শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৭ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

যশোরে খাস জমি দখলকে কেন্দ্র করে হামলা-ভাঙচুরের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন

  • যশোর অফিস
  • প্রকাশের সময় : ০৯:২৯:১৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১১
যশোর অফিস
যশোর সদর উপজেলার চুড়ামনকাঠি এলাকায় সরকারি খাস জমি দখলকে কেন্দ্র করে একটি পরিবারের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রেসক্লাব যশোরে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে ভুক্তভোগী পরিবার অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তাদের মামলা নিয়মিতভাবে গ্রহণ করা হচ্ছে না।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, চুড়ামনকাঠি ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম রাকা প্রায় এক বছর আগে সরকারি খাস জমি দখল করে ইটের সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করেন। ভুক্তভোগীদের দাবি, ওই জমিতে রাস্তা তৈরির অজুহাতে তাদের বসতভিটার ভেতর দিয়ে জমি নেওয়ার চেষ্টা করা হলে তারা বাধা দেন। এরপর থেকেই অভিযুক্তরা বিভিন্নভাবে হুমকি-ধামকি দিয়ে আসছিলেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১১ ফেব্রুয়ারি সকাল আনুমানিক ৮টার দিকে শাহ আলম রাকা ও তার সহযোগীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বাড়িতে প্রবেশ করে ভুক্তভোগীর মা ও বোনকে মারধর করে গুরুতর আহত করেন। এ ঘটনায় একই দিন যশোর থানায় ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে শাহ আলম রাকা, ফুরকান উদ্দিন জুয়েল, লিনতা, চাঁদ সুলতানাসহ অজ্ঞাতনামা ১৫-২০ জনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
পরবর্তীতে ১৪ ফেব্রুয়ারি সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে অভিযুক্তরা ভাড়াটে সন্ত্রাসী নিয়ে লোহার রড, হাতুড়ি, হাসুয়া ও অন্যান্য দেশীয় অস্ত্রসহ পুনরায় হামলা চালায় বলে অভিযোগ করা হয়। তারা বাড়ির প্রধান ফটক, পেছনের গেট, দেয়াল ও পিলার ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে ভাঙচুর চালায়। এ সময় গৃহকর্ত্রীকে মারধর করে একটি কক্ষে আটকে রাখা হয় বলে দাবি পরিবারের।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, হামলাকারীরা ওয়ার্ডরোব ভেঙে প্রায় ২ ভরি স্বর্ণালংকার (মূল্য আনুমানিক ৪ লাখ টাকা), নগদ ৫২ হাজার টাকা এবং ৪.৫ ভরি রুপার নুপুর (মূল্য আনুমানিক ২০ হাজার টাকা) নিয়ে যায়। এছাড়া বাড়ির একটি লোহার গেট খুলে নেওয়া হয়। সব মিলিয়ে প্রায় ৬ লাখ ৬২ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। পুলিশে খবর দিলে ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছালে অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবার আরও অভিযোগ করেন, তাদের দায়ের করা অভিযোগ নিয়মিত মামলা হিসেবে গ্রহণ করা হয়নি। উল্টো অভিযুক্তদের করা পাল্টা মামলায় তাদের পরিবারের সদস্যদের গ্রেপ্তার ও হয়রানি করা হচ্ছে। বর্তমানে ভুক্তভোগীর পিতা ও বোনের জামাতা কারাগারে রয়েছেন বলে জানানো হয়।
এ বিষয়ে দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তাদের অভিযোগটি নিয়মিত মামলা হিসেবে রুজুর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার।
সংবাদ সম্মেলনটি পাঠ করেন আব্দুস সামাদের ছেলে গোলাম রসুল।
জনপ্রিয়

যশোরে খাস জমি দখলকে কেন্দ্র করে হামলা-ভাঙচুরের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন

যশোরে খাস জমি দখলকে কেন্দ্র করে হামলা-ভাঙচুরের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন

প্রকাশের সময় : ০৯:২৯:১৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
যশোর অফিস
যশোর সদর উপজেলার চুড়ামনকাঠি এলাকায় সরকারি খাস জমি দখলকে কেন্দ্র করে একটি পরিবারের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রেসক্লাব যশোরে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে ভুক্তভোগী পরিবার অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তাদের মামলা নিয়মিতভাবে গ্রহণ করা হচ্ছে না।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, চুড়ামনকাঠি ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম রাকা প্রায় এক বছর আগে সরকারি খাস জমি দখল করে ইটের সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করেন। ভুক্তভোগীদের দাবি, ওই জমিতে রাস্তা তৈরির অজুহাতে তাদের বসতভিটার ভেতর দিয়ে জমি নেওয়ার চেষ্টা করা হলে তারা বাধা দেন। এরপর থেকেই অভিযুক্তরা বিভিন্নভাবে হুমকি-ধামকি দিয়ে আসছিলেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১১ ফেব্রুয়ারি সকাল আনুমানিক ৮টার দিকে শাহ আলম রাকা ও তার সহযোগীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বাড়িতে প্রবেশ করে ভুক্তভোগীর মা ও বোনকে মারধর করে গুরুতর আহত করেন। এ ঘটনায় একই দিন যশোর থানায় ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে শাহ আলম রাকা, ফুরকান উদ্দিন জুয়েল, লিনতা, চাঁদ সুলতানাসহ অজ্ঞাতনামা ১৫-২০ জনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
পরবর্তীতে ১৪ ফেব্রুয়ারি সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে অভিযুক্তরা ভাড়াটে সন্ত্রাসী নিয়ে লোহার রড, হাতুড়ি, হাসুয়া ও অন্যান্য দেশীয় অস্ত্রসহ পুনরায় হামলা চালায় বলে অভিযোগ করা হয়। তারা বাড়ির প্রধান ফটক, পেছনের গেট, দেয়াল ও পিলার ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে ভাঙচুর চালায়। এ সময় গৃহকর্ত্রীকে মারধর করে একটি কক্ষে আটকে রাখা হয় বলে দাবি পরিবারের।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, হামলাকারীরা ওয়ার্ডরোব ভেঙে প্রায় ২ ভরি স্বর্ণালংকার (মূল্য আনুমানিক ৪ লাখ টাকা), নগদ ৫২ হাজার টাকা এবং ৪.৫ ভরি রুপার নুপুর (মূল্য আনুমানিক ২০ হাজার টাকা) নিয়ে যায়। এছাড়া বাড়ির একটি লোহার গেট খুলে নেওয়া হয়। সব মিলিয়ে প্রায় ৬ লাখ ৬২ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। পুলিশে খবর দিলে ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছালে অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবার আরও অভিযোগ করেন, তাদের দায়ের করা অভিযোগ নিয়মিত মামলা হিসেবে গ্রহণ করা হয়নি। উল্টো অভিযুক্তদের করা পাল্টা মামলায় তাদের পরিবারের সদস্যদের গ্রেপ্তার ও হয়রানি করা হচ্ছে। বর্তমানে ভুক্তভোগীর পিতা ও বোনের জামাতা কারাগারে রয়েছেন বলে জানানো হয়।
এ বিষয়ে দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তাদের অভিযোগটি নিয়মিত মামলা হিসেবে রুজুর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার।
সংবাদ সম্মেলনটি পাঠ করেন আব্দুস সামাদের ছেলে গোলাম রসুল।