বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

দ্রব্যমূল্য ও নির্বাচন নিয়ে জনমনে শঙ্কা, আস্থা ফেরানোর তাগিদ

দেশের বিদ্যমান রাজনৈতিক বাস্তবতা, নির্বাচন ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা এবং লাগামহীন দ্রব্যমূল্যের চাপে পিষ্ট সাধারণ মানুষের ভাবনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ভোটারদের মধ্যে আস্থা ফেরানোর তাগিদ দিয়েছেন বিশিষ্টজনরা।

তারা বলেছেন, ভোটারদের আস্থা পুনর্গঠন এবং জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে দেশের গণতন্ত্রের সংকট আরও ঘনীভূত হবে।

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা পাবলিক ইন্টেগ্রিটি নেটওয়ার্ক (পাইনেট) আয়োজিত ‘দ্রব্যমূল্য ও ভোটার ভাবনা’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা এসব কথা বলেন।

গোলটেবিল বৈঠকে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এইচএম মোশাররফ হোসেন।

সভায় আরও বক্তৃতা করেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ড. শিব্বির আহমেদ, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দিদারুল ভূঁইয়া, সাবেক সচিব সালেহা আফরোজ, বিআইজিএমর সহযোগী অধ্যাপক ড. জোবায়ের আহমেদ এবং অপরাজিতা বিডির সম্পাদক আকলিমা ফেরদৌসী, বাসদের কেন্দ্রীয় নেতা রাজেকুজ্জামান রতন, ক্যাব প্রতিনিধি মোহা. শওকত আলী খান, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আব্দুল লতিফ মাসুম প্রমুখ।‌

আলোচনায় বক্তারা বলেন, বর্তমান সময়ে ভোটারদের একটি বড় অংশ রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির চেয়ে বাস্তব জীবনের সংকটগুলোকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। বিশেষ করে নিত্যপণ্যের আকাশচুম্বী দাম, কর্মসংস্থান ও আয়ের সঙ্গে ব্যয়ের ভারসাম্যহীনতা মানুষকে রাজনীতিবিমুখ করে তুলছে। এসব সমস্যার সমাধান না হলে ভোটারদের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি হতাশা ও বিচ্ছিন্নতা তৈরি হতে পারে।

বক্তারা আরও বলেন, কার্যকর ও অংশগ্রহণমূলক গণতন্ত্রের জন্য সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অপরিহার্য। তবে বর্তমানে ভোটারদের অংশগ্রহণ কমে যাওয়ার প্রবণতা গণতন্ত্রের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। নাগরিকদের ভোটাধিকার সুরক্ষা এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে না পারলে কোনো সংস্কারই টেকসই হবে না।

নির্বাচন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে বক্তারা বলেন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে শুধু তদারকি নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি ও কার্যকর নীতি গ্রহণ করতে হবে। জীবনযাত্রার ব্যয়ের ভারে ন্যুব্জ মানুষকে স্বস্তি দেওয়া এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করা এখন সময়ের দাবি বলে মনে করেন তারা।

জনপ্রিয়

পেশাদারিত্বের বিষয়ে সাংবাদিকদের আপসহীন হতে হবে: তথ্য উপদেষ্টা

দ্রব্যমূল্য ও নির্বাচন নিয়ে জনমনে শঙ্কা, আস্থা ফেরানোর তাগিদ

প্রকাশের সময় : ০৩:৪৯:৫০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

দেশের বিদ্যমান রাজনৈতিক বাস্তবতা, নির্বাচন ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা এবং লাগামহীন দ্রব্যমূল্যের চাপে পিষ্ট সাধারণ মানুষের ভাবনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ভোটারদের মধ্যে আস্থা ফেরানোর তাগিদ দিয়েছেন বিশিষ্টজনরা।

তারা বলেছেন, ভোটারদের আস্থা পুনর্গঠন এবং জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে দেশের গণতন্ত্রের সংকট আরও ঘনীভূত হবে।

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা পাবলিক ইন্টেগ্রিটি নেটওয়ার্ক (পাইনেট) আয়োজিত ‘দ্রব্যমূল্য ও ভোটার ভাবনা’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা এসব কথা বলেন।

গোলটেবিল বৈঠকে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এইচএম মোশাররফ হোসেন।

সভায় আরও বক্তৃতা করেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ড. শিব্বির আহমেদ, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দিদারুল ভূঁইয়া, সাবেক সচিব সালেহা আফরোজ, বিআইজিএমর সহযোগী অধ্যাপক ড. জোবায়ের আহমেদ এবং অপরাজিতা বিডির সম্পাদক আকলিমা ফেরদৌসী, বাসদের কেন্দ্রীয় নেতা রাজেকুজ্জামান রতন, ক্যাব প্রতিনিধি মোহা. শওকত আলী খান, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আব্দুল লতিফ মাসুম প্রমুখ।‌

আলোচনায় বক্তারা বলেন, বর্তমান সময়ে ভোটারদের একটি বড় অংশ রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির চেয়ে বাস্তব জীবনের সংকটগুলোকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। বিশেষ করে নিত্যপণ্যের আকাশচুম্বী দাম, কর্মসংস্থান ও আয়ের সঙ্গে ব্যয়ের ভারসাম্যহীনতা মানুষকে রাজনীতিবিমুখ করে তুলছে। এসব সমস্যার সমাধান না হলে ভোটারদের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি হতাশা ও বিচ্ছিন্নতা তৈরি হতে পারে।

বক্তারা আরও বলেন, কার্যকর ও অংশগ্রহণমূলক গণতন্ত্রের জন্য সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অপরিহার্য। তবে বর্তমানে ভোটারদের অংশগ্রহণ কমে যাওয়ার প্রবণতা গণতন্ত্রের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। নাগরিকদের ভোটাধিকার সুরক্ষা এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে না পারলে কোনো সংস্কারই টেকসই হবে না।

নির্বাচন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে বক্তারা বলেন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে শুধু তদারকি নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি ও কার্যকর নীতি গ্রহণ করতে হবে। জীবনযাত্রার ব্যয়ের ভারে ন্যুব্জ মানুষকে স্বস্তি দেওয়া এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করা এখন সময়ের দাবি বলে মনে করেন তারা।