
কোম্পানির চলমান পুনর্গঠন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বিশ্বব্যাপী আরও ১৬ হাজার কর্মী ছাঁটাই করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্বের শীর্ষ ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান অ্যামাজন।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছরের অক্টোবর মাসে প্রতিষ্ঠানটি প্রথম দফায় ১৪ হাজার পদ কমানোর ঘোষণা দিয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতায় মোট ছাঁটাইয়ের সংখ্যা দাঁড়াচ্ছে প্রায় ৩০ হাজারে। বুধবার অ্যামাজনের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট বেথ গ্যালেটি এক বিবৃতিতে বলেন, এই পদক্ষেপের লক্ষ্য হচ্ছে প্রতিষ্ঠানের সাংগঠনিক স্তর কমানো, দায়িত্ববোধ বাড়ানো এবং অপ্রয়োজনীয় আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দূর করা, যাতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও উদ্ভাবনের গতি বাড়ে।
গত অক্টোবরের ১৪ হাজার চাকরি ছাঁটাইয়ের তিন মাসের মাথায় আবারও বড় ছাঁটাই রাউন্ড ঘোষণা করলো অ্যামাজন। কোম্পানির বরাতে জানা গেছে, প্রথম ছাঁটাইয়ের সময় তারা বলেছিল, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং করপোরেট সংস্কৃতির পরিবর্তন এই সিদ্ধান্তের পেছনে মূল কারণ।
অ্যামাজন জানিয়েছে, কোভিড ১৯ মহামারির সময়ে অনলাইন কেনাকাটার চাহিদা এত বেশি বৃদ্ধি পায় যে তারা অতিরিক্ত কর্মী নিয়োগ করেছিল। গ্যালেটি বুধবারের বিবৃতিতে আরও বলেন, ‘এটি আমাদের নিয়মিত পরিকল্পিত ছাঁটাই নয়। তবে এআইর ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় কাজের স্বয়ংক্রিয়তা বাড়ছে, যা করপোরেট চাকরিতে প্রভাব ফেলছে।’
মঙ্গলবার অ্যামাজন কিছু অ্যামাজন ওয়েব সার্ভিসেস কর্মীকে ভুলবশত ছাঁটাই পরিকল্পনাকে ‘প্রজেক্ট ডন’ হিসেবে উল্লেখ করে ইমেল পাঠায়। এতে হাজার হাজার কর্মী অস্থির হয়ে পড়েন। প্রভাবিত ইউনিটের মধ্যে রয়েছে অ্যালেক্সা ভয়েস অ্যাসিস্ট্যান্ট, প্রাইম ভিডিও, ডিভাইস, বিজ্ঞাপন, লাস্ট মাইল ডেলিভারি, কিঙ্কল এবং সাপ্লাই চেইন অপ্টিমাইজেশন।
অ্যামাজন তার ই-কমার্স ইউনিটে প্যাকেজিং ও ডেলিভারি আরও দ্রুত করার জন্য রোবোটিক্সে বিনিয়োগ করছে, যাতে মানব শ্রমের উপর নির্ভরতা কমানো যায় এবং খরচ হ্রাস করা সম্ভব হয়।
তবে এই দফায় অ্যামাজনের কোন বিভাগ বা অঞ্চলের কতজন কর্মী এর আওতায় পড়বেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানায়নি। কোম্পানির ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতিটি টিম নিজেদের কাজের গতি, মালিকানা ও গ্রাহককেন্দ্রিক উদ্ভাবন সক্ষমতা মূল্যায়ন করে প্রয়োজনীয় সমন্বয় করবে।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক।। 






































