বলেন এই বালিয়াকান্দিতে দেশি, গয়াশি, শাচি ও শাচি পানের চাষ বেশি হয়। করোনা পূর্ববর্তী সময়ে এই পান করাচি, মধ্যেপ্রাচ্য, যুক্তরাজ্য, জার্মানি, ইতালি সহ বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করা হতো। পান একটি কর্থকারী ফসল পানকে টাকার গাছ বলা হয় গাছ থেকে পাতা ছিরলেই টাকা আসে। আমি কতৃপক্ষের কাছে অনুরোধ করবো আবার পান রপ্তানি শুরু করা গেলে  এই উপজেলাতে পানের আবাদ বৃদ্ধি পাবে ও বালিয়াকান্দির অর্থনীতি চাঙা হবে।