শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬, ১৬ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

শবে বরাতে কি ভাগ্য লেখা হয়?

  • ধর্ম ডেস্ক
  • প্রকাশের সময় : ১১:২৫:৪৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬
  • ১৯

ছবি-সংগৃহীত

শবে বরাত মর্যাদাপূর্ণ রাত। এটি হিজরি শাবান মাসের ১৪ তারিখ রাতকে বলা হয়। শবে বরাত ফারসি ভাষার শব্দ। ‘শব’ অর্থ রাত। আর ‘বরাত’ শব্দের অর্থ, মুক্তি, শান্তি, সৌভাগ্য।

অনেকে জানতে চান, শবে বরাতে কি ভাগ্য লেখা হয়?

 
এর উত্তরে ফুকাহায়ে কেরাম বলেন, শবে বরাতে ভাগ্য লেখা হয় এটি পুরোপুরি ভিত্তিহীন ধারণা। শবে বরাতে ভাগ্য নির্ধারণ করা হয় না। 
 
পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ সুস্পষ্টভাবে বলেছেন ভাগ্য নির্ধারণ করা হয় কোরআন নাজিলের রাতে। মহান আল্লাহ বলেন,
حٰمٓ وَ الۡكِتٰبِ الۡمُبِیۡنِ اِنَّاۤ اَنۡزَلۡنٰهُ فِیۡ لَیۡلَۃٍ مُّبٰرَكَۃٍ اِنَّا كُنَّا مُنۡذِرِیۡنَ فِیۡهَا یُفۡرَقُ كُلُّ اَمۡرٍ حَكِیۡمٍ اَمۡرًا مِّنۡ عِنۡدِنَا اِنَّا كُنَّا مُرۡسِلِیۡنَ
অর্থ: হা-মিম! সুস্পষ্ট কিতাবের কসম! নিশ্চয়ই আমি তা নাজিল করেছি এক বরকতময় রাতে, আমি তো সতর্ককারী। সে রাতে প্রত্যেক প্রজ্ঞাপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত অনুমোদিত হয় আমার নির্দেশে। আমিই রাসুল প্রেরণকারী। (সুরা দুখান ১-৫)।
 
আরেক আয়াতে থেকে বোঝা যায় কোরআন রমজানে কদরের রাতে অবতীর্ণ হয়েছে। মহান আল্লাহ বলেন,

شَهۡرُ رَمَضَانَ الَّذِیۡۤ اُنۡزِلَ فِیۡهِ الۡقُرۡاٰنُ هُدًی لِّلنَّاسِ وَ بَیِّنٰتٍ مِّنَ الۡهُدٰی وَ الۡفُرۡقَانِ

 

অর্থ: রমজান মাস, যাতে কুরআন নাজিল করা হয়েছে মানুষের জন্য হিদায়াতস্বরূপ এবং হিদায়াতের সুস্পষ্ট নিদর্শনাবলী ও সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারীরূপে। (সুরা বাকারা ১৮৫)
 
মহান আল্লাহ বলেন,

اِنَّاۤ اَنۡزَلۡنٰهُ فِیۡ لَیۡلَۃِ الۡقَدۡرِ অর্থ: নিশ্চয়ই আমি এটি (কোরআন) নাজিল করেছি লাইলাতুল কদরে। (সুরা কদর ১)

 

এ রাতে মহান আল্লাহ পৃথিবীবাসীর দিকে রহমতের দৃষ্টি দেন এবং বহুসংখ্যক মানুষকে ক্ষমা করে দেন। আবু মুসা আশআরি (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে আছে, রসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
 

إِنَّ اللَّهَ لَيَطَّلِعُ فِي لَيْلَةِ النِّصْفِ مِنْ شَعْبَانَ فَيَغْفِرُ لِجَمِيعِ خَلْقِهِ إِلاَّ لِمُشْرِكٍ أَوْ مُشَاحِنٍ ‏

 

অর্থ: মহান আল্লাহ মধ্য শাবানের রাতে পৃথিবীবাসীর দিকে দৃষ্টি দেন এবং মুশরিক ও হিংসুক ছাড়া তাঁর সৃষ্টির সবাইকে ক্ষমা করে দেন। (ইবনে মাজা ১৩৯০)
 
প্রতি চান্দ্র মাসে তিন দিন রোজা রাখা সুন্নত। নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজেও প্রতি মাসে তিন দিন রোজা রাখতেন, সাহাবীদেরকেও মাসে তিন দিন রোজা রাখতে বলতেন। (তিরমিজি ৭৬০; ৭৬৩)
 
প্রতি মাসে তিন দিন রোজা রাখা সুন্নত। এ তিন দিন মাসের শুরুতেও হতে পারে, মাঝেও হতে পারে, আবার শেষেও হতে পারে। কিন্তু কিছু কিছু হাদিসে স্পষ্ট আছে যে, নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবীদেরকে বিশেষভাবে মাসের ১৩, ১৪, ১৫ তারিখ (যাকে আইয়ামে বীজ বলা হয়) রোজা রাখতে বলেছেন। (তিরমিজি ৭৬১)
 
হাফেজ ইবনে হাজার (রহ.) বলেছেন, যে তিন দিনের কথা নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলে গেছেন, সেই তিন দিন রোজা রাখাই সর্বোত্তম। (ফাতহুল বারী, ১৯৮১)

সে হিসেবে প্রতি মাসের আইয়ামে বীজে রোজা রাখা সুন্নত। শাবান মাসও এর ব্যতিক্রম নয়। তাই শাবান মাসের আইয়ামে বীজে (১৩, ১৪, ১৫) রোজা রাখাও সুন্নত। ১৫ তারিখ আইয়ামে বীজের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কারণে ১৫ তারিখ রোজা রাখাও সুন্নত। —সময় সংবাদ
জনপ্রিয়

শেখ হাসিনা-কামালসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিল

শবে বরাতে কি ভাগ্য লেখা হয়?

প্রকাশের সময় : ১১:২৫:৪৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬

শবে বরাত মর্যাদাপূর্ণ রাত। এটি হিজরি শাবান মাসের ১৪ তারিখ রাতকে বলা হয়। শবে বরাত ফারসি ভাষার শব্দ। ‘শব’ অর্থ রাত। আর ‘বরাত’ শব্দের অর্থ, মুক্তি, শান্তি, সৌভাগ্য।

অনেকে জানতে চান, শবে বরাতে কি ভাগ্য লেখা হয়?

 
এর উত্তরে ফুকাহায়ে কেরাম বলেন, শবে বরাতে ভাগ্য লেখা হয় এটি পুরোপুরি ভিত্তিহীন ধারণা। শবে বরাতে ভাগ্য নির্ধারণ করা হয় না। 
 
পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ সুস্পষ্টভাবে বলেছেন ভাগ্য নির্ধারণ করা হয় কোরআন নাজিলের রাতে। মহান আল্লাহ বলেন,
حٰمٓ وَ الۡكِتٰبِ الۡمُبِیۡنِ اِنَّاۤ اَنۡزَلۡنٰهُ فِیۡ لَیۡلَۃٍ مُّبٰرَكَۃٍ اِنَّا كُنَّا مُنۡذِرِیۡنَ فِیۡهَا یُفۡرَقُ كُلُّ اَمۡرٍ حَكِیۡمٍ اَمۡرًا مِّنۡ عِنۡدِنَا اِنَّا كُنَّا مُرۡسِلِیۡنَ
অর্থ: হা-মিম! সুস্পষ্ট কিতাবের কসম! নিশ্চয়ই আমি তা নাজিল করেছি এক বরকতময় রাতে, আমি তো সতর্ককারী। সে রাতে প্রত্যেক প্রজ্ঞাপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত অনুমোদিত হয় আমার নির্দেশে। আমিই রাসুল প্রেরণকারী। (সুরা দুখান ১-৫)।
 
আরেক আয়াতে থেকে বোঝা যায় কোরআন রমজানে কদরের রাতে অবতীর্ণ হয়েছে। মহান আল্লাহ বলেন,

شَهۡرُ رَمَضَانَ الَّذِیۡۤ اُنۡزِلَ فِیۡهِ الۡقُرۡاٰنُ هُدًی لِّلنَّاسِ وَ بَیِّنٰتٍ مِّنَ الۡهُدٰی وَ الۡفُرۡقَانِ

 

অর্থ: রমজান মাস, যাতে কুরআন নাজিল করা হয়েছে মানুষের জন্য হিদায়াতস্বরূপ এবং হিদায়াতের সুস্পষ্ট নিদর্শনাবলী ও সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারীরূপে। (সুরা বাকারা ১৮৫)
 
মহান আল্লাহ বলেন,

اِنَّاۤ اَنۡزَلۡنٰهُ فِیۡ لَیۡلَۃِ الۡقَدۡرِ অর্থ: নিশ্চয়ই আমি এটি (কোরআন) নাজিল করেছি লাইলাতুল কদরে। (সুরা কদর ১)

 

এ রাতে মহান আল্লাহ পৃথিবীবাসীর দিকে রহমতের দৃষ্টি দেন এবং বহুসংখ্যক মানুষকে ক্ষমা করে দেন। আবু মুসা আশআরি (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে আছে, রসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
 

إِنَّ اللَّهَ لَيَطَّلِعُ فِي لَيْلَةِ النِّصْفِ مِنْ شَعْبَانَ فَيَغْفِرُ لِجَمِيعِ خَلْقِهِ إِلاَّ لِمُشْرِكٍ أَوْ مُشَاحِنٍ ‏

 

অর্থ: মহান আল্লাহ মধ্য শাবানের রাতে পৃথিবীবাসীর দিকে দৃষ্টি দেন এবং মুশরিক ও হিংসুক ছাড়া তাঁর সৃষ্টির সবাইকে ক্ষমা করে দেন। (ইবনে মাজা ১৩৯০)
 
প্রতি চান্দ্র মাসে তিন দিন রোজা রাখা সুন্নত। নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজেও প্রতি মাসে তিন দিন রোজা রাখতেন, সাহাবীদেরকেও মাসে তিন দিন রোজা রাখতে বলতেন। (তিরমিজি ৭৬০; ৭৬৩)
 
প্রতি মাসে তিন দিন রোজা রাখা সুন্নত। এ তিন দিন মাসের শুরুতেও হতে পারে, মাঝেও হতে পারে, আবার শেষেও হতে পারে। কিন্তু কিছু কিছু হাদিসে স্পষ্ট আছে যে, নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবীদেরকে বিশেষভাবে মাসের ১৩, ১৪, ১৫ তারিখ (যাকে আইয়ামে বীজ বলা হয়) রোজা রাখতে বলেছেন। (তিরমিজি ৭৬১)
 
হাফেজ ইবনে হাজার (রহ.) বলেছেন, যে তিন দিনের কথা নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলে গেছেন, সেই তিন দিন রোজা রাখাই সর্বোত্তম। (ফাতহুল বারী, ১৯৮১)

সে হিসেবে প্রতি মাসের আইয়ামে বীজে রোজা রাখা সুন্নত। শাবান মাসও এর ব্যতিক্রম নয়। তাই শাবান মাসের আইয়ামে বীজে (১৩, ১৪, ১৫) রোজা রাখাও সুন্নত। ১৫ তারিখ আইয়ামে বীজের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কারণে ১৫ তারিখ রোজা রাখাও সুন্নত। —সময় সংবাদ