রমজানে দিনভর রোজা রাখার পর ইফতারের মুহূর্তটি এক অনন্য নেয়ামত। সারাদিনের ক্ষুধা-তৃষ্ণা শেষে যখন ইফতারের খাবার সামনে আসে, তখন মুমিনের হৃদয় কৃতজ্ঞতায় ভরে ওঠে। এ সময়টি শুধু খাবার গ্রহণের নয়– বরং দোয়া কবুলেরও বিশেষ মুহূর্ত।
অর্থ : আল্লাহর নামে (শুরু করছি); হে আল্লাহ! আমি তোমারই জন্য রোজা রেখেছি এবং তোমারই দেয়া রিজিক দ্বারা ইফতার করছি। (আবু দাউদ মুরসাল, মিশকাত)
রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অসংখ্য হাদিসে যথাসময় ইফতার করার জন্য বিশেষভাবে তাগিদ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন,
মানুষ যতদিন ইফতারের সময় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দেরি না করে ইফতার করবে; ততদিন তারা কল্যাণ লাভ করবে।
ইফতারের পর বা ইফতার করার সময় এ দোয়া পড়া– হজরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন ইফতার করার সময়ে বলতেন,
অর্থ: হে আল্লাহ! তুমি আমার রব। তুমি ছাড়া আর কোনো সত্য মাবুদ নাই। তুমি আমাকে সৃষ্টি করেছ, আমি তোমার বান্দা। আমি তোমার ওয়াদা ও অঙ্গীকারের উপর সাধ্যানুযায়ী প্রতিষ্ঠিত। আমি অনিষ্টকর যা কিছু করেছি তা থেকে তোমার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আমার উপর তোমার যে নিয়ামত আছে তার স্বীকৃতি দিচ্ছি। তোমার নিকট আমার গুনাহের স্বীকৃতি দিচ্ছি। সুতরাং তুমি আমাকে ক্ষমা করে দাও; কেননা তুমি ছাড়া আর কেউ গুনাহ ক্ষমা করতে পারে না।
ইস্তিগফার
এ সময় বেশি বেশি ইস্তিগফার পড়া যেতে পারে।
أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ (উচ্চারণ: আস্তাগ্ ফিরুল্লাহ) অর্থ: আমি আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি।
লা হাওলা
لا حَوْلَ وَلا قُوَّةَ إِلَّا بِاللهِ (উচ্চারণ: লা হাওলা ওলা ক্বুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ। অর্থ: আল্লাহর আশ্রয় ও শক্তি ছাড়া আর কারো কোনো ক্ষমতা নাই
অর্থ: হে আল্লাহ, অবশ্যই আমি তোমার নিকট কঠিন দুরাবস্থা, দুর্ভাগ্যের নাগাল, মন্দভাগ্য এবং দুশমনের হাসি থেকে রক্ষা কামনা করছি।
এ ছাড়া ইফতারের কিছু সময় আগে ইফতারি সামনে নিয়ে বসে বসে তাসবিহ-তাহলিল, তাওবাহ-ইসতেগফার, দোয়া-দরূদ পড়ার মাধ্যমে সময় অতিবাহিত করা। ইফতারের আগ মুহূর্ত থেকে ইফতার করার সময় আল্লাহ তাআলা বান্দার যে কোনো দোয়া কবুল করে নেন। –সময় সংবাদ