শুক্রবার, ০৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নির্বাচনি পরিবেশ সহিংস, মানবাধিকার পরিস্থিতি হতাশাজনক

অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে ১৭ মাসের অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে মানবাধিকার পরিস্থিতি হতাশাজনক বলে মনে করে মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ সংস্থা হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস)। সংস্থাটির মতে, বর্তমান সরকারের কাছে পরিস্থিতির সার্বিক উন্নয়নের প্রত্যাশা থাকলেও মানবাধিকার লঙ্ঘণের পূর্বের ধারার সঙ্গে নতুন কিছু ধারা যুক্ত হয়েছে।

গত ১৭ মাসে রাজনৈতিক সংঘাতে দেশে ১৯৫ জন প্রাণ হারিয়েছেন। অন্যদিকে এই একই সময়ে সারা দেশে ৪১৩টি গণপিটুনি বা মব সন্ত্রাসের ঘটনা ঘটেছে। এতে নিহত হয়েছেন অন্তত ২৫৯ জন। মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির (এইচআরএসএস) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়।

বুধবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের আবদুস সালাম হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ‘জুলাই অভ্যুত্থান-পরবর্তী মানবাধিকার পরিস্থিতি ও প্রাক-নির্বাচনি সহিংসতা’ শীর্ষক প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন এইচআরএসএসের চেয়ারম্যান ইজাজুল ইসলাম। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত ১৫টি জাতীয় দৈনিক ও নিজস্ব উপায়ে সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৭ মাসে দলীয় আধিপত্য বিস্তার, প্রতিশোধপরায়ণতা এবং নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এক হাজার ৪১১টি সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এতে প্রাণ হারিয়েছেন ১৯৫ জন এবং আহত হয়েছেন ১১ হাজার ২২৯ জন। নিহতদের মধ্যে বিএনপির ১৩৪ জন, আওয়ামী লীগের ২৬ জন, জামায়াতের ৫ জন এবং ইউপিডিএফের ৬ জন রয়েছেন। এছাড়া আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে সংঘাতের ঘটনায় আরও ৭ জন নিহত হয়েছেন।

মব ভায়োলেন্স ও বিচারবহির্ভূত হত্যার কথা উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশে আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে মব ভায়োলেন্স বা গণপিটুনি। এইচআরএসএস বলছে, পুলিশের দায়িত্ব পালনে অনীহা ও ভীতি এই পরিস্থিতির অবনতি ঘটিয়েছে। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে ও কথিত বন্দুকযুদ্ধে ৬০ জন এবং কারাগারে অসুস্থতা বা নির্যাতনে ১২৭ জন বন্দি মারা গেছেন বলে উল্লেখ করা হয়।

গণমাধ্যমের ওপর চড়াও হওয়ার চিত্রও প্রতিবেদনে ফুটে উঠেছে। গত ১৭ মাসে ৪২৭টি ঘটনায় ৮৩৪ জন সাংবাদিক নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হয়েছেন, যার মধ্যে প্রাণ হারিয়েছেন ৬ জন। বিতর্কিত সাইবার নিরাপত্তা আইন ও সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশে ৪১টি মামলায় ৩৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

নারী ও শিশু নির্যাতন : মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন দেখা গেছে নারী ও শিশুদের ক্ষেত্রেও। এই সময়ে ২ হাজার ৬১৭ নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে ১ হাজার ১৬ জন ধর্ষণের শিকার হন, যার অর্ধেকের বেশিই (৫৫০ জন) শিশু।

এছাড়া ১ হাজার ৮০২ শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছে, যাদের মধ্যে প্রাণ হারিয়েছেন ৪৭৮ জন। সীমান্তে বিএসএফের গুলি ও নির্যাতনে ৪৩ জন বাংলাদেশি নিহত এবং ৩ হাজার ৫০৯ জনকে পুশইন করা হয়েছে। মিয়ানমার সীমান্তে আরাকান আর্মির হামলায় নিহত হয়েছেন ৩ জন। এদিকে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর ৫৬টি হামলার ঘটনায় মন্দির ও বসতবাড়ি ভাঙচুর এবং মাজারে হামলার চিত্র উঠে এসেছে প্রতিবেদনে।

জনপ্রিয়

রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে সামনে অনশনে গণঅধিকারের প্রার্থী

নির্বাচনি পরিবেশ সহিংস, মানবাধিকার পরিস্থিতি হতাশাজনক

প্রকাশের সময় : ০৪:০৬:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে ১৭ মাসের অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে মানবাধিকার পরিস্থিতি হতাশাজনক বলে মনে করে মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ সংস্থা হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস)। সংস্থাটির মতে, বর্তমান সরকারের কাছে পরিস্থিতির সার্বিক উন্নয়নের প্রত্যাশা থাকলেও মানবাধিকার লঙ্ঘণের পূর্বের ধারার সঙ্গে নতুন কিছু ধারা যুক্ত হয়েছে।

গত ১৭ মাসে রাজনৈতিক সংঘাতে দেশে ১৯৫ জন প্রাণ হারিয়েছেন। অন্যদিকে এই একই সময়ে সারা দেশে ৪১৩টি গণপিটুনি বা মব সন্ত্রাসের ঘটনা ঘটেছে। এতে নিহত হয়েছেন অন্তত ২৫৯ জন। মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির (এইচআরএসএস) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়।

বুধবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের আবদুস সালাম হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ‘জুলাই অভ্যুত্থান-পরবর্তী মানবাধিকার পরিস্থিতি ও প্রাক-নির্বাচনি সহিংসতা’ শীর্ষক প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন এইচআরএসএসের চেয়ারম্যান ইজাজুল ইসলাম। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত ১৫টি জাতীয় দৈনিক ও নিজস্ব উপায়ে সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৭ মাসে দলীয় আধিপত্য বিস্তার, প্রতিশোধপরায়ণতা এবং নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এক হাজার ৪১১টি সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এতে প্রাণ হারিয়েছেন ১৯৫ জন এবং আহত হয়েছেন ১১ হাজার ২২৯ জন। নিহতদের মধ্যে বিএনপির ১৩৪ জন, আওয়ামী লীগের ২৬ জন, জামায়াতের ৫ জন এবং ইউপিডিএফের ৬ জন রয়েছেন। এছাড়া আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে সংঘাতের ঘটনায় আরও ৭ জন নিহত হয়েছেন।

মব ভায়োলেন্স ও বিচারবহির্ভূত হত্যার কথা উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশে আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে মব ভায়োলেন্স বা গণপিটুনি। এইচআরএসএস বলছে, পুলিশের দায়িত্ব পালনে অনীহা ও ভীতি এই পরিস্থিতির অবনতি ঘটিয়েছে। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে ও কথিত বন্দুকযুদ্ধে ৬০ জন এবং কারাগারে অসুস্থতা বা নির্যাতনে ১২৭ জন বন্দি মারা গেছেন বলে উল্লেখ করা হয়।

গণমাধ্যমের ওপর চড়াও হওয়ার চিত্রও প্রতিবেদনে ফুটে উঠেছে। গত ১৭ মাসে ৪২৭টি ঘটনায় ৮৩৪ জন সাংবাদিক নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হয়েছেন, যার মধ্যে প্রাণ হারিয়েছেন ৬ জন। বিতর্কিত সাইবার নিরাপত্তা আইন ও সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশে ৪১টি মামলায় ৩৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

নারী ও শিশু নির্যাতন : মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন দেখা গেছে নারী ও শিশুদের ক্ষেত্রেও। এই সময়ে ২ হাজার ৬১৭ নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে ১ হাজার ১৬ জন ধর্ষণের শিকার হন, যার অর্ধেকের বেশিই (৫৫০ জন) শিশু।

এছাড়া ১ হাজার ৮০২ শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছে, যাদের মধ্যে প্রাণ হারিয়েছেন ৪৭৮ জন। সীমান্তে বিএসএফের গুলি ও নির্যাতনে ৪৩ জন বাংলাদেশি নিহত এবং ৩ হাজার ৫০৯ জনকে পুশইন করা হয়েছে। মিয়ানমার সীমান্তে আরাকান আর্মির হামলায় নিহত হয়েছেন ৩ জন। এদিকে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর ৫৬টি হামলার ঘটনায় মন্দির ও বসতবাড়ি ভাঙচুর এবং মাজারে হামলার চিত্র উঠে এসেছে প্রতিবেদনে।