
আলোচিত চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ ও সাতকানিয়া আংশিক) আসনে পরাজিত হয়েছেন জামায়াত জোটের শরিক লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদের পুত্র ছাতা প্রতীকের প্রার্থী ওমর ফারুক। ওই আসনে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী জসিম উদ্দিন। অলি আহমদ নিজে প্রার্থী না হলেও ছায়ার মতো ছেলের সাথে ছিলেন, তাকে বিজয়ী করতে ভোটারের ঘরে ঘরে গেছেন। ছেলের এই পরাজয়কে তাই স্থানীয় ভোটারেরা অলির পরাজয় বলে মনে করছেন।
তারা বলছেন, শেষ বয়সে এসে মুক্তিযোদ্ধা অলি আহমদ শুধু জামায়াত জোটে যোগ দেননি মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং তার সন্তান বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে নিয়েও নানা কটূক্তি করেছেন। ভোটারেরা বলছেন, অলি আহমদ কথায় কথায় বলেন, জিয়াউর রহমানের আগেই আমি পাকিস্তানিদের বিরুদ্ধে ‘উই রিভোল্ট’ বলেছি। তার এসব দাম্ভিকতার বিরুদ্ধে ওই আসনের ভোটারা ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ‘উই রিভোল্ট’ বলেছেন। ভোটারেরা তাকে প্রত্যাখান করেছেন। এর মধ্যদিয়ে দাম্ভিক অলির পতন হয়েছে বলেও অনেকে মন্তব্য করেছেন।
বৃহস্পতিবার রাত সোয়া ১১টার দিকে চন্দনাইশের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা বেসরকারি ফলাফল আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন। এসময় তিনি জসিম উদ্দিনকে বিজয়ী ঘোষণা করেন। পরাজিত হন তার প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপিত্যাগী এলডিপির সভাপতি অলি আহমদের ছেলে ওমর ফারুক। প্রথমে বিএনপি এবং পরে এলডিপি থেকে একাধিকবার নির্বাচিত হওয়ার কারণে চট্টগ্রাম-১৪ আসনটি অলি আহমদের নিজস্ব আসন হিসেবে পরিচিত ছিল। বিএনপির সঙ্গে বনিবনা না হওয়ায় অলি এবার তার দল নিয়ে জামায়াতের সঙ্গে ১১ দলীয় জোট করেন। এরপর থেকে তিনি জামায়াতের বিভিন্ন সভা সমাবেশ এবং তার পুত্রের নির্বাচনী সমাবেশে দেয়া বক্তব্যে বিএনপি চেয়ারম্যান শহীদ জিয়া ও মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার পুত্র তারেক রহমান, জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতা ঘোষণাসহ নানা প্রসঙ্গে বিতর্কিত বক্তব্য এবং কটূক্তি করেন। বিএনপি ও পরাজিত সরকারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে তার কিছু কিছু বক্তব্য শালীনতার সীমা ছাড়িয়ে যায়। তার এসব রাজনৈতিক শিষ্টাচার বহির্ভূত বক্তব্য নিয়ে সামাজিক মাধ্যমসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক সমালোচনা হয়। নির্বাচনী লড়াইয়ে তার পুত্রের পরাজয়ের পর চট্টগ্রাম-১৪ আসনসহ সর্বত্রই তার সে সব দাম্ভিক উক্তি নিয়ে সমালোচনার ঝড় বইছে।
চট্টগ্রাম অঞ্চলে জোট সঙ্গী জামায়াতের ভরাডুবি ছাপিয়ে মানুষের আড্ডা-জটলায়, চায়ের দোকানে অলি আহমদের ‘পতনের’ বিষয়টি বেশি আলোচিত হচ্ছে। নেটিজনেরাও নানা মন্তব্য করছেন অলি আহমদকে নিয়ে। ভোটারেরা বলছেন, নির্বাচনী প্রচারে অলি আহমদের বেশ কিছু বক্তব্য নিয়ে সমালোচনা হয়। তিনি নির্বাচনী জনসভায় জামায়াত নেতাদের পাশে রেখে বিএনপি সর্ম্পকে যেসব উক্তি করেছেন, বিশেষ করে দলের চেয়ারম্যানের শিক্ষাগতযোগ্যতা নিয়ে যে কটূক্তি করেন তা রীতিমত রাজনৈতিক শিষ্টাচারের খেলাপ। তিনি দল হিসাবে বিএনপিকে বিভিন্ন খারাপ বিশেষণে বিশেষায়িত করেন প্রতিনিয়ত। বয়োবৃদ্ধ এই নেতা পলাতক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শাড়ি-অন্তর্বাস নিয়েও অশালীন বক্তব্য দেন।
অলি আহমদ আনোয়ারায় জামায়াত প্রার্থী মাহমুদুল হাসানের এক নির্বাচনী জনসভায় আনোয়ারাবাসীকে প্যান্ট পরানো শিখিয়েছেন বলেও দম্ভোক্তি করেন। তারা ওই বক্তব্য নিয়েও আনোয়ারাসহ চট্টগ্রামে ব্যাপক সমালোচনা হয়। তিনি রাঙ্গুনিয়া আসনে জামায়াতের নির্বাচনী সভায়ও ওই আসনে বিএনপির প্রার্থী শহীদ সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর পুত্র হুম্মাম কাদের চৌধুরীকে রাঙ্গুনিয়ায় বহিরাগত হিসাবে উল্লেখ করে বক্তব্য রাখেন।
বিএনপি প্রতিষ্ঠাতাদের কয়েকজনের মধ্যে নিজেকে একজন দাবি করা এই প্রবীণ নেতার এমন সব বক্তব্য এবং কটূক্তিতে চট্টগ্রামে সমালোচনা চলছেই। স্থানীয় ভোটারেরা বলছেন, চট্টগ্রাম-১৪ আসনের মানুষ তাকে বার বার এমপি বানিয়েছে। তিনি বিএনপির ধানের শীষ নিয়ে বেশ কয়েকবার এমপি হয়েছেন। বিএনপি তাকে কয়েক দফায় মন্ত্রী বানিয়েছে। অথচ জীবনের শেষ প্রান্তে এসে তিনি জামায়াত জোটে ভিড়ে সেই বিএনপিকেই আক্রমনের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করেছেন। রাজনীতিতে সমালোচনা আর ভিন্ন মত থাকবে। এটাই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। কিন্তু তার সেই সমালোচনা শিষ্টাচার ছাড়িয়ে গেছে বলেও মনে করেন বিএনপির স্থানীয় নেতারা। তারা বলছেন, ভোটের মাধ্যমেই ভোটারেরা তার জবাব দিয়েছেন। অলি আহমদ মূলত এসব বাজে বক্তব্য দিয়ে নিজের পায়ে নিজেই কুড়াল মেরেছেন।
চট্রগ্রাম ব্যুরো।। 






































