মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৮ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

প্রচারণা শেষে বাবা-মায়ের কবর জিয়ারত করে ঘরে ফিরলেন তারেক রহমান

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দীর্ঘ ১৯ দিনের টানা প্রচারণা শেষ করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ঘরে ফেরার আগে তিনি বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করেন।

সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের জিয়া উদ্যানে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে কবরের পাশে দাঁড়িয়ে দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেন তিনি।

এর আগে একই দিনে ঢাকার আটটি স্থানে নির্বাচনি জনসভায় বক্তব্য দেন তারেক রহমান। নির্বাচন কমিশনের তফশিল অনুযায়ী ২২ জানুয়ারি শুরু হওয়া প্রচারণায় তিনি বিভাগীয় শহর থেকে প্রত্যন্ত অঞ্চলে মোট ৪৩টি জনসভা ও পথসভায় অংশ নেন। প্রতিটি সভায় ধানের শীষে ভোট চাওয়ার পাশাপাশি তুলে ধরেন বিএনপির রাষ্ট্রচিন্তা, উন্নয়ন পরিকল্পনা ও রাজনৈতিক অঙ্গীকার।

প্রচারণার শুরু সিলেট থেকে। ২১ জানুয়ারি রাতে সেখানে পৌঁছে হজরত শাহজালাল (রহ.) ও শাহপরান (রহ.)-এর মাজার জিয়ারতের মধ্য দিয়ে মাঠে নামেন তিনি। পরদিন তরুণদের সঙ্গে ‘দ্য প্ল্যান: ইয়ুথ পলিসি টক’ এবং আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে প্রথম জনসভায় বিএনপি ক্ষমতায় এলে মহানবী (সা.)-এর আদর্শে দেশ পরিচালনা ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের কাজ দ্রুত শেষ করার ঘোষণা দেন।

পরবর্তী দিনগুলোতে মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কিশোরগঞ্জ, নরসিংদী ও নারায়ণগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলায় জনসভা করেন। ঢাকা-১৭ আসনে ভাষানটেক বিআরবি মাঠে সমাবেশের পর চট্টগ্রামের পলোগ্রাউন্ডে দেন কড়া রাজনৈতিক বার্তা—দুর্নীতি দমন, আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ ও খাল খনন কর্মসূচির ঘোষণা।

ঢাকায় ফেরার পথে ফেনী, কুমিল্লা ও নারায়ণগঞ্জে সভা করেন তিনি। এরপর ময়মনসিংহ, গাজীপুর, উত্তরা হয়ে রাজশাহী, নওগাঁ ও বগুড়ায় জনসভা। দীর্ঘদিন পর বগুড়ায় পৈতৃক ভিটায় রাত কাটানোয় সফরটি ছিল আবেগঘন।

রংপুরে জুলাই বিপ্লবের শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত ও পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তারেক রহমান। সিরাজগঞ্জ ও টাঙ্গাইল হয়ে যান খুলনা ও যশোরে। বরিশালে হেলিকপ্টারে যাত্রা, ফরিদপুরে বিভাগ ঘোষণার প্রতিশ্রুতি এবং পদ্মা ব্যারেজের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

এছাড়া ঠাকুরগাঁওয়ে বিমানবন্দর, মেডিকেল কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও ক্যাডেট কলেজ স্থাপন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন এবং ঢাকায় ৪০টি খেলার মাঠ, প্রশস্ত সড়ক ও নিরাপদ নগর গড়ার অঙ্গীকার করেন বিএনপি চেয়ারম্যান। প্রতিটি জনসভায় বক্তব্যের শেষ ছিল একই আহ্বান—‘সবার আগে বাংলাদেশ’।

৮ ও ৯ ফেব্রুয়ারি ঢাকার ১৫টি আসনে একের পর এক জনসভা শেষে বনানীর কামাল আতাতুর্ক এভিনিউ মাঠে প্রচারণার পর্ব শেষ হয়। যে প্রচারণা শুরু হয়েছিল হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারতের মাধ্যমে, তার সমাপ্তি হলো বাবা-মায়ের কবর জিয়ারত করে ঘরে ফেরা দিয়ে।

জনপ্রিয়

টাকা দিয়ে ভোট কেনা জামায়াতের রাজনৈতিক দেউলিয়াত্ব ও আচরণবিধির লঙ্ঘন: মাহদী আমিন

প্রচারণা শেষে বাবা-মায়ের কবর জিয়ারত করে ঘরে ফিরলেন তারেক রহমান

প্রকাশের সময় : ০৪:৫৯:১২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দীর্ঘ ১৯ দিনের টানা প্রচারণা শেষ করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ঘরে ফেরার আগে তিনি বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করেন।

সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের জিয়া উদ্যানে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে কবরের পাশে দাঁড়িয়ে দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেন তিনি।

এর আগে একই দিনে ঢাকার আটটি স্থানে নির্বাচনি জনসভায় বক্তব্য দেন তারেক রহমান। নির্বাচন কমিশনের তফশিল অনুযায়ী ২২ জানুয়ারি শুরু হওয়া প্রচারণায় তিনি বিভাগীয় শহর থেকে প্রত্যন্ত অঞ্চলে মোট ৪৩টি জনসভা ও পথসভায় অংশ নেন। প্রতিটি সভায় ধানের শীষে ভোট চাওয়ার পাশাপাশি তুলে ধরেন বিএনপির রাষ্ট্রচিন্তা, উন্নয়ন পরিকল্পনা ও রাজনৈতিক অঙ্গীকার।

প্রচারণার শুরু সিলেট থেকে। ২১ জানুয়ারি রাতে সেখানে পৌঁছে হজরত শাহজালাল (রহ.) ও শাহপরান (রহ.)-এর মাজার জিয়ারতের মধ্য দিয়ে মাঠে নামেন তিনি। পরদিন তরুণদের সঙ্গে ‘দ্য প্ল্যান: ইয়ুথ পলিসি টক’ এবং আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে প্রথম জনসভায় বিএনপি ক্ষমতায় এলে মহানবী (সা.)-এর আদর্শে দেশ পরিচালনা ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের কাজ দ্রুত শেষ করার ঘোষণা দেন।

পরবর্তী দিনগুলোতে মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কিশোরগঞ্জ, নরসিংদী ও নারায়ণগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলায় জনসভা করেন। ঢাকা-১৭ আসনে ভাষানটেক বিআরবি মাঠে সমাবেশের পর চট্টগ্রামের পলোগ্রাউন্ডে দেন কড়া রাজনৈতিক বার্তা—দুর্নীতি দমন, আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ ও খাল খনন কর্মসূচির ঘোষণা।

ঢাকায় ফেরার পথে ফেনী, কুমিল্লা ও নারায়ণগঞ্জে সভা করেন তিনি। এরপর ময়মনসিংহ, গাজীপুর, উত্তরা হয়ে রাজশাহী, নওগাঁ ও বগুড়ায় জনসভা। দীর্ঘদিন পর বগুড়ায় পৈতৃক ভিটায় রাত কাটানোয় সফরটি ছিল আবেগঘন।

রংপুরে জুলাই বিপ্লবের শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত ও পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তারেক রহমান। সিরাজগঞ্জ ও টাঙ্গাইল হয়ে যান খুলনা ও যশোরে। বরিশালে হেলিকপ্টারে যাত্রা, ফরিদপুরে বিভাগ ঘোষণার প্রতিশ্রুতি এবং পদ্মা ব্যারেজের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

এছাড়া ঠাকুরগাঁওয়ে বিমানবন্দর, মেডিকেল কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও ক্যাডেট কলেজ স্থাপন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন এবং ঢাকায় ৪০টি খেলার মাঠ, প্রশস্ত সড়ক ও নিরাপদ নগর গড়ার অঙ্গীকার করেন বিএনপি চেয়ারম্যান। প্রতিটি জনসভায় বক্তব্যের শেষ ছিল একই আহ্বান—‘সবার আগে বাংলাদেশ’।

৮ ও ৯ ফেব্রুয়ারি ঢাকার ১৫টি আসনে একের পর এক জনসভা শেষে বনানীর কামাল আতাতুর্ক এভিনিউ মাঠে প্রচারণার পর্ব শেষ হয়। যে প্রচারণা শুরু হয়েছিল হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারতের মাধ্যমে, তার সমাপ্তি হলো বাবা-মায়ের কবর জিয়ারত করে ঘরে ফেরা দিয়ে।