রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সবার আগে বাংলাদেশ, তারেক রহমানেই দেশের ভরসা

  • ঢাকা ব্যূরো।।
  • প্রকাশের সময় : ০৮:১৩:১৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৪৬

বিএনপির দীর্ঘদিনের ফ্যাসিবাদীবিরোধী লড়াই-সংগ্রামের পটভূমিতেই সংঘটিত হয়েছিল ২০২৪’র ৫ আগস্টের ঐতিহাসিক ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান। নেপথ্যে থেকেই সেই অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ফ্যাসিস্ট হাসিনা যখন রাজপথে হত্যাকা-ে মেতে উঠেছিল; তখন ৮ হাজার মাইল দূর থেকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন তিনি। আন্দোলনের গতি প্রকৃতির খোঁজখবর নিতেন ঘণ্টায় ঘণ্টায় এবং দিকনির্দেশনা দিতেন এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা করতেন। শুধু অভ্যুত্থানে নেতৃত্বই নয়, অভ্যুত্থান পরবর্তী দেশের ভেঙে পড়া আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নেতাকর্মীদের পাড়া-মহল্লায় পাহারা বসানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন। সেই গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের মানুষ যে পরিবর্তনের রাজনৈতিক ধারা ও নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলেন, দেশের মানুষের সামনে সেই পরিবর্তনের বার্তা ও পরিকল্পনাও তুলে ধরেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান। আর দীর্ঘ ১৭ বছর পর গত ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরে তিনি কোটি কোটি মানুষের যে ভালোবাসায় সিক্ত হয়েছেন তাতেই বুঝে গেছে তাকে ঘিরেই নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখছে দেশের মানুষ। তিনিও দেশের মানুষকে হতাশ করেননি, গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানের মঞ্চে প্রথম ভাষণেই হিংসা-বিদ্বেষ, প্রতিহিংসা-প্রতিশোধের পরিবর্তে ঐক্যের বার্তা, দেশ গঠনে সকলের অংশগ্রহণ ও ভূমিকা, শিশু-কিশোর, তরুণ, যুবক, বৃদ্ধ সকলের জন্য পৃথক ভাবনা। আর সবচেয়ে আকর্ষণীয় ছিল ‘আই হ্যাভ এ প্লান’। দেশের মানুষও দেখতে পেয়েছিল ‘নতুন’ তারেক রহমানকে। সেই থেকেই তিনি দেশের মানুষের আশা-ভরসার প্রতীক রূপে আবির্ভূত হয়েছেন। আর ৩০ ডিসেম্বর সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর তিনিই হয়ে উঠেন অপ্রতিদ্বন্দ্বী নেতা হিসেবে। শুধু দেশের মানুষই নয়, তার নিজ দল বিএনপির যারা এমপি প্রার্থী হয়েছিলেন তাদের বেশিরভাগই বিজয়ী হতে তাকিয়ে ছিলেন তারেক রহমানের দিকে। তিনিও নির্বাচনী প্রচারণা শুরুর পর চষে বেড়িয়েছেন সারা দেশে। প্রচারণাকালে সভা-সমাবেশে, পথে-ঘাটে দেখেছেন তার প্রতি সাধারণ মানুষের বাধভাঙা উচ্ছ্বাস, ভালোবাসা। তিনিও মানুষের সঙ্গে মিশে গেছেন ভাই-বন্ধুর মতো করে।

১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি যে ভূমিধস বিজয় হয়েছে তাও তারেক রহমানের ম্যাজিকেই হয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন,বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জনপ্রিয়তা যে উচ্চতায় উঠেছেন, তারেক রহমান তাদের ছায়া থেকে শুরু করলেও ইতোমধ্যে নিজেকে মেলে ধরতে পেরেছেন। তার প্রাথমিক চ্যালেঞ্জ ছিল বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর দলকে নেতৃত্ব দেয়া এবং একইসঙ্গে একটি নির্বাচনে দলকে বিজয়ী করা। সেই চ্যালেঞ্জে তিনি খুব ভালোভাবেই উতরে গেছেন। তবে এখন তার সামনে চ্যালেঞ্জ হচ্ছে সরকার প্রধান হিসেবে ভেঙে পড়া অর্থনীতি চাঙ্গা করা, দেশের মানুষ যে বুকভরা আশা নিয়ে তার দিকে তাকিয়ে আছে তাদের সেই আশা পূরণ করা। তিনি যদি এটি করতে সক্ষম হন তাহলে জনপ্রিয়তায় হয়তো আরো অনেক উচ্চতায় নিজেকে নিয়ে যেতে পারবেন তারেক রহমান।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসন পেয়ে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বিএনপি। এবারের নির্বাচনের মধ্য দিয়ে প্রায় দুই যুগ পর সরকার গঠন করতে যাচ্ছে দলটি। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন। দলটি এ ঘোষণা আগেই দিয়েছে। তারেক রহমানের এই বিজয়ে ইতোমধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন দেশও ইতোমধ্যে তাকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন, তার সঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। একইভাবে তারেক রহমান ও তার দল বিজয়ী হওয়ার পর আগামী দিনের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দিকেই তাকিয়ে আছেন দেশের মানুষ। তার হাত ধরেই বাংলাদেশের ভেঙে পড়া অর্থনীতি পুনরুদ্ধার, বেকার সমস্যার সমাধান, দুর্নীতি দমন, বৈষম্য নিরসনসহ নতুন বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা দেখতে চান তারা।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির জয়ের বিষয়ে দলটির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র মাহদী আমিন বলেন, আমরা বিশ্বাস করি, জনগণের যে আস্থা, বিশ্বাস ও ভালোবাসা আমাদের নেতা তারেক রহমান পেয়েছেন, তিনি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রত্যেক মানুষের অধিকার ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করবেন। বিএনপির সরকার একটি ‘জনকল্যাণমূলক সরকার’ হবে।

বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, এবারের নির্বাচনে সাধারণ মানুষের কাছে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান ‘ম্যাজিক’ই কাজ করেছে। তিনি দেশে ফেরার পর দেশ গঠনে একে একে যেভাবে তাঁর নিজের পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন তাতে সাধারণ মানুষ আকৃষ্ট হয়েছে। একইসঙ্গে রাজনৈতিক শিষ্টাচার, কথা-বার্তা, চলাফেরায় রাজনীতির চিরায়ত সংস্কৃৃতি ভেঙে তুলে ধরেছেন পরিবর্তনের নতুন বার্তা। এজন্য দেশের মানুষের কাছে তিনিই এখন ভরসাস্থল। তার মাধ্যমেই নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন বাস্তবায়নের স্বপ্নও দেখছেন তারা।

প্রথমবারের ইশতেহারেই চমক : ৩০ ডিসেম্বর বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর দলের দায়িত্ব নিয়ে এবারই প্রথমবারের মতো নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ঘোষিত ইশতেহারেও দেখিয়েছেন চমক। অতি উৎসাহী হয়ে কিংবা কেবল প্রতিশ্রুতির জন্য প্রতিশ্রুতি ঘোষণা করে জনগণের দৃষ্টি আকর্ষণ ও সাময়িক বাহবা পাওয়ার চেষ্টা করেননি ইশতেহারে। বরং বিএনপি সরকার গঠন করলে যেসব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে সেগুলোই তুলে ধরেন দেশবাসীর সামনে। সেখানে যেমন নারীদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড, কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ড ও বীমার কথা তুলে ধরেছেন। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য সেবা সকলের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে স্বাস্থ্য কর্মী নিয়োগ, শিক্ষার্থীদের যুগোপযোগী কারিকুলাম, একাধিক ভাষা শিক্ষা, প্রযুক্তির শিক্ষা, কর্মসংস্থান, ‘মিড ডে মিল’, বিনামূল্যে স্কুল ড্রেসের পাশাপাশি ২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ার লক্ষ্যের কথা জানান।

একইসঙ্গে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা উল্লেখ করে বলেন, কোনো পরিকল্পনাই বাস্তবায়ন করা যাবে না যদি না দুর্নীতি দমন, আইনের শাসন ও জবাবদিহিতায় সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার না দেয়া যায়।
যুক্তরাষ্ট্রের সিরাকিউজ ইউনিভার্সিটির ভূগোলের শিক্ষক প্রফেসর ফারহানা সুলতানা বলেন, এই নির্বাচন যদি জনগণের আস্থা ফেরাতে সফল হয়, তবে তা দেশের গভীর সংকটগুলো মোকাবিলায় একটি শক্ত ভিত্তি তৈরি করবে। তার মতে, শিক্ষিত তরুণদের বেকারত্ব ও স্থবির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নতুন প্রজন্মের মধ্যে যে ক্ষোভ তৈরি করেছে, তা প্রশমনে এই পরিবর্তন জরুরি। ফারহানা সুলতানা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের মতো অস্তিত্ব রক্ষার বিষয়গুলোকে নতুন সরকারকে শাসনব্যবস্থা ও অর্থনৈতিক পরিকল্পনার অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে যুক্ত করতে হবে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, এই মুহূর্তে বাংলাদেশে সবার আগে প্রয়োজন স্থিতিশীলতা ও শান্তি, আমরা এটিকে (ভোটের ফলাফল) আমাদের বিজয় হিসেবে নয়; বরং এ দেশের সেবা করার জন্য আমাদের দলের ওপর জনগণের আস্থা হিসেবে দেখছি। তিনি বলেন, গত এক দশকে যেসব গণতান্ত্রিক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করা হয়েছে, সেগুলো আবার কার্যকর করে গড়ে তুলতে হবে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয় পাওয়া বিএনপির সরকার দেশ গড়ার ক্ষেত্রে মেধা ও প্রযুক্তিকে গুরুত্ব দেবে বলে জানিয়েছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, আইনের শাসন, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও দুর্নীতি নির্মূলে প্রাধান্য দিয়ে কাজ করবে বিএনপি। যেখানে মেধা ও প্রযুক্তিনির্ভর দেশ গড়াকে গুরুত্ব দেয়া হবে।

বিজয় মিছিলের পরিবর্তে দোয়া মোনাজাত : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২১৩টি আসনে ভূমিধস বিজয় পেয়েছে বিএনপি। ঐতিহাসিক এই বিজয়ের পর দলের চেয়ারম্যান হিসেবে তারেক রহমান খুশি হলেও পা মাটিতেই রাখছেন। রাজনৈতিক সংস্কৃতির পাশাপাশি সর্বত্রই তিনি যে পরিবর্তনের ছাপ রাখতে চান সেটির উদাহরণই দেখিয়েছেন নির্বাচনে বিপুল আসনে বিজয়ী হওয়ার পর। দল বিজয়ী হলেও তিনি ফলাফল ঘোষণার রাতেই নির্দেশনা দেন সারাদেশের কোথাও নেতাকর্মীরা যাতে কোন ধরনের বিজয় মিছিল না করেন। বরং শুক্রবার জুমার দিনে দোয়া ও মোনাজাতের মাধ্যমে বিজয়ের জন্য শুকরিয়া আদায় করতে নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান। তার নির্দেশনা অনুযায়ী গতকাল শুক্রবার দেশের সকল মসজিদে জুমার নামাজের পরে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করেছেন দেশের কোটি কোটি মানুষ। তারেক রহমানের এই নির্দেশনার ব্যাপক প্রশংসাও করেছেন সাধারণ মুসল্লীগণ। বায়তুল মোকাররমে বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেয়া দোকানদার রফিকুল ইসলাম বলেন, তারেক রহমান যেভাবে বিজয় মিছিলের পরিবর্তে দোয়ার মাধ্যমে শুকরিয়া আদায় করতে বলেছেন এটি খুব ভালো উদ্যোগ। বিজয় দান করেছেন আল্লাহ, তাই বিজয়ের জন্য তার কাছে শুকরিয়া আদায় করার মাধ্যমে তিনি একদিকে যেমন আল্লাহর সহযোগিতা পাবেন, অন্যদিকে মানুষও এটিকে ভালোভাবেই দেখছে।
মোশাররফ হোসেন নামে আরেক মুসল্লী বলেন, বিজয় মিছিল না করে দোয়ার উদ্যোগ নিয়ে বিএনপি ভালো সিদ্ধান্ত নিয়েছে। শুধু দল নয়, সাধারণ মুসল্লীরাও বিএনপির এই বিজয়ে খুশী হয়েছে এবং তাদের নেতৃত্বে বাংলাদেশ যেন সুন্দরভাবে পরিচালিত হয় সেজন্য দোয়া করেছে। সুত্র:- ইনকলিাব।

জনপ্রিয়

যশোর সীমান্তে বিপুল পরিমাণ মাদক জব্দ

সবার আগে বাংলাদেশ, তারেক রহমানেই দেশের ভরসা

প্রকাশের সময় : ০৮:১৩:১৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বিএনপির দীর্ঘদিনের ফ্যাসিবাদীবিরোধী লড়াই-সংগ্রামের পটভূমিতেই সংঘটিত হয়েছিল ২০২৪’র ৫ আগস্টের ঐতিহাসিক ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান। নেপথ্যে থেকেই সেই অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ফ্যাসিস্ট হাসিনা যখন রাজপথে হত্যাকা-ে মেতে উঠেছিল; তখন ৮ হাজার মাইল দূর থেকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন তিনি। আন্দোলনের গতি প্রকৃতির খোঁজখবর নিতেন ঘণ্টায় ঘণ্টায় এবং দিকনির্দেশনা দিতেন এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা করতেন। শুধু অভ্যুত্থানে নেতৃত্বই নয়, অভ্যুত্থান পরবর্তী দেশের ভেঙে পড়া আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নেতাকর্মীদের পাড়া-মহল্লায় পাহারা বসানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন। সেই গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের মানুষ যে পরিবর্তনের রাজনৈতিক ধারা ও নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলেন, দেশের মানুষের সামনে সেই পরিবর্তনের বার্তা ও পরিকল্পনাও তুলে ধরেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান। আর দীর্ঘ ১৭ বছর পর গত ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরে তিনি কোটি কোটি মানুষের যে ভালোবাসায় সিক্ত হয়েছেন তাতেই বুঝে গেছে তাকে ঘিরেই নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখছে দেশের মানুষ। তিনিও দেশের মানুষকে হতাশ করেননি, গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানের মঞ্চে প্রথম ভাষণেই হিংসা-বিদ্বেষ, প্রতিহিংসা-প্রতিশোধের পরিবর্তে ঐক্যের বার্তা, দেশ গঠনে সকলের অংশগ্রহণ ও ভূমিকা, শিশু-কিশোর, তরুণ, যুবক, বৃদ্ধ সকলের জন্য পৃথক ভাবনা। আর সবচেয়ে আকর্ষণীয় ছিল ‘আই হ্যাভ এ প্লান’। দেশের মানুষও দেখতে পেয়েছিল ‘নতুন’ তারেক রহমানকে। সেই থেকেই তিনি দেশের মানুষের আশা-ভরসার প্রতীক রূপে আবির্ভূত হয়েছেন। আর ৩০ ডিসেম্বর সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর তিনিই হয়ে উঠেন অপ্রতিদ্বন্দ্বী নেতা হিসেবে। শুধু দেশের মানুষই নয়, তার নিজ দল বিএনপির যারা এমপি প্রার্থী হয়েছিলেন তাদের বেশিরভাগই বিজয়ী হতে তাকিয়ে ছিলেন তারেক রহমানের দিকে। তিনিও নির্বাচনী প্রচারণা শুরুর পর চষে বেড়িয়েছেন সারা দেশে। প্রচারণাকালে সভা-সমাবেশে, পথে-ঘাটে দেখেছেন তার প্রতি সাধারণ মানুষের বাধভাঙা উচ্ছ্বাস, ভালোবাসা। তিনিও মানুষের সঙ্গে মিশে গেছেন ভাই-বন্ধুর মতো করে।

১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি যে ভূমিধস বিজয় হয়েছে তাও তারেক রহমানের ম্যাজিকেই হয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন,বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জনপ্রিয়তা যে উচ্চতায় উঠেছেন, তারেক রহমান তাদের ছায়া থেকে শুরু করলেও ইতোমধ্যে নিজেকে মেলে ধরতে পেরেছেন। তার প্রাথমিক চ্যালেঞ্জ ছিল বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর দলকে নেতৃত্ব দেয়া এবং একইসঙ্গে একটি নির্বাচনে দলকে বিজয়ী করা। সেই চ্যালেঞ্জে তিনি খুব ভালোভাবেই উতরে গেছেন। তবে এখন তার সামনে চ্যালেঞ্জ হচ্ছে সরকার প্রধান হিসেবে ভেঙে পড়া অর্থনীতি চাঙ্গা করা, দেশের মানুষ যে বুকভরা আশা নিয়ে তার দিকে তাকিয়ে আছে তাদের সেই আশা পূরণ করা। তিনি যদি এটি করতে সক্ষম হন তাহলে জনপ্রিয়তায় হয়তো আরো অনেক উচ্চতায় নিজেকে নিয়ে যেতে পারবেন তারেক রহমান।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসন পেয়ে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বিএনপি। এবারের নির্বাচনের মধ্য দিয়ে প্রায় দুই যুগ পর সরকার গঠন করতে যাচ্ছে দলটি। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন। দলটি এ ঘোষণা আগেই দিয়েছে। তারেক রহমানের এই বিজয়ে ইতোমধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন দেশও ইতোমধ্যে তাকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন, তার সঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। একইভাবে তারেক রহমান ও তার দল বিজয়ী হওয়ার পর আগামী দিনের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দিকেই তাকিয়ে আছেন দেশের মানুষ। তার হাত ধরেই বাংলাদেশের ভেঙে পড়া অর্থনীতি পুনরুদ্ধার, বেকার সমস্যার সমাধান, দুর্নীতি দমন, বৈষম্য নিরসনসহ নতুন বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা দেখতে চান তারা।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির জয়ের বিষয়ে দলটির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র মাহদী আমিন বলেন, আমরা বিশ্বাস করি, জনগণের যে আস্থা, বিশ্বাস ও ভালোবাসা আমাদের নেতা তারেক রহমান পেয়েছেন, তিনি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রত্যেক মানুষের অধিকার ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করবেন। বিএনপির সরকার একটি ‘জনকল্যাণমূলক সরকার’ হবে।

বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, এবারের নির্বাচনে সাধারণ মানুষের কাছে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান ‘ম্যাজিক’ই কাজ করেছে। তিনি দেশে ফেরার পর দেশ গঠনে একে একে যেভাবে তাঁর নিজের পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন তাতে সাধারণ মানুষ আকৃষ্ট হয়েছে। একইসঙ্গে রাজনৈতিক শিষ্টাচার, কথা-বার্তা, চলাফেরায় রাজনীতির চিরায়ত সংস্কৃৃতি ভেঙে তুলে ধরেছেন পরিবর্তনের নতুন বার্তা। এজন্য দেশের মানুষের কাছে তিনিই এখন ভরসাস্থল। তার মাধ্যমেই নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন বাস্তবায়নের স্বপ্নও দেখছেন তারা।

প্রথমবারের ইশতেহারেই চমক : ৩০ ডিসেম্বর বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর দলের দায়িত্ব নিয়ে এবারই প্রথমবারের মতো নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ঘোষিত ইশতেহারেও দেখিয়েছেন চমক। অতি উৎসাহী হয়ে কিংবা কেবল প্রতিশ্রুতির জন্য প্রতিশ্রুতি ঘোষণা করে জনগণের দৃষ্টি আকর্ষণ ও সাময়িক বাহবা পাওয়ার চেষ্টা করেননি ইশতেহারে। বরং বিএনপি সরকার গঠন করলে যেসব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে সেগুলোই তুলে ধরেন দেশবাসীর সামনে। সেখানে যেমন নারীদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড, কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ড ও বীমার কথা তুলে ধরেছেন। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য সেবা সকলের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে স্বাস্থ্য কর্মী নিয়োগ, শিক্ষার্থীদের যুগোপযোগী কারিকুলাম, একাধিক ভাষা শিক্ষা, প্রযুক্তির শিক্ষা, কর্মসংস্থান, ‘মিড ডে মিল’, বিনামূল্যে স্কুল ড্রেসের পাশাপাশি ২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ার লক্ষ্যের কথা জানান।

একইসঙ্গে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা উল্লেখ করে বলেন, কোনো পরিকল্পনাই বাস্তবায়ন করা যাবে না যদি না দুর্নীতি দমন, আইনের শাসন ও জবাবদিহিতায় সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার না দেয়া যায়।
যুক্তরাষ্ট্রের সিরাকিউজ ইউনিভার্সিটির ভূগোলের শিক্ষক প্রফেসর ফারহানা সুলতানা বলেন, এই নির্বাচন যদি জনগণের আস্থা ফেরাতে সফল হয়, তবে তা দেশের গভীর সংকটগুলো মোকাবিলায় একটি শক্ত ভিত্তি তৈরি করবে। তার মতে, শিক্ষিত তরুণদের বেকারত্ব ও স্থবির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নতুন প্রজন্মের মধ্যে যে ক্ষোভ তৈরি করেছে, তা প্রশমনে এই পরিবর্তন জরুরি। ফারহানা সুলতানা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের মতো অস্তিত্ব রক্ষার বিষয়গুলোকে নতুন সরকারকে শাসনব্যবস্থা ও অর্থনৈতিক পরিকল্পনার অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে যুক্ত করতে হবে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, এই মুহূর্তে বাংলাদেশে সবার আগে প্রয়োজন স্থিতিশীলতা ও শান্তি, আমরা এটিকে (ভোটের ফলাফল) আমাদের বিজয় হিসেবে নয়; বরং এ দেশের সেবা করার জন্য আমাদের দলের ওপর জনগণের আস্থা হিসেবে দেখছি। তিনি বলেন, গত এক দশকে যেসব গণতান্ত্রিক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করা হয়েছে, সেগুলো আবার কার্যকর করে গড়ে তুলতে হবে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয় পাওয়া বিএনপির সরকার দেশ গড়ার ক্ষেত্রে মেধা ও প্রযুক্তিকে গুরুত্ব দেবে বলে জানিয়েছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, আইনের শাসন, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও দুর্নীতি নির্মূলে প্রাধান্য দিয়ে কাজ করবে বিএনপি। যেখানে মেধা ও প্রযুক্তিনির্ভর দেশ গড়াকে গুরুত্ব দেয়া হবে।

বিজয় মিছিলের পরিবর্তে দোয়া মোনাজাত : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২১৩টি আসনে ভূমিধস বিজয় পেয়েছে বিএনপি। ঐতিহাসিক এই বিজয়ের পর দলের চেয়ারম্যান হিসেবে তারেক রহমান খুশি হলেও পা মাটিতেই রাখছেন। রাজনৈতিক সংস্কৃতির পাশাপাশি সর্বত্রই তিনি যে পরিবর্তনের ছাপ রাখতে চান সেটির উদাহরণই দেখিয়েছেন নির্বাচনে বিপুল আসনে বিজয়ী হওয়ার পর। দল বিজয়ী হলেও তিনি ফলাফল ঘোষণার রাতেই নির্দেশনা দেন সারাদেশের কোথাও নেতাকর্মীরা যাতে কোন ধরনের বিজয় মিছিল না করেন। বরং শুক্রবার জুমার দিনে দোয়া ও মোনাজাতের মাধ্যমে বিজয়ের জন্য শুকরিয়া আদায় করতে নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান। তার নির্দেশনা অনুযায়ী গতকাল শুক্রবার দেশের সকল মসজিদে জুমার নামাজের পরে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করেছেন দেশের কোটি কোটি মানুষ। তারেক রহমানের এই নির্দেশনার ব্যাপক প্রশংসাও করেছেন সাধারণ মুসল্লীগণ। বায়তুল মোকাররমে বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেয়া দোকানদার রফিকুল ইসলাম বলেন, তারেক রহমান যেভাবে বিজয় মিছিলের পরিবর্তে দোয়ার মাধ্যমে শুকরিয়া আদায় করতে বলেছেন এটি খুব ভালো উদ্যোগ। বিজয় দান করেছেন আল্লাহ, তাই বিজয়ের জন্য তার কাছে শুকরিয়া আদায় করার মাধ্যমে তিনি একদিকে যেমন আল্লাহর সহযোগিতা পাবেন, অন্যদিকে মানুষও এটিকে ভালোভাবেই দেখছে।
মোশাররফ হোসেন নামে আরেক মুসল্লী বলেন, বিজয় মিছিল না করে দোয়ার উদ্যোগ নিয়ে বিএনপি ভালো সিদ্ধান্ত নিয়েছে। শুধু দল নয়, সাধারণ মুসল্লীরাও বিএনপির এই বিজয়ে খুশী হয়েছে এবং তাদের নেতৃত্বে বাংলাদেশ যেন সুন্দরভাবে পরিচালিত হয় সেজন্য দোয়া করেছে। সুত্র:- ইনকলিাব।