শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৫ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বনদস্যুদের দাবি ৭০ লাখ টাকা, এক সপ্তাহেও মুক্তি মেলেনি সাগর থেকে অপহৃত ২০ জেলের

‎সোহেল রানা বাবু ,বাগেরহাট প্রতিনিধি     
বঙ্গোপসাগর থেকে বনদস্যু বাহিনীর হাতে অপহরণের এক সপ্তাহ পার হলেও এখনো মুক্তি মেলেনি ২০ জেলের। অপহৃত এসব জেলেদের প্রতিজনের মুক্তিপণ হিসেবে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে মহাজনদের কাছে সাড়ে তিন লাখ টাকা করে ৭০ লাখ টাকা দাবি করছে বনদস্যুরা। তবে মুক্তিপণ টাকা কমবেশি নিয়ে জেলেদের মহাজন ও বনদস্যুদের মধ্যে দর কষাকষি চলছে বলে জানিয়েছে বনবিভাগ।
এদিকে দস্যু আতঙ্কে প্রায় চারদিন মাছ ধরা বন্ধ থাকার পর শনিবার সকাল থেকে সুন্দরবনের দুবলা শুঁটকি পল্লীর কিছু কিছু ট্রলার ঝুঁকি নিয়ে সাগরে যাওয়া শুরু করেছে। তবে, সুন্দরবন বিভাগ জেলেদের চর উপকূলের কাছাকাছি দূরত্বে থেকে মৎস্য আহরণ এবং সাগর থেকে দিনে দিনে ফিরে আসার নির্দেশনা দিয়েছে ।
‎সুন্দরবন বিভাগ জানায়, গত সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরার সময় ২০ টি ট্রলার থেকে সুন্দরবনের দুবলার শুঁটকি উৎপাদন কেন্দ্রের আওতাধীন আলোরকোল ও নারকেলবাড়িয়া শুঁটকি পল্লীর ওই ২০ জেলেকে অপহরণ করে দুর্ধর্ষ বন ও জলদস্যু জাহাঙ্গীর ও সুমন বাহিনী। এঘটনার পর অপহরণ আতঙ্ক আর নিরাপত্তার অভাবে সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের নিয়মিত জেলেসহ শুঁটকি উৎপাদনে নিয়োজিত জেলেরা সাগর ও বনে মাছ ধরা বন্ধ করে দেয়। এতে দেশের বৃহত্তম এই শুঁটকি উৎপাদন কেন্দ্রে ভয়াবহ মাছ সংকট দেখা দিয়েছে। অপরদিকে, মাছ ধরতে না পারায় লাখ লাখ টাকা লোকসানে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। পাশাপাশি আর্থিক সংকট দিশেহারা হয়ে পড়েছেন হাজার হাজার দরিদ্র জেলে।
‎সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের দুবলা শুঁটকি উৎপাদন কেন্দ্রের বিশেষ টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ফরেস্ট রেঞ্জার) মিল্টন রায় অপহৃত জেলেদের মহাজনদের বরাত দিয়ে জানান, গত সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরার সময় ২০ ট্রলার থেকে ২০ জেলেকে তুলে নেওয়ার পর শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) রাতে বনদস্যুদের দেওয়া মোবাইল নম্বরে কথা বলেছেন মহাজনরা। ট্রলার প্রতি তিন লাখ ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেছে তারা। বনদস্যুদের সঙ্গে কথা বলে চাঁদার পরিমান কমানোর চেষ্টা করছেন মহাজনরা। বনদস্যুরা চাঁদা পরিশোধের নির্ধারিত সময়সীমা বেধে দেয়নি। তবে দ্রুত পরিশোধ না করলে জিম্মি জেলেদের জীবনে ভয়াবহ পরিনতি এবং পরবর্তীতে সাগরে মাছ ধরতে হলে আগাম চাঁদা দিয়ে নামতে হবে বলে হুমকি দেওয়া হয়েছে মহাজনদের। চার দিন পরে শনিবার সকাল থেকে ঝুঁকি নিয়ে সাগরে নেমেছেন সুন্দরবনের দুবলা শুঁটকি পল্লীর কিছু কিছু জেলে। তাদেরকে সুন্দরবন বিভাগের পক্ষ থেকে নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান নিয়ে মাছ ধরা এবং দিনে দিনে ঘাটে ফিরে আসার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
‎সুন্দরবনের দুবলা শুঁটকি পল্লীর অপহৃত ২০ জেলেকে উদ্ধারের বিষয়ে বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেছেন, সুন্দরবন দস্যুমুক্ত করা সহ অপহৃত জেলেদের উদ্ধারে অচিরেই যৌথ অভিযান শুরু হবে। বর্তমানে সুন্দরবনে সক্রিয় ৫টি বনদস্যু বাহিনীর সদস্যদের তালিকা হালনাগাদ করা হয়েছে। চিহ্নিত বনদস্যুদের উপর বিশেষ নজরদারি শুরু হয়েছে।এবং আজ ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে যৌথবাহিনীর গ্রেপ্তার অভিযান শুরু করা করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে কোষ্টগার্ড মিডিয়া সেলের দায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মকর্তা। সুন্দরবন পুরোপুরি দস্যুমুক্ত হওয়ার আগ পর্যন্ত এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।
জনপ্রিয়

২২৮ তালেবান সদস্যকে হত্যার দাবি পাকিস্তানের

বনদস্যুদের দাবি ৭০ লাখ টাকা, এক সপ্তাহেও মুক্তি মেলেনি সাগর থেকে অপহৃত ২০ জেলের

প্রকাশের সময় : ০৪:২৪:২২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
‎সোহেল রানা বাবু ,বাগেরহাট প্রতিনিধি     
বঙ্গোপসাগর থেকে বনদস্যু বাহিনীর হাতে অপহরণের এক সপ্তাহ পার হলেও এখনো মুক্তি মেলেনি ২০ জেলের। অপহৃত এসব জেলেদের প্রতিজনের মুক্তিপণ হিসেবে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে মহাজনদের কাছে সাড়ে তিন লাখ টাকা করে ৭০ লাখ টাকা দাবি করছে বনদস্যুরা। তবে মুক্তিপণ টাকা কমবেশি নিয়ে জেলেদের মহাজন ও বনদস্যুদের মধ্যে দর কষাকষি চলছে বলে জানিয়েছে বনবিভাগ।
এদিকে দস্যু আতঙ্কে প্রায় চারদিন মাছ ধরা বন্ধ থাকার পর শনিবার সকাল থেকে সুন্দরবনের দুবলা শুঁটকি পল্লীর কিছু কিছু ট্রলার ঝুঁকি নিয়ে সাগরে যাওয়া শুরু করেছে। তবে, সুন্দরবন বিভাগ জেলেদের চর উপকূলের কাছাকাছি দূরত্বে থেকে মৎস্য আহরণ এবং সাগর থেকে দিনে দিনে ফিরে আসার নির্দেশনা দিয়েছে ।
‎সুন্দরবন বিভাগ জানায়, গত সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরার সময় ২০ টি ট্রলার থেকে সুন্দরবনের দুবলার শুঁটকি উৎপাদন কেন্দ্রের আওতাধীন আলোরকোল ও নারকেলবাড়িয়া শুঁটকি পল্লীর ওই ২০ জেলেকে অপহরণ করে দুর্ধর্ষ বন ও জলদস্যু জাহাঙ্গীর ও সুমন বাহিনী। এঘটনার পর অপহরণ আতঙ্ক আর নিরাপত্তার অভাবে সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের নিয়মিত জেলেসহ শুঁটকি উৎপাদনে নিয়োজিত জেলেরা সাগর ও বনে মাছ ধরা বন্ধ করে দেয়। এতে দেশের বৃহত্তম এই শুঁটকি উৎপাদন কেন্দ্রে ভয়াবহ মাছ সংকট দেখা দিয়েছে। অপরদিকে, মাছ ধরতে না পারায় লাখ লাখ টাকা লোকসানে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। পাশাপাশি আর্থিক সংকট দিশেহারা হয়ে পড়েছেন হাজার হাজার দরিদ্র জেলে।
‎সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের দুবলা শুঁটকি উৎপাদন কেন্দ্রের বিশেষ টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ফরেস্ট রেঞ্জার) মিল্টন রায় অপহৃত জেলেদের মহাজনদের বরাত দিয়ে জানান, গত সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরার সময় ২০ ট্রলার থেকে ২০ জেলেকে তুলে নেওয়ার পর শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) রাতে বনদস্যুদের দেওয়া মোবাইল নম্বরে কথা বলেছেন মহাজনরা। ট্রলার প্রতি তিন লাখ ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেছে তারা। বনদস্যুদের সঙ্গে কথা বলে চাঁদার পরিমান কমানোর চেষ্টা করছেন মহাজনরা। বনদস্যুরা চাঁদা পরিশোধের নির্ধারিত সময়সীমা বেধে দেয়নি। তবে দ্রুত পরিশোধ না করলে জিম্মি জেলেদের জীবনে ভয়াবহ পরিনতি এবং পরবর্তীতে সাগরে মাছ ধরতে হলে আগাম চাঁদা দিয়ে নামতে হবে বলে হুমকি দেওয়া হয়েছে মহাজনদের। চার দিন পরে শনিবার সকাল থেকে ঝুঁকি নিয়ে সাগরে নেমেছেন সুন্দরবনের দুবলা শুঁটকি পল্লীর কিছু কিছু জেলে। তাদেরকে সুন্দরবন বিভাগের পক্ষ থেকে নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান নিয়ে মাছ ধরা এবং দিনে দিনে ঘাটে ফিরে আসার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
‎সুন্দরবনের দুবলা শুঁটকি পল্লীর অপহৃত ২০ জেলেকে উদ্ধারের বিষয়ে বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেছেন, সুন্দরবন দস্যুমুক্ত করা সহ অপহৃত জেলেদের উদ্ধারে অচিরেই যৌথ অভিযান শুরু হবে। বর্তমানে সুন্দরবনে সক্রিয় ৫টি বনদস্যু বাহিনীর সদস্যদের তালিকা হালনাগাদ করা হয়েছে। চিহ্নিত বনদস্যুদের উপর বিশেষ নজরদারি শুরু হয়েছে।এবং আজ ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে যৌথবাহিনীর গ্রেপ্তার অভিযান শুরু করা করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে কোষ্টগার্ড মিডিয়া সেলের দায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মকর্তা। সুন্দরবন পুরোপুরি দস্যুমুক্ত হওয়ার আগ পর্যন্ত এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।