বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬, ১৬ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

শালীর সঙ্গে প্রেম পরে অন্যত্র বিয়ে: অতঃপর…

ছবি-সংগৃহীত

শালীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। পরে সেই শালীর অন্যত্র বিয়ে হওয়ায় জমে ওঠে তীব্র ক্ষোভ। সেই ক্ষোভ থেকেই পরিকল্পিতভাবে শালীর স্বামীকে ডেকে নিয়ে হত্যা করা হয়। এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে কিশোর রাজু মিঞা (১৯) হত্যার তদন্তে। পুলিশ এ ঘটনায় মূলহোতাসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে এবং হত্যায় ব্যবহৃত ছুরি উদ্ধার করেছে।

গ্রেপ্তার আসামি মো. ফিরোজ আহাম্মদ (৩৪) বুধবার (২৮ জানুয়ারি) চট্টগ্রামের চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। এর আগে গত মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) কুমিল্লার কোতোয়ালী থানাধীন পাঁচথুবি এলাকা থেকে ফিরোজ আহাম্মদকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ফাতেমা বেগমকে (৪২) গ্রেপ্তার করা হয়। ফাতেমা বেগম সম্পর্কে ফিরোজের শাশুড়ি।

পুলিশ জানায়, গত ২১ জানুয়ারি রাতে ফটিকছড়ি উপজেলার ধর্মপুর গ্রামের বাসিন্দা রাজু মিঞা তার মালিকানাধীন ভাঙারির দোকানে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হন। এরপর থেকে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া গেলে পরিবারের সদস্যরা তাকে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।

খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে গত সোমবার (২৬ জানুয়ারি) সকালে ধর্মপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বেড়িবাঁধসংলগ্ন পেয়ারুল ইসলামের সেগুন বাগানের পশ্চিম পাশে খনখাইয়া খালের ঢাল থেকে রাজুর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের বাবা অজ্ঞাত পরিচয়ের ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ফটিকছড়ি থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।

এদিকে ঘটনার খবর জানাজানি হলে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। মামলাটি তদন্তের অংশ হিসেবে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় একাধিক স্থানে অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ। এর ধারাবাহিকতায় ভিত্তিতে মঙ্গলবার কুমিল্লা জেলার কোতোয়ালী থানাধীন পাঁচথুবি এলাকা থেকে মামলার মূল আসামি মো. ফিরোজ আহাম্মদকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন এবং ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ দেন।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ফিরোজ আহাম্মদের বাড়ি চট্টগ্রামের রাউজান এলাকায়। তিনি ঢাকায় চাকরি করতেন। তার স্ত্রী ফটিকছড়ির ধর্মপুর এলাকায় বাবার বাড়িতে বসবাস করতেন। ওই সময় ফিরোজ তার স্ত্রীর ছোট বোনের সঙ্গে প্রেমে জড়িয়ে পড়েন। পরে সেই নারী প্রতিবেশী রাজু মিঞার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। সামাজিক মীমাংসার মাধ্যমে সম্প্রতি ভুক্তভোগী রাজুর সঙ্গে ফিরোজের শালীর বিয়ে হয়।

এই বিয়েকে কেন্দ্র করে ফিরোজ আহাম্মদ ও তার শাশুড়ি ফাতেমা বেগম ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। স্থানীয়ভাবে সামাজিক মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও তাদের ক্ষোভ প্রশমিত হয়নি। একপর্যায়ে তারা রাজু মিঞাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।

চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রাসেল জানান, পরিকল্পনা অনুযায়ী ২১ জানুয়ারি রাতে ফিরোজ আহাম্মদ কৌশলে রাজুকে তার স্ত্রীর একটি থ্রি-পিস দেওয়ার কথা বলে খনখাইয়া খালের পাড়ে ডেকে নেন। সেখানে পৌঁছানোর পর ধারালো ছুরি দিয়ে রাজুর পেট, গলা ও পিঠে একাধিক আঘাত করা হয়। এতে ঘটনাস্থলেই রাজুর মৃত্যু হয়। হত্যার পর আসামি মরদেহ খালের ঢালে বালিচাপা দেন এবং হত্যায় ব্যবহৃত ছুরিটি খালের পানিতে ফেলে দেন। রাজুর সঙ্গে থাকা থ্রি-পিসটি পাশের সেগুন বাগানে ফেলে দিয়ে তিনি প্রথমে ঢাকায় এবং পরে কুমিল্লায় পালিয়ে যান।

তিনি আরও বলেন, আসামির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ পরবর্তী অভিযানে হত্যার পরিকল্পনায় জড়িত অপর আসামি ফাতেমা বেগমকে গ্রেপ্তার করে। একইসঙ্গে খনখাইয়া খাল থেকে হত্যায় ব্যবহৃত ছুরি এবং সেগুন বাগান থেকে থ্রি-পিস উদ্ধার করা হয়।

জনপ্রিয়

শেখ হাসিনা-কামালসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিল

শালীর সঙ্গে প্রেম পরে অন্যত্র বিয়ে: অতঃপর…

প্রকাশের সময় : ১১:৫৬:১৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬

শালীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। পরে সেই শালীর অন্যত্র বিয়ে হওয়ায় জমে ওঠে তীব্র ক্ষোভ। সেই ক্ষোভ থেকেই পরিকল্পিতভাবে শালীর স্বামীকে ডেকে নিয়ে হত্যা করা হয়। এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে কিশোর রাজু মিঞা (১৯) হত্যার তদন্তে। পুলিশ এ ঘটনায় মূলহোতাসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে এবং হত্যায় ব্যবহৃত ছুরি উদ্ধার করেছে।

গ্রেপ্তার আসামি মো. ফিরোজ আহাম্মদ (৩৪) বুধবার (২৮ জানুয়ারি) চট্টগ্রামের চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। এর আগে গত মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) কুমিল্লার কোতোয়ালী থানাধীন পাঁচথুবি এলাকা থেকে ফিরোজ আহাম্মদকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ফাতেমা বেগমকে (৪২) গ্রেপ্তার করা হয়। ফাতেমা বেগম সম্পর্কে ফিরোজের শাশুড়ি।

পুলিশ জানায়, গত ২১ জানুয়ারি রাতে ফটিকছড়ি উপজেলার ধর্মপুর গ্রামের বাসিন্দা রাজু মিঞা তার মালিকানাধীন ভাঙারির দোকানে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হন। এরপর থেকে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া গেলে পরিবারের সদস্যরা তাকে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।

খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে গত সোমবার (২৬ জানুয়ারি) সকালে ধর্মপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বেড়িবাঁধসংলগ্ন পেয়ারুল ইসলামের সেগুন বাগানের পশ্চিম পাশে খনখাইয়া খালের ঢাল থেকে রাজুর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের বাবা অজ্ঞাত পরিচয়ের ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ফটিকছড়ি থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।

এদিকে ঘটনার খবর জানাজানি হলে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। মামলাটি তদন্তের অংশ হিসেবে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় একাধিক স্থানে অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ। এর ধারাবাহিকতায় ভিত্তিতে মঙ্গলবার কুমিল্লা জেলার কোতোয়ালী থানাধীন পাঁচথুবি এলাকা থেকে মামলার মূল আসামি মো. ফিরোজ আহাম্মদকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন এবং ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ দেন।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ফিরোজ আহাম্মদের বাড়ি চট্টগ্রামের রাউজান এলাকায়। তিনি ঢাকায় চাকরি করতেন। তার স্ত্রী ফটিকছড়ির ধর্মপুর এলাকায় বাবার বাড়িতে বসবাস করতেন। ওই সময় ফিরোজ তার স্ত্রীর ছোট বোনের সঙ্গে প্রেমে জড়িয়ে পড়েন। পরে সেই নারী প্রতিবেশী রাজু মিঞার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। সামাজিক মীমাংসার মাধ্যমে সম্প্রতি ভুক্তভোগী রাজুর সঙ্গে ফিরোজের শালীর বিয়ে হয়।

এই বিয়েকে কেন্দ্র করে ফিরোজ আহাম্মদ ও তার শাশুড়ি ফাতেমা বেগম ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। স্থানীয়ভাবে সামাজিক মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও তাদের ক্ষোভ প্রশমিত হয়নি। একপর্যায়ে তারা রাজু মিঞাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।

চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রাসেল জানান, পরিকল্পনা অনুযায়ী ২১ জানুয়ারি রাতে ফিরোজ আহাম্মদ কৌশলে রাজুকে তার স্ত্রীর একটি থ্রি-পিস দেওয়ার কথা বলে খনখাইয়া খালের পাড়ে ডেকে নেন। সেখানে পৌঁছানোর পর ধারালো ছুরি দিয়ে রাজুর পেট, গলা ও পিঠে একাধিক আঘাত করা হয়। এতে ঘটনাস্থলেই রাজুর মৃত্যু হয়। হত্যার পর আসামি মরদেহ খালের ঢালে বালিচাপা দেন এবং হত্যায় ব্যবহৃত ছুরিটি খালের পানিতে ফেলে দেন। রাজুর সঙ্গে থাকা থ্রি-পিসটি পাশের সেগুন বাগানে ফেলে দিয়ে তিনি প্রথমে ঢাকায় এবং পরে কুমিল্লায় পালিয়ে যান।

তিনি আরও বলেন, আসামির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ পরবর্তী অভিযানে হত্যার পরিকল্পনায় জড়িত অপর আসামি ফাতেমা বেগমকে গ্রেপ্তার করে। একইসঙ্গে খনখাইয়া খাল থেকে হত্যায় ব্যবহৃত ছুরি এবং সেগুন বাগান থেকে থ্রি-পিস উদ্ধার করা হয়।