
দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে নিয়মিত ট্রাফিক সিগন্যাল মেনে চলাচল করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদে থেকে প্রটোকল-কড়াকড়ি শিথিল করে সড়কে সাধারণ নাগরিকের মতো চলাচল করছেন তিনি। ফলে সরকারপ্রধান রাস্তায় বের হলেও তৈরি হচ্ছে না অতিরিক্ত যানজট। নষ্ট হচ্ছে না মানুষের কর্মঘণ্টা। অপচয় হচ্ছে না জ্বালানি। পথে বিভিন্ন ট্রাফিক পয়েন্টে যানজটে আটকে থাকার সময় পথচারীরা প্রধানমন্ত্রীকে দেখে এগিয়ে এলে তাদের সঙ্গে করছেন শুভেচ্ছা বিনিময়।
এছাড়াও যথাসময়ে অফিসে পৌঁছে সবাইকে অবাক করে দিচ্ছেন নতুন প্রধানমন্ত্রী। খোঁজ নিচ্ছেন মায়ের পুরানো স্টাফদেরও। ভিভিআইপি প্রটোকলের বাইরে এসে এমন সাদামাটা জীবনযাপনে ব্যাপক প্রশংসা পাচ্ছেন নয়া সরকারপ্রধান তারেক রহমান।
শুধু তাই নয়, তিনি নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে প্রথম দিন থেকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে তারেক রহমান যেন ‘রকেটের গতিতে’ ছুটছেন। ভোটের মাঠে জনগণকে দেয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের জন্য নিরন্তর এ ছুটে চলা তার। রাত পর্যন্ত অফিস করছেন। ক্যাবিনেট মিটিংয়ের পাশাপাশি অনির্ধারিত মিটিংও করছেন তিনি।
মন্ত্রিসভার সদস্যদের দিচ্ছেন প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা। দ্রুত সময়ের মধ্যে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে চান প্রধানমন্ত্রী। এ জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্তদের জরুরি নির্দেশনা দিয়েছেন। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেয়ার পর গত দুই দিন সচিবালয়ে তার দফতরে অফিস করেছেন তারেক রহমান।
এদিকে, শিগগিরই সারাদেশে খাল খনন কর্মসূচি শুরু করবে নতুন সরকার। ১৮০ দিনের মধ্যে কর্মসূচির আওতায় বেশিরভাগ খাল খনন করা হবে। পাশাপাশি ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করার লক্ষ্যে কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে দেশের আটটি বিভাগের প্রতিটিতে একটি করে উপজেলায় এই কার্ড চালুর ব্যবস্থা করা হবে। গত বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় এই সিদ্ধান্ত হয়।
এছাড়া একই সভায় প্রতিবছর ৫ কোটি করে বৃক্ষরোপণের সিদ্ধান্ত হয়েছে। বৈঠক শেষে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু এবং পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি সাংবাদিকদের এসব সিদ্ধান্ত জানান।
খাল খনন কর্মসূচির বিষয়ে পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের খাল খনন কর্মসূচির প্রসঙ্গ টেনে বলেন, জিয়াউর রহমান এই কর্মসূচিকে একটি বিপ্লবে পরিণত করেছিলেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্বাচনের আগে থেকে বারবার উল্লেখ করেছেন, খাল পুনঃখননের মাধ্যমে মানুষ যেন সুবিধা পায়। আন্তমন্ত্রণালয় সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে স্থানীয় সরকার, পানি, দুর্যোগ ও কৃষি মন্ত্রণালয় বসে ঠিক করবে কবে নাগাদ এটি শুরু হবে। শুরু হবে খুব শিগগির। ১৮০ দিনের মধ্যে এই কাজের বেশির ভাগ করা হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
আন্তঃমন্ত্রণালয় সভার প্রসঙ্গে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু জানান, প্রতিবছর ৫ কোটি বৃক্ষরোপণ করা হবে। মে মাসে শুরু হবে কার্যক্রম। এ বছর হয়তো ৫ কোটি সম্ভব হবে না। তবে আগামী বছর এই ঘাটতি পূরণ করা হবে।
ফ্যামিলি কার্ড দিতে কমিটি
নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর লক্ষ্যে কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত করতে আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। এই বৈঠকের সিদ্ধান্তের আলোকে পরে ১৫ সদস্যের ‘ফ্যামিলি কার্ড প্রদানসংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি’ গঠন করা হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রজ্ঞাপনে এই কমিটি গঠনের কথা জানানো হয়।
অর্থমন্ত্রীকে সভাপতি করে গঠিত কমিটির সদস্যরা হলেন মহিলা ও শিশু এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী, মহিলা ও শিশু এবং সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী , উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন ও রেহান আসিফ আসাদ, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সচিব, অর্থ বিভাগের সচিব, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগের সচিব, স্থানীয় সরকার সচিব, পরিকল্পনা সচিব ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব।
এই কমিটি ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নের একটি উপযুক্ত ডিজাইন ও সুবিধাভোগী নির্বাচন পদ্ধতি প্রণয়ন করবে। কমিটির কাজের মধ্যে আরও আছে প্রাথমিক পর্যায়ে দেশের আটটি বিভাগের প্রতিটিতে একটি উপজেলায় ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর ব্যবস্থা, নারীদের জন্য বিদ্যমান অন্য কোনো কর্মসূচিকে ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করা যায় কি না পর্যালোচনা, সুবিধাভোগীদের তথ্যভান্ডার প্রণয়নের লক্ষ্যে জাতীয় পরিচয়পত্র ও জাতীয় খানার তথ্যভান্ডার আন্তযোগাযোগ স্থাপনের ডিজিটাল এমআইএস প্রণয়নের সুপারিশ এবং আসন্ন ঈদুল ফিতরের আগে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ করার লক্ষ্যে ২৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে প্রাথমিক প্রতিবেদন প্রণয়ন করা।
পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে জনসাধারণের কষ্ট লাঘবে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে রমজান মাসেই ‘ফ্যামিলি কার্ড’ প্রকল্প চালু করতে যাচ্ছে নতুন সরকার। গত বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক গুরুত্বপূর্ণ আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
বৈঠক শেষে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু সাংবাদিকদের জানান, প্রধানমন্ত্রী নিজেই চান অন্তত পাইলট প্রজেক্ট বা পরীক্ষামূলক প্রকল্প হিসেবে আসন্ন ঈদের আগেই এই কার্যক্রম শুরু করতে। নির্বাচনের আগে দেয়া ইশতেহার অনুযায়ী সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন ও নিত্যপণ্যের সরবরাহ নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
ফ্যামিলি কার্ডের আওতা ও সুবিধাভোগীদের সংখ্যা নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, এই কার্ড মূলত সার্বজনীন করার লক্ষ্য রয়েছে এবং এতে প্রাথমিক কোনো কঠোর বিধিনিষেধ থাকবে না। তবে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে যারা পর্যায়ক্রমে হতদরিদ্র, দরিদ্র এবং মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোকে এই সুবিধার আওতায় নিয়ে আসবে। মূলত মেকানিজম বা কার্যক্রমটি সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনার পদ্ধতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ড. তৌহিদুল হক বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কাজকে আমরা সাধুবাদ জানাই। কারণ, সরকারপ্রধান হিসেবে তার ট্রাফিক ব্যবস্থা এবং সাধারণ মানুষের চলাচল সরাসরি দেখার সুযোগ হচ্ছে। কিন্তু আমাদের রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা, ভূরাজনীতির প্রেক্ষাপট ও রাজনীতির নানা সমীকরণে এ প্রক্রিয়ায় চলাচলে তার কিছুটা ঝুঁকি আছে। এখানে সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের বাড়তি দৃষ্টি রাখা প্রয়োজন।
সর্বশেষ রোববার বাংলাদেশ সচিবালয়ে তৃতীয় দিনের মতো অফিস করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গুলশান থেকে সচিবালয়ে যাওয়ার পথে চারটি ট্রাফিক সিগন্যাল মেনে গন্তব্যে পৌঁছান তিনি। এর আগের দিন শনিবার সরকারি ছুটির দিনেও তিনি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রথম অফিস করেন। সেদিনও তিনি ট্রাফিক সিগন্যাল মেনে অফিসে যাতায়াত করেন।
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন গণমাধ্যমকে জানান, শনিবার সকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে যাওয়ার পথে ব্যক্তিগত গাড়িতে গুলশানের বাসভবন ত্যাগ করে। পথে চারটি সিগন্যালে লাল বাতি জ্বলে উঠলে গাড়িটি থামে এবং সকাল সোয়া ৯টায় তিনি সচিবালয়ে পৌঁছান। ট্রাফিক সিগন্যালে যখন গাড়ি দাঁড়ায় তখন পথচারীরা প্রধানমন্ত্রীকে করতালি দিয়ে স্বাগত জানান। প্রধানমন্ত্রী হাত নেড়ে তাদের শুভেচ্ছার জবাব দেন। কেউ কেউ গাড়ির কাছে এসে তাকে শুভেচ্ছা জানান। অনেকে মোবাইল ফোনে সেলফিও তোলেন।
সূত্রমতে, প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে তারেক রহমান সড়কে চলাচলে কোনো ধরনের ভিভিআইপি প্রটোকল নিচ্ছেন না। রাস্তার নিয়মিত ট্রাফিক সিগন্যাল ব্যবহার করে চলাচল করছেন তিনি। ট্রাফিক সিগন্যালে সাধারণ মানুষের মতোই দাঁড়িয়ে থাকছে তাকে বহনকারী গাড়ি। ফলে তার চলাচল ঘিরে রাজধানীর সড়কে কোনো ধরনের যানজট, সময় অপচয় ও জনভোগান্তি দেখা যায়নি। অথচ বিগত দিনে রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান এবং সরকারের প্রভাবশালী মন্ত্রীসহ রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ অতিথিদের চলাচলের জন্য সড়ক ফাঁকা রাখতেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। সরকারের নির্দেশনায় এসব গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তাদের দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য আগাম ‘ক্লিয়ারেন্স’ নিয়ে রাস্তা বন্ধ রাখতেন তারা। লম্বা সময় রাস্তা বন্ধ রাখায় সৃষ্টি হতো দীর্ঘ যানজট। ভোগান্তিতে পড়তেন সড়কে চলাচল করা সব শ্রেণি-পেশার মানুষ।
ভিভিআইপি চলাচলের সময় শুধু সড়কের ট্রাফিক সিগন্যাল নয়-ফুটপাত, ফুটওভার ব্রিজ, গুরুত্বপূর্ণ মোড়সহ আশপাশে মানুষ চলাচলও বন্ধ রাখতেন দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা। রাস্তার দুপাশে দাঁড়িয়ে দিতেন বিশেষ নিরাপত্তা। ট্রাফিকসংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রধানমন্ত্রীর চলাচলের সময় আগাম ‘ক্লিয়ারেন্স’ দিয়ে কয়েক কিলোমিটার সড়ক ফাঁকা রাখার নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে না তাদের। ফলে প্রধানমন্ত্রীর মুভমেন্টেও নির্ধারিত নিয়মে ট্রাফিক সিগন্যাল কার্যকর রাখছেন তারা। তবে নির্দেশনা পেলে বিগত সময়ের মতো রাস্তা ফাঁকা রাখবেন।
জানতে চাইলে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) জিল্লুর রহমান বলেন, রাস্তায় প্রধানমন্ত্রীর সিগন্যাল ছাড়া চলাচল অনন্য, অসাধারণ ও অবিশ্বাস্য। রাষ্ট্রের ঊর্ধ্বতনরা যদি এভাবে চলাচল করেন-তাহলে রাস্তায় চলাচল করা সব শ্রেণি-পেশার মানুষের ভোগান্তি কমে যায়।
এ বিষয়ে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম) এসএন মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ট্রাফিকের বিষয়গুলো নিয়ে আমাদের সব প্রস্তুতি ছিল। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী ট্রাফিক প্রটোকল চাইছেন না। উনি নরমাল সিগন্যালে চলতে চাচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রী চান না তার কারণে সাধারণ মানুষের অসুবিধা বা দুর্ভোগ হোক। মানে, আমরা একটা সিগন্যাল বন্ধ করে দিয়ে উনাকে পার করে দেব। রাস্তা ক্লিয়ার করব। আর শত শত মানুষ থেমে থাকবেন। এটা উনি একদমই চাচ্ছেন না। অন্য ১০ জন যেভাবে চলছেন, তিনিও সেভাবে চলতে চাচ্ছেন।
এভাবে চললে রাস্তায় নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হবে কিনা এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, এখানে নিরাপত্তা ঝুঁকি নেই।
প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে ‘সুস্বাস্থ্যের বাংলাদেশ গঠন’ বিষয়ে সভা
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে ‘সুস্বাস্থ্যের বাংলাদেশ গঠন’ বিষয়ে সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার বেলা ৩টায় সচিবালয়ে মন্ত্রীপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সভাকক্ষে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন, মন্ত্রীপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনি ও প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে, অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী সবসময় ফেসবুকে সরব থাকেন। তুলে ধরেন বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে নানা বিষয়বস্তু। এবার দেখা গেল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে তিনি ফেসবুক স্ট্যাটাস দিয়েছেন। গত শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেয়া এক স্ট্যাটাসে এসব মন্তব্য করেন তিনি।
পাঠকদের জন্য ফারুকীর স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হলো, বেশ কিছুদিন আগে একজন আমাকে একটা ছবি পাঠায়। ছবিটার অথেনটিসিটি যাচাই করার জন্য একজনকে দেই। ছবিটা ছিল ১৯৫৩ সালে প্রভাত ফেরি শেষে মোনাজাতরত মানুষের। এর মধ্যে আজকে ফাহাম আব্দুস সালামের সৌজন্যে ওই ছবিটা টীকাসহ পাইলাম। আর গতকাল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শহীদ মিনারে মোনাজাত আদায় করলেন। অনেক দিন ধরে শুনতেছিলাম, তারেক রহমান এখন আর জিয়াউর রহমানের লাইনে নাই। আমি তো দেখলাম, প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর উনি পরিষ্কার প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের পথেই হাঁটছেন। জিয়াউর রহমানের পথটা কী?
সেটা হইলো আমাদের ধর্মীয় পরিচয়-আচার-রীতি না লুকাইয়াই আমরা একটা বহু জাতি-বহু ধর্ম-বহু ভাষার মানুষের রিপাবলিক বানাইতে পারি। যেই রিপাবলিকের মানুষ শহীদ মিনারে ফুল দেয়, চাইলে মোনাজাত পড়তে পারে, আবার গাইতেও পারে ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো….’, যেই রিপাবলিক কারো হেজেমনিক পারপাস সার্ভ না কইরা আত্মপরিচয় গইড়া তুলতে পারে, যেই রিপাবলিকের মানুষেরা তার স্বাধীনতা যুদ্ধ নিয়া গৌরব করে এবং স্বাধীনতা রক্ষার প্রয়োজন হইলে চব্বিশ ঘটাইয়া দিতে পারে। কিন্তু এখন প্রশ্ন হইলো- কে বা কারা কোন সংকোচে এই মোনাজাতকে আমাদের কালেকটিভ মেমোরি থেকে মুছে দিতে চাইলো? এর পেছনের রাজনীতিটাই বাংলাদেশের অনেকগুলা সাংস্কৃতিক সংকটের একটা।
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ 







































