রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

দলীয় সিদ্ধান্তে বিভাগীয় সভাপতি অনুপস্থিত, ইবিতে নিয়োগ বোর্ড স্থগিত 

ইবি প্রতিনিধি:

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) কমিউনিকেশন অ্যান্ড মাল্টিমিডিয়া জার্নালিজম বিভাগের সভাপতি ও বিএনপিপন্থী শিক্ষক সংগঠন ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইউট্যাব) ইবি শাখার ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. রশিদুজ্জামানের অসহযোগিতায় সাংবাদিকতা বিভাগের নিয়োগ বোর্ড স্থগিত হয়েছে। দলীয় সিদ্ধান্তে রশিদুজ্জামান উপস্থিত না হওয়ায় রবিবার (২৫ জানুয়ারি) সকাল ১০টায় প্রশাসন নিয়োগ স্থগিত করার ঘোষণা দেয়। এতে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে প্রার্থীরা।

জানা যায়, রবিবার সকাল ১০ টা থেকে নিয়োগ বোর্ড অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বিএনপিপন্থী শিক্ষক সংগঠন ইউট্যাবের সিদ্ধান্তে নিয়োগ বোর্ডে উপস্থিত হননি রাশিদুজ্জামান। শিক্ষার্থীদের স্বার্থকে জলাঞ্জলি দেওয়া রাশিদুজ্জামান দলীয় সিদ্ধান্তে অটল থাকেন। ফলে নিয়োগ বোর্ড স্থগিত হয়। এদিকে নিয়োগ পরীক্ষা দিতে আসা প্রার্থীরা হলে দু’ঘন্টা অপেক্ষা করেন। পরে নিয়োগ স্থগিতের সিদ্ধান্তের কথা শুনে দূরদূরান্ত থেকে আসা পরীক্ষার্থীদের মধ্যে চরম অসন্তোষ ও ক্ষোভের উদ্রেক সৃষ্টি হয়েছে।

তারা জানিয়েছেন, নিয়োগ পরীক্ষা দিতে এসে আমরা হতাশ হয়েছি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আমাদেরকে এভাবে হয়রানি না করলেও পারতেন। তবে যে শিক্ষকের অনুপস্থিতির জন্য নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত হয়েছে তাকে আমাদের কষ্টের কথা একটু ভাবা উচিত ছিল।

এ বিষয়ে জানার জন্য রশিদুজ্জামানের সাথে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা হলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

এদিকে ইউট্যাবের সভাপতি অধ্যাপক ড. তোজাম্মেল হোসেন বলেন, নিয়োগের অধিকতর স্বচ্ছতার জন্য আমরা জাতীয় নির্বাচনের পূর্বে সকল নিয়োগ বন্ধ রাখার জন্য বলেছি। আমাদের সংগঠনের সিদ্ধান্তেই আজকের নিয়োগ বোর্ডে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক উপস্থিত হননি। নির্বাচনের লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরিতে যাতে বিঘ্ন না ঘটে এ জন্য আমরা এ সিদ্ধান্ত নিয়েছি। অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগ হতে পারে, তবে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেক্ষিতে নির্বাচনের আগে কোন প্রকার নিয়োগ না হোক এটাই আমাদের চাওয়া।

এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ বলেন, আমাদের বোর্ডের বাকি ৩জন সদস্য উপস্থিত ছিলেন। প্রার্থীরাও নির্দিষ্ট সময়ে উপস্থিত ছিলো। গতকাল পর্যন্ত বিভাগের সভাপতি আমাদের আশ্বস্ত করেছেন তিনি উপস্থিত থাকবেন। তবে আজ তিনি আসেননি, দলগত সিদ্ধান্তের কারণে তিনি আসতে পারবে না বলে জানিয়েছে। তার অনুপস্থিতির কারণেই আজকের বোর্ডটি স্থগিত করা হয়েছে। অতিসত্বর এই বোর্ডটি পুনরায় অনুষ্ঠিত হবে।

এসময় প্রার্থীদের ভোগান্তি এবং যাতায়াত খরচের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটি মিটিংয়ের পর জানানো হবে। তবে বিষয়টি আমাদের নজরে আছে। সাময়িক অসুবিধার জন্য তিনিও দুঃখ প্রকাশ করেন।

প্রসঙ্গত, চরম শিক্ষক সংকটে ভুগছে কমিউনিকেশন অ্যান্ড মাল্টিমিডিয়া জার্নালিজম বিভাগ। মাত্র ৩ জন শিক্ষক দিয়ে চলছে বিভাগটির শিক্ষা কার্যক্রম। এর প্রেক্ষিতে বিভাগটিতে তিন পদে নতুন শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। এর মাঝে সহকারী অধ্যাপক পদে ২টি ও প্রভাষক পদে ১টি। তবে আজ বেলা ১০ টায় নিয়োগ পরীক্ষার বোর্ড হওয়ার কথা থাকলেও বোর্ডের অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত থাকলেও বিভাগীয় সভাপতি অনুপস্থিত থাকায় তা বন্ধ হয়ে যায়। এর আগে গত ১৪ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন ইউট্যাব আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির আগে সকল ধরনের নিয়োগ বন্ধের দাবি জানিয়ে উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি দেন। এছাড়া গতকাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা রেজিস্ট্রার বরাবর জাতীয় নির্বাচনের আগে সকল নিয়োগ স্থগিতের দাবি জানান।

জনপ্রিয়

সুন্দরবনে বনদস্যুদের তান্ডবে শুঁটকি মাছ আহরণে সংকটে জেলেরা

দলীয় সিদ্ধান্তে বিভাগীয় সভাপতি অনুপস্থিত, ইবিতে নিয়োগ বোর্ড স্থগিত 

প্রকাশের সময় : ০৩:২৩:২৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬

ইবি প্রতিনিধি:

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) কমিউনিকেশন অ্যান্ড মাল্টিমিডিয়া জার্নালিজম বিভাগের সভাপতি ও বিএনপিপন্থী শিক্ষক সংগঠন ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইউট্যাব) ইবি শাখার ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. রশিদুজ্জামানের অসহযোগিতায় সাংবাদিকতা বিভাগের নিয়োগ বোর্ড স্থগিত হয়েছে। দলীয় সিদ্ধান্তে রশিদুজ্জামান উপস্থিত না হওয়ায় রবিবার (২৫ জানুয়ারি) সকাল ১০টায় প্রশাসন নিয়োগ স্থগিত করার ঘোষণা দেয়। এতে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে প্রার্থীরা।

জানা যায়, রবিবার সকাল ১০ টা থেকে নিয়োগ বোর্ড অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বিএনপিপন্থী শিক্ষক সংগঠন ইউট্যাবের সিদ্ধান্তে নিয়োগ বোর্ডে উপস্থিত হননি রাশিদুজ্জামান। শিক্ষার্থীদের স্বার্থকে জলাঞ্জলি দেওয়া রাশিদুজ্জামান দলীয় সিদ্ধান্তে অটল থাকেন। ফলে নিয়োগ বোর্ড স্থগিত হয়। এদিকে নিয়োগ পরীক্ষা দিতে আসা প্রার্থীরা হলে দু’ঘন্টা অপেক্ষা করেন। পরে নিয়োগ স্থগিতের সিদ্ধান্তের কথা শুনে দূরদূরান্ত থেকে আসা পরীক্ষার্থীদের মধ্যে চরম অসন্তোষ ও ক্ষোভের উদ্রেক সৃষ্টি হয়েছে।

তারা জানিয়েছেন, নিয়োগ পরীক্ষা দিতে এসে আমরা হতাশ হয়েছি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আমাদেরকে এভাবে হয়রানি না করলেও পারতেন। তবে যে শিক্ষকের অনুপস্থিতির জন্য নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত হয়েছে তাকে আমাদের কষ্টের কথা একটু ভাবা উচিত ছিল।

এ বিষয়ে জানার জন্য রশিদুজ্জামানের সাথে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা হলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

এদিকে ইউট্যাবের সভাপতি অধ্যাপক ড. তোজাম্মেল হোসেন বলেন, নিয়োগের অধিকতর স্বচ্ছতার জন্য আমরা জাতীয় নির্বাচনের পূর্বে সকল নিয়োগ বন্ধ রাখার জন্য বলেছি। আমাদের সংগঠনের সিদ্ধান্তেই আজকের নিয়োগ বোর্ডে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক উপস্থিত হননি। নির্বাচনের লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরিতে যাতে বিঘ্ন না ঘটে এ জন্য আমরা এ সিদ্ধান্ত নিয়েছি। অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগ হতে পারে, তবে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেক্ষিতে নির্বাচনের আগে কোন প্রকার নিয়োগ না হোক এটাই আমাদের চাওয়া।

এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ বলেন, আমাদের বোর্ডের বাকি ৩জন সদস্য উপস্থিত ছিলেন। প্রার্থীরাও নির্দিষ্ট সময়ে উপস্থিত ছিলো। গতকাল পর্যন্ত বিভাগের সভাপতি আমাদের আশ্বস্ত করেছেন তিনি উপস্থিত থাকবেন। তবে আজ তিনি আসেননি, দলগত সিদ্ধান্তের কারণে তিনি আসতে পারবে না বলে জানিয়েছে। তার অনুপস্থিতির কারণেই আজকের বোর্ডটি স্থগিত করা হয়েছে। অতিসত্বর এই বোর্ডটি পুনরায় অনুষ্ঠিত হবে।

এসময় প্রার্থীদের ভোগান্তি এবং যাতায়াত খরচের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটি মিটিংয়ের পর জানানো হবে। তবে বিষয়টি আমাদের নজরে আছে। সাময়িক অসুবিধার জন্য তিনিও দুঃখ প্রকাশ করেন।

প্রসঙ্গত, চরম শিক্ষক সংকটে ভুগছে কমিউনিকেশন অ্যান্ড মাল্টিমিডিয়া জার্নালিজম বিভাগ। মাত্র ৩ জন শিক্ষক দিয়ে চলছে বিভাগটির শিক্ষা কার্যক্রম। এর প্রেক্ষিতে বিভাগটিতে তিন পদে নতুন শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। এর মাঝে সহকারী অধ্যাপক পদে ২টি ও প্রভাষক পদে ১টি। তবে আজ বেলা ১০ টায় নিয়োগ পরীক্ষার বোর্ড হওয়ার কথা থাকলেও বোর্ডের অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত থাকলেও বিভাগীয় সভাপতি অনুপস্থিত থাকায় তা বন্ধ হয়ে যায়। এর আগে গত ১৪ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন ইউট্যাব আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির আগে সকল ধরনের নিয়োগ বন্ধের দাবি জানিয়ে উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি দেন। এছাড়া গতকাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা রেজিস্ট্রার বরাবর জাতীয় নির্বাচনের আগে সকল নিয়োগ স্থগিতের দাবি জানান।