
যশোর অফিস
নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের বাগেরহাট সদর উপজেলা শাখার সভাপতি জুয়েল হাসান ওরফে সাদ্দাম জামিনে কারামুক্ত হয়েছেন। বুধবার দুপুরে দুইটার দিকে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে তিনি মুক্তি পান। কারামুক্তির পরপরই তিনি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বাগেরহাটের উদ্দেশে যশোর ত্যাগ করেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের ভারপ্রাপ্ত সিনিয়র জেল সুপার (সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট) মো. আসিফ উদ্দিন।
কারামুক্ত হওয়ার পর মোবাইল ফোনে সাদ্দাম বলেন,‘আমার স্ত্রী ও সন্তানের কবরের কাছে যেতে মন ছটপট করছে। মন কাঁদছে।’তিনি জানান, ওই উদ্দেশ্যেই তিনি বাগেরহাটে যাচ্ছেন।
সাদ্দাম বলেন,‘আমি কোনো বড় নেতা নই।আমি শুধু উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলাম। কোনো দখলবাজি বা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলাম না।২০২৫ সালের ৫ এপ্রিল সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় আমাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। ওই মামলায় জামিন পাওয়ার পরপরই একের পর এক নতুন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের সূত্র থেকে বলা হয়েছে সর্বশেষ গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর তাঁকে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে আনা হয়। এরপর ১৮ ডিসেম্বর সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় তাঁকে আবার গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
কারাবন্দী থাকা অবস্থায় সাদ্দামের স্ত্রী কানিজ স্বর্ণালী নয় মাসের শিশুসন্তান সেজাদ হাসান নাজিফকে হত্যার পর আত্মহত্যা করেন। ওই ঘটনায় দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়। এরপর সাদ্দামের প্যারোলে মুক্তির আবেদন করা হলেও তা মঞ্জুর হয়নি।
মৃত্যুর পরদিন,২৪ জানুয়ারি, তাঁর স্ত্রী ও সন্তানের লাশ অ্যাম্বুলেন্সে করে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের গেটে আনা হয়। সেদিন সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে পাঁচ মিনিটের জন্য জেলগেটের ভেতরে তাঁদের লাশ দেখার সুযোগ পান সাদ্দাম। পরে হাইকোর্ট ২৬ জানুয়ারি তাঁর ছয় মাসের জামিন মঞ্জুর করেন। এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার দুপুরে তিনি কারামুক্ত হন।
যশোর অফিস 






































