
ক্ষেতলাল, কালাই ও আক্কেলপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত জয়পুরহাট-২ সংসদীয় আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক উত্তাপ চরমে পৌঁছেছে। দীর্ঘদিন পর অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় এই আসনে ভোটারদের মধ্যে বাড়ছে আগ্রহ, আর মাঠে সক্রিয় হয়ে উঠেছে রাজনৈতিক দলগুলো।
কৃষিনির্ভর এই আসনটি আলু, ধান ও সোনালী মুরগি উৎপাদনে জেলার শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে। অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় জাতীয় রাজনীতিতেও এ আসনের ফলাফল বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।
এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৫১ হাজার ৫৭২ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৭৪ হাজার ১৭৭ জন, নারী ভোটার ১ লাখ ৭৭ হাজার ৩৯৩ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ২ জন। ভোটার তালিকায় নারী ভোটারের সংখ্যা বেশি হওয়ায় নির্বাচনী প্রচারণায় নারী ভোটারদের মন জয়ের দিকে বিশেষ নজর দিচ্ছেন প্রার্থীরা।
জয়পুরহাট-২ আসনে রয়েছে ৩টি পৌরসভা ও ১৫টি ইউনিয়ন। মোট ১০৪টি ভোটকেন্দ্রে ৭৯০টি ভোটকক্ষ প্রস্তুত করা হয়েছে। এর মধ্যে ৬৭৫টি স্থায়ী ও ৩৫টি অস্থায়ী ভোটকক্ষ রয়েছে।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ভ্রাম্যমাণ আদালত প্রস্তুত থাকবে।
নির্বাচনী ইতিহাস পর্যালোচনায় দেখা যায়, ১৯৯১ সাল থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত টানা পাঁচটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি এই আসনে একক আধিপত্য বজায় রেখেছিল। তবে ২০১৪ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার পর রাজনৈতিক ভারসাম্যে বড় পরিবর্তন আসে। দীর্ঘ সময় ধরে ক্ষমতাসীন দলের একচ্ছত্র প্রভাবের কারণে বিএনপি সাংগঠনিকভাবে কোণঠাসা থাকলেও সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দলটি আবার মাঠে সক্রিয় হয়ে উঠেছে।
এবারের নির্বাচনে জয়পুরহাট-২ আসনে ত্রিমুখী লড়াই হলেও মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে উঠেছে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে। বিএনপির দলীয় প্রার্থী আব্দুল বারী, জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী এস এম রাশেদুল আলম এবং আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির প্রার্থী এস এ জাহিদ ভোটের মাঠে রয়েছেন। তবে ইতিমধ্যে এসএ জাহিদ ‘১০ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য’ জোটের সিদ্ধান্তে জামায়াত প্রার্থীকে সমর্থন দিয়েছেন।
বিএনপি প্রার্থী আব্দুল বারী বলেন, “দীর্ঘদিন ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত মানুষ এবার ভোট দিতে মুখিয়ে আছে। মাঠপর্যায়ে ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। জনগণের সমর্থন পেলে এলাকার উন্নয়ন ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করব।”
অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী এস এম রাশেদুল আলম বলেন, “তৃণমূলের মানুষ পরিবর্তন চায়। তারা বৈষম্যহীন, ফ্যাসিবাদমুক্ত ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা দেখতে চায়।” তিনি নারীদের অধিকার নিশ্চিতকরণ, যুব সমাজের কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়ন এবং এলাকার অবকাঠামোগত উন্নয়নে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেন।
স্থানীয় ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কর্মসংস্থান, কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন এই বিষয়গুলো এবারের নির্বাচনে প্রধান ইস্যু হয়ে উঠেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন পর প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন হলে জয়পুরহাট-২ আসনের ফলাফল জেলার সামগ্রিক রাজনীতিতে নতুন দিকনির্দেশনা দিতে পারে।
শেষ পর্যন্ত ভোটারদের রায়ই নির্ধারণ করবে জয়পুরহাট-২ আসনের নেতৃত্ব কার হাতে যাবে।
ক্ষেতলাল (জয়পুরহাট) প্রতিনিধি: 






































