সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৪ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

জান্নাতে অবিবাহিত নারীদের স্বামী কে হবেন?

  • ধর্ম ডেস্ক
  • প্রকাশের সময় : ০৭:৫১:১৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১০

ছবি-সংগৃহীত

আল্লাহ তাআলা জান্নাতকে বানিয়েছেন পূর্ণ সুখ, প্রশান্তি ও তৃপ্তির স্থান হিসেবে। সেখানে কোনো অপূর্ণতা থাকবে না। দুনিয়ার কষ্ট, আক্ষেপ বা বঞ্চনার কোনো ছায়াও থাকবে না। অনেক বোনের মনে প্রশ্ন জাগে, একজন মেয়ে যদি দুনিয়াতে বিবাহের আগেই মারা যায়, বিশেষ করে শৈশবে, তাহলে জান্নাতে তার অবস্থা কী হবে? তার তো কোনো স্বামী নেই। সে কী পাবে?

 এ বিষয়ে কুরআন ও হাদিসে একটি মূলনীতি স্পষ্টভাবে পাওয়া যায়। জান্নাতে প্রত্যেক মুমিন যা চাইবে তাই পাবে। আল্লাহ তাআলা বলেন, সেখানে তাদের জন্য থাকবে যা কিছু তাদের মন চাইবে এবং যা কিছু তাদের চোখ জুড়াবে। জান্নাত এমন এক স্থান, যেখানে কোনো অপূর্ণতা থাকবে না।
 
রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, জান্নাতে এমন নেয়ামত রয়েছে যা কোনো চোখ দেখেনি, কোনো কান শোনেনি এবং কোনো মানুষের হৃদয়ে কল্পনাও আসেনি। এই হাদিসটি সহিহ বুখারি এবং সহিহ মুসলিম-এ বর্ণিত হয়েছে। এতে বুঝা যায়, জান্নাতের নেয়ামত দুনিয়ার ধারণার চেয়েও অনেক ঊর্ধ্বে।
 
ফিকহ ও ফাতওয়ার কিতাবসমূহে উল্লেখ রয়েছে, যেসব মহিলারা দুনিয়াতে বিবাহ করেননি, জান্নাতে তাদেরকে পছন্দের অধিকার দেয়া হবে। তারা যাকে পছন্দ করবেন, আল্লাহ তাআলা তার সাথেই তাদের বিবাহ সম্পন্ন করে দেবেন। আর যদি তারা কাউকে পছন্দ না করেন, তবে আল্লাহ তাআলা হুরদের মধ্য থেকে উপযুক্ত সঙ্গী সৃষ্টি করে তাদের সাথে বিবাহ দিয়ে দেবেন। এ আলোচনা পাওয়া যায় ফাতাওয়া মাহমুদিয়া ১/৬৯৩-এ।
 
একইভাবে উল্লেখ আছে, যদি কোনো মেয়ে বিবাহের আগেই মৃত্যুবরণ করে, তাহলেও জান্নাতে তাকে পছন্দের সুযোগ দেয়া হবে। যদি সে কোনো মানুষকে পছন্দ করে, তবে তার সাথে বিয়ে দেয়া হবে। আর যদি কাউকে পছন্দ না করে, তবে আল্লাহ তাআলা তার জন্য বিশেষভাবে সঙ্গী সৃষ্টি করবেন। এ বক্তব্য পাওয়া যায় মাজমুআতুল ফাতাওয়া লখনভী, বাবুল জান্নাহ, ১/১০৪-এ।
 
তালাকপ্রাপ্তা নারীদের ব্যাপারেও নির্দিষ্ট কোনো সহীহ বর্ণনা নেই। তবে আলেমগণ বলেন, যদি তাদের পূর্বের স্বামী পছন্দনীয় না হয়, তাহলে তাদের ক্ষেত্রেও একই বিধান প্রযোজ্য হবে। অর্থাৎ জান্নাতে তাদের পছন্দ অনুযায়ী ব্যবস্থা করা হবে।
 
কোনো নারী যদি দুনিয়াতে অবিবাহিত অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন, তাহলে তার জন্য জান্নাতে কোনো বঞ্চনা থাকবে না। বরং তিনি পূর্ণ অধিকার ও মর্যাদাসহ এমন সঙ্গী লাভ করবেন, যা তার হৃদয়কে পরিপূর্ণ তৃপ্ত করবে। জান্নাত হলো পূর্ণতার আবাস। সেখানে কারো হৃদয়ে কোনো অপূর্ণতা, আফসোস বা কষ্ট থাকবে না। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে সেই চিরশান্তির জান্নাত নসিব করুন। আমিন। –সময় সংবাদ
জনপ্রিয়

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রমজানের চাঁদ দেখার আহ্বান সৌদি আরবের

জান্নাতে অবিবাহিত নারীদের স্বামী কে হবেন?

প্রকাশের সময় : ০৭:৫১:১৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আল্লাহ তাআলা জান্নাতকে বানিয়েছেন পূর্ণ সুখ, প্রশান্তি ও তৃপ্তির স্থান হিসেবে। সেখানে কোনো অপূর্ণতা থাকবে না। দুনিয়ার কষ্ট, আক্ষেপ বা বঞ্চনার কোনো ছায়াও থাকবে না। অনেক বোনের মনে প্রশ্ন জাগে, একজন মেয়ে যদি দুনিয়াতে বিবাহের আগেই মারা যায়, বিশেষ করে শৈশবে, তাহলে জান্নাতে তার অবস্থা কী হবে? তার তো কোনো স্বামী নেই। সে কী পাবে?

 এ বিষয়ে কুরআন ও হাদিসে একটি মূলনীতি স্পষ্টভাবে পাওয়া যায়। জান্নাতে প্রত্যেক মুমিন যা চাইবে তাই পাবে। আল্লাহ তাআলা বলেন, সেখানে তাদের জন্য থাকবে যা কিছু তাদের মন চাইবে এবং যা কিছু তাদের চোখ জুড়াবে। জান্নাত এমন এক স্থান, যেখানে কোনো অপূর্ণতা থাকবে না।
 
রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, জান্নাতে এমন নেয়ামত রয়েছে যা কোনো চোখ দেখেনি, কোনো কান শোনেনি এবং কোনো মানুষের হৃদয়ে কল্পনাও আসেনি। এই হাদিসটি সহিহ বুখারি এবং সহিহ মুসলিম-এ বর্ণিত হয়েছে। এতে বুঝা যায়, জান্নাতের নেয়ামত দুনিয়ার ধারণার চেয়েও অনেক ঊর্ধ্বে।
 
ফিকহ ও ফাতওয়ার কিতাবসমূহে উল্লেখ রয়েছে, যেসব মহিলারা দুনিয়াতে বিবাহ করেননি, জান্নাতে তাদেরকে পছন্দের অধিকার দেয়া হবে। তারা যাকে পছন্দ করবেন, আল্লাহ তাআলা তার সাথেই তাদের বিবাহ সম্পন্ন করে দেবেন। আর যদি তারা কাউকে পছন্দ না করেন, তবে আল্লাহ তাআলা হুরদের মধ্য থেকে উপযুক্ত সঙ্গী সৃষ্টি করে তাদের সাথে বিবাহ দিয়ে দেবেন। এ আলোচনা পাওয়া যায় ফাতাওয়া মাহমুদিয়া ১/৬৯৩-এ।
 
একইভাবে উল্লেখ আছে, যদি কোনো মেয়ে বিবাহের আগেই মৃত্যুবরণ করে, তাহলেও জান্নাতে তাকে পছন্দের সুযোগ দেয়া হবে। যদি সে কোনো মানুষকে পছন্দ করে, তবে তার সাথে বিয়ে দেয়া হবে। আর যদি কাউকে পছন্দ না করে, তবে আল্লাহ তাআলা তার জন্য বিশেষভাবে সঙ্গী সৃষ্টি করবেন। এ বক্তব্য পাওয়া যায় মাজমুআতুল ফাতাওয়া লখনভী, বাবুল জান্নাহ, ১/১০৪-এ।
 
তালাকপ্রাপ্তা নারীদের ব্যাপারেও নির্দিষ্ট কোনো সহীহ বর্ণনা নেই। তবে আলেমগণ বলেন, যদি তাদের পূর্বের স্বামী পছন্দনীয় না হয়, তাহলে তাদের ক্ষেত্রেও একই বিধান প্রযোজ্য হবে। অর্থাৎ জান্নাতে তাদের পছন্দ অনুযায়ী ব্যবস্থা করা হবে।
 
কোনো নারী যদি দুনিয়াতে অবিবাহিত অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন, তাহলে তার জন্য জান্নাতে কোনো বঞ্চনা থাকবে না। বরং তিনি পূর্ণ অধিকার ও মর্যাদাসহ এমন সঙ্গী লাভ করবেন, যা তার হৃদয়কে পরিপূর্ণ তৃপ্ত করবে। জান্নাত হলো পূর্ণতার আবাস। সেখানে কারো হৃদয়ে কোনো অপূর্ণতা, আফসোস বা কষ্ট থাকবে না। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে সেই চিরশান্তির জান্নাত নসিব করুন। আমিন। –সময় সংবাদ